প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টুকিটাকি

'১৭ বছর পর ভোট দিলাম'
১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে আবেগাপ্লুত গৃহবধূ নাছিমা। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে নাছিমা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকেই বাবার মুখে নির্বাচন আর ভোটের গল্প শুনেছি। কিন্তু বয়স না হওয়ায় কখনো ভোট দিতে পারিনি। আজ ১৭ বছর পর নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, আমি দেশের একজন পূর্ণ নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলাম।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি সুন্দর, নিরাপদ বাংলাদেশ। সঠিক মানুষকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।
কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে দেখা যায় তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী ভোটারদের।রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোট শেষে হাসিমুখে নাছিমা বলেন, এই দিনটা আমি কোনোদিন ভুলবো না।
'আমি আবারও ভোট দিছি'
সত্তোরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ ভোটার আবারও নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় কোয়াকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হুইল চেয়ারে এসে তিনি ভোট দেন। ভোট শেষে আবেগভরে তিনি বলেন, আমি আবারও ভোট দিছি। যতদিন শরীরে শক্তি আছে, ততদিন ভোট দিতে চাই। তিনি জানান, জীবনে বহু নির্বাচন দেখেছেন, অনেক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছেন। তবুও ভোটের দিন এলে আজও তাঁর মনে নতুন আনন্দ কাজ করে। কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রবীণ ও তরুণ—সব বয়সী ভোটারের অংশগ্রহণে পরিবেশ ছিলো শান্ত ও সুশৃঙ্খল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে চলছে।
'যেইটা খাই সেইটাতে ভোট দিছি'
ভোট দিয়ে বেরিয়ে এক ভোটার বলেন, যেইটা খাই, সেইটাতে ভোট দিছি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর-৩ আসনের সব্দার খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর এভাবেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। তাঁর কথায় স্পষ্ট—দৈনন্দিন জীবন, খাবার আর জীবিকার সঙ্গে জড়িত বাস্তব চাহিদাই তাঁর ভোটের মূল বিবেচনা।
তিনি বলেন, যে ভালো কাজ করবে, বাজার ঠিক রাখবে, মানুষের কষ্ট বুঝবে—তারেই ভোট দিছি।
'আমি স্বাক্ষর জানি টিপসই কেনো?'
চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোট দিতে আসা এক শিক্ষিকার প্রশ্নে কিছু সময়ের জন্যে থমকে যায় পুরো বুথ—“আমি স্বাক্ষর জানি, টিপসই কেনো?”
ঘটনাটি ঘটে ভোটগ্রহণ চলাকালে। ভোটার তালিকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার যখন ওই শিক্ষিকাকে আঙ্গুল স্ট্যাম্পপ্যাডে চেপে টিপসই দিতে বলেন, তখনই তিনি মুচকি হেসে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি তো স্বাক্ষর দিতে পারি। আমি শিক্ষিকা মানুষ, টিপসই কেনো?”
বুথের ভেতরে উপস্থিত ভোটার ও কর্মকর্তারা প্রথমে কিছুটা অবাক হয়ে যান। এরপর মুহূর্তেই হাসির রোল পড়ে যায় পুরো কক্ষে। কেউ কেউ ফিসফিস করে বলেন, শিক্ষিকার কথা তো ফেলার মতো না!
সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারও পরিস্থিতি সামাল দিয়ে হেসে বলেন, আপা, নিয়ম সবার জন্যে এক। স্বাক্ষর জানলেই টিপসই বাদ যায় না।
শেষ পর্যন্ত আঙ্গুলে কালি লাগিয়ে ভোট প্রদান করেন ওই শিক্ষিকা।
ভোটকেন্দ্রে সাময়িক এই মজার ঘটনায় ক্লান্ত মুখে একটু হলেও হাসি ফিরিয়ে এনেছে উপস্থিত সবার মাঝে। তবে একজন স্বাক্ষর জানা ভোটারের আঙ্গুলের টিপসই নেয়া উচিত নয়। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনরা পোস্ট দিয়েছেন।








