প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৭
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৫৩
পৌর ৭নং ওয়ার্ডবাসীর সুখে-দুঃখে আছি দীর্ঘদিন, প্রার্থী হচ্ছি তাঁদের অনুরোধে
---------------------জিয়া প্রধানিয়া

চাঁদপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. জিয়া প্রধানিয়া বলেছেন, চাঁদপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে একমাত্র অনুন্নত ও অবহেলিত ওয়ার্ড হলো আমাদের ৭নং ওয়ার্ড। সবচেয়ে বেশি নাগরিক সুবিধা-বঞ্চিত এই ওয়ার্ডবাসীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমি ছাত্রজীবন থেকেই তাদের পাশে রয়েছি এবং আমৃত্যু থাকবো।
|আরো খবর
তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ডবাসী আমার বিগতদিনের সকল কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই তারা মনে করেন আগামীদিনে তাদের প্রতিনিধি হওয়ার জন্যে আমি একজন যোগ্য ও পছন্দের ব্যক্তি। তাদের অনুরোধ ও ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়েই আসন্ন চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চাঁদপুর কণ্ঠকে দেওয়া মো. জিয়া প্রধানিয়ার সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো :
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে কথা শুনছি। সত্যি কি নির্বাচন করবেন?
জিয়া প্রধানিয়া : হ্যাঁ, অবশ্যই নির্বাচন করবো। এর আগেও দুবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, যদিও সে সময় নির্বাচনে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না। তা সত্ত্বেও এলাকাবাসীর অনুরোধে প্রার্থী হয়েছিলাম। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও পরিবেশ এখন বিরাজ করছে। আশা করছি, ভোটাররা এবার গোপন ব্যালটে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন। জনগণের সমস্যা সমাধান ও এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হচ্ছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
জিয়া প্রধানিয়া : দেখুন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করে রাজনীতিতে এসেছি। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই হলো জনগণের সেবা করা। সেবা করার জন্য একটি দায়িত্বশীল পদের প্রয়োজন অনুভূতের জায়গা থেকেই নির্বাচনের ইচ্ছা। অতীতে আমি তিনবার নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছি। প্রথমবার ২০১৫ সালে সীমানা নির্ধারণী জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়। পরবর্তী দু’টি নির্বাচনে ‘ডালিম’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু তৎকালীন সময়ে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। স্বঘোষিত প্রতিনিধিরা জনগণের কল্যাণে কাজ না করে নিজেদের স্বার্থ গুছিয়েছে। বর্তমানে দেশে জনগণের ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই ওয়ার্ডবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে পুনরায় প্রার্থী হচ্ছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন? নাকি নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন?
জিয়া প্রধানিয়া : পৌরসভা একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি দলীয় সমর্থনের একটি বড় ভূমিকা থাকে। যেহেতু আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং এর আদর্শে বিশ্বাসী, তাই স্বাভাবিকভাবেই দলের সমর্থন প্রত্যাশা করি। দল আমার বিগতদিনের ত্যাগ ও কাজ বিবেচনা করে আমাকে সমর্থন দেবে এবং সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী আমার পাশে থাকবেন—এটি আমার শতভাগ বিশ্বাস।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি কেবল পরিচিতি লাভ বা জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য প্রার্থী হচ্ছেন, নাকি বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছেন?
জিয়া প্রধানিয়া : একজন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী হিসেবে এ শহরে আমার যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। নতুন করে পরিচিতি পাওয়ার জন্য নির্বাচন করার কোনো প্রয়োজন আমার নেই। আমি শতভাগ বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছি। আমি এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত ও ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলটির সাথে যুক্ত। আমার পরিবারও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এলাকার মানুষের সাথে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং বিজয়ী হয়ে জনগণের সেবা করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার কৌশল ও পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কেমন করেছেন বা করছেন?
জিয়া প্রধানিয়া : কৌশল ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। প্রতিদিন এলাকার মানুষ তাদের নানা সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন এবং আমি সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করি। আমাদের ওয়ার্ডটি নদী-সিকস্তি ও অবহেলিত হওয়ায় এখানে নানাবিধ সামাজিক সমস্যা রয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণই আমার মূল শক্তি, তাই প্রতিদিন তাদের সাথেই আমার সময় কাটে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি কতটা আশাবাদী?
জিয়া প্রধানিয়া : দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ঠিকানা হলো বিএনপি। একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারায় জনগণ নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারলে সঠিক প্রতিফলন ঘটবে। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিতে চান?
জিয়া প্রধানিয়া : আমি আমার ওয়ার্ডবাসীকে কৃত্রিম কোনো স্বপ্ন বা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। আমি তাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত একজন মানুষ। ছাত্রজীবন থেকে আমি এবং আমার পরিবার সবসময় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছি। কোