মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৪:০১

পুরানো সাঁতারুদের অনুপ্রেরণার মাধ্যমেই তৈরি হবে নূতন প্রজন্মের সাঁতারু

-----------------------এমদাদ হোসেন (বাবু)

ক্রীড়াকণ্ঠ প্রতিবেদন
পুরানো সাঁতারুদের অনুপ্রেরণার মাধ্যমেই তৈরি হবে নূতন প্রজন্মের সাঁতারু

এ. কে. এম. এমদাদ হোসেন (বাবু)। পিতার নাম মো. হাবিবুর রহমান মিয়াজী (আবু মিয়াজী) ও মাতার নাম আরিফা বেগম। চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারস্থ রয়েজ রোডে তাঁর জন্ম ও বসবাস। তাঁরা চার ভাই ও চার বোন। ভাইদের মধ্যে এমদাদ হোসেন বাবু তৃতীয়। তাঁর দু ছেলে,এক মেয়ে। সুগৃহিণী স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁর সংসার।

এমদাদ হোসেন বাবুর উপরোল্লিখিত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে চাঁদপুর জেলার ক্রীড়ার ইতিহাসে রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। এককালের তুখোড় এই সাঁতারুর নাম বর্তমান প্রজন্মের অনেকে জানে না। সেজন্যে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পাক্ষিক পাতা ক্রীড়াকণ্ঠের পক্ষ থেকে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। প্রশ্ন ও উত্তর সম্বলিত এ সাক্ষাৎকারটি নিচে পত্রস্থ করা হলো--

ক্রীড়াকণ্ঠ : সাঁতারে আপনার অতীত সোনালি দিনগুলোর কথা কেমন মনে পড়ে? বাড়ির নিকটবর্তী ডাকাতিয়ায় সাঁতার কেটেই কি সাঁতারে দক্ষ হয়েছেন?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : সাঁতারের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা ছোটবেলা থেকেই। ডাকাতিয়া নদীতে সাঁতার কেটেই আমার সাঁতার শেখা। সাঁতার আমার জীবনে একটি আনন্দময় খেলার মতোই ছিলো। নিয়মিত তখন সাঁতার অনুশীলনের মাধ্যমেই আমার সাঁতারের প্রতি দক্ষতা বাড়ে এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি কার কাছ থেকে সাঁতার শিখে কিংবা কার অনুপ্রেরণায় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন? সাঁতার প্রতিযোগিতায় আপনার উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বগুলো কী কী?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : আমি যখন হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তাম, একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পাই ৩০ দিনের সাঁতার প্রশিক্ষণের। বিজ্ঞাপনের ঠিকানা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা হয় আবুল কাশেম সাইমন স্যারের সাথে। তখন নাম লিখালাম এবং প্রতিদিন স্কুলে সাইমন স্যার সাঁতার শিখাতেন আমাদেরকে। সেখানে পুরানো অনেক সাঁতারু ছিলেন। তার মধ্যে তপন দা, সেন্টু দা, বাদল দাও ছিলেন। ওইখানে ৩০ দিন প্রশিক্ষণ ভালো করেছি বলে সবাই আমাকে বলতেন, আমি চাঁদপুরের এক নম্বর সাঁতারু হবো। ওনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণেই আমি খুব তাড়াতাড়ি সাঁতার শিখতে পেরেছি ও সাঁতারে কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি অরুণ নন্দীসহ বিখ্যাত কোন্ কোন্ সাঁতারুকে দেখেছেন? তাঁদের মতো সাঁতারু এখন চাঁদপুর থেকে তৈরি হচ্ছে না কেন?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : আমি অরুন নন্দীর সময়কার অনেক বিখ্যাত সাঁতারুর কথা শুনেছি ও কয়েকজনকে দেখেছি। তাঁর মধ্যে অরুন নন্দী দাদার ভূমিকা অতুলনীয়। দাদা আমাকে ‘লেদারাস কোম্পানী’র দিঘিতে বাটারফ্লাই এবং ব্যাক স্ট্রোক সাঁতারের টার্মগুলো দেখিয়েছেন।

