বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৪

সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: বিদ্যুৎ অফিসের নাগের ডগায় গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ওয়ার্কশপ

নিজস্ব প্রতিনিধি
সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: বিদ্যুৎ অফিসের নাগের ডগায় গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ওয়ার্কশপ

চাঁদপুর দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটতীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার যখন কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে, ঠিক তখনই সরকারি সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার সংলগ্ন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের একদম সন্নিকটে অবস্থিত হয়েও এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি সময়ের তোয়াক্কা না করে গভীর রাত পর্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি চালানো হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নীতি ও বাস্তবতা

​বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন লোডশেডিং কমাতে সরকার দেশব্যাপী রাত ০৭:০০ ঘটিকার মধ্যে শপিং মল, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (ওষুধ ও জরুরি সেবা ব্যতীত) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা সাময়িক ক্ষতি স্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে নতুনবাজার বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন বিজলি রোডে (ক্যাফে ঝিলের পেছনে)।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজলি রোডের বেশ কয়েকটি ওয়ার্কশপ ও কাঠের নকশাঘর রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দিব্যি খোলা থাকছে। এসব প্রতিষ্ঠানে লেদ মেশিন, গ্রাইন্ডিংওয়েল্ডিংয়ের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে।

​আশ্চর্যের বিষয় হলো: অন্যান্য সাধারণ দোকানপাট বন্ধ করতে সামান্য দেরি হলে যেখানে বিদ্যুৎ অফিস থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হয়, সেখানে অফিসের নাকের ডগায় এসব উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিন চললেও বিদ্যুৎ বিভাগ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।

​শহরের সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—শহরের বাকি সব ব্যবসায়ী আইন মানলেও কোন খুঁটির জোরে এই নির্দিষ্ট এলাকাটি নিয়মের বাইরে থাকছে? বিদ্যুৎ অফিসের একদম পাশে হয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি কেন নেই?

​বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের মহৎ উদ্যোগ সফল করতে এমন নিয়মভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। যথাযথ মনিটরিং না থাকায় জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই দ্বিমুখী নীতির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কামনা করছেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়