আগে চাঁদপুর নদী ও পুকুরে নিয়মিত সাঁতার চর্চা হতো, তাই ভালো সাঁতারু তৈরি হতো। এখন প্রশিক্ষণের অভাব এবং তরুণদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় আগের মতো সাঁতারু তৈরি হচ্ছে না।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনাদের পুরাণবাজারের এমন ক’টি পুকুরের নাম উল্লেখ করুন, যেগুলো আপনি একসময় দেখেছেন, এখন আর দেখেন না? আপনি কি মনে করেন পুকুরগুলো ভরাট হবার কারণে সাঁতার চর্চা কমে গেছে, না অন্য কারণ আছে?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : পুরাণবাজারে অনেক পুকুর আগে ছিলো, যেমন লেদা রাস-এর দিঘি, যা এখন নেই। এছাড়াও আমার বাড়ির পুকুর, যা এখন ভরাট হয়ে গেছে। তাই সাঁতার চর্চাও কমে গেছে। এছাড়া মানুষের ব্যস্ততা ও আগ্রহ কমে যাওয়াও একটি কারণ।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের সাঁতারের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবার পেছনে কারা দায়ী বলে আপনি মনে করেন?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : চাঁদপুরের সাঁতারের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণই আছে। পুকুর ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া, সাঁতার প্রশিক্ষণের অভাব, সাঁতার সংগঠনগুলোর কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং নতুন প্রজন্মের আগ্রহ না থাকা সাঁতারের প্রতি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনারা যখন স্কুল/কলেজে পড়েছেন তখন কি বার্ষিক ক্রীড়ায় সাঁতারের ইভেন্ট যুক্ত ছিলো? এখন কি আছে?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : আমরা যখন স্কুল/কলেজে পড়তাম তখন অনেক জায়গায় বার্ষিক ক্রীড়ায় সাঁতারের ইভেন্ট থাকতো। এখন অনেক স্কুল-কলেজে সেই ইভেন্ট আর নিয়মিত হয় না বা খুবই কম হয়। তবে কলেজ পর্যায়ে যেমন পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজে প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়ায় সাঁতারের ইভেন্ট দেখতে পাওয়া গেলেও স্কুল পর্যায়ে তেমন সাঁতারের ইভেন্ট দেখতে পাওয়া যায় না।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর সুইমিং ক্লাবসহ অন্যান্য সাঁতার সংগঠনগুলোকে সাঁতার চর্চায় বিশেষ করে চাঁদপুরের সাঁতারের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্যে কী কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে আপনি মনে করেন?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : চাঁদপুর সুইমিং ক্লাবসহ অন্য সংগঠনগুলোর উচিত নিয়মিত সাঁতার প্রশিক্ষণ চালু করা, নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করে সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, নতুন প্রজন্মকে সাঁতারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা ও প্রতিযোগিতা আয়োজন করা।

ক্রীড়াকণ্ঠ : জীবন বাঁচানোর জন্যে সাঁতার শেখা কি প্রতিটি মানুষের জন্যে আবশ্যক?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : হ্যাঁ, জীবন বাঁচানোর জন্যে সাঁতার শেখা খুবই প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশে নদী বেশি থাকার ফলে সবার জন্যে সাঁতার শেখা অপরিহার্য। সাঁতার জানার ফলে দুর্ঘটনার সময় নিজের জীবন ও অন্যের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চ্যানেল বিজয়ী সাঁতারু আ. মালেক ও অবিরাম সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ডধারী অরুণ নন্দী ছাড়া চাঁদপুরের কৃতী সাঁতারুদের ক’জনের নাম বলতে পারবেন?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : চ্যানেল বিজয়ী আ. মালেক ও অবিরাম সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ডধারী অরুন নন্দী ছাড়া চাঁদপুরের আরও অনেক কৃতী সাঁতারু ছিলেন। যেমন উদাহরণ স্বরূপ বাদশাহ ভাই, ছানাউল্লা ভাই।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। এসব জবাবের বাইরে আপনি কি আর কিছু বলতে চান?

এমদাদ হোসেন (বাবু) : চাঁদপুর সুইমিং ক্লাবের উন্নতির জন্যে পুরোনো সাঁতারুদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই তরুণ প্রজন্মের উৎসাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এভাবেই পুরোনো সাঁতারুদের অনুপ্রেরণার মাধ্যমেই তৈরি হবে নতুন প্রজন্মের সাঁতারু।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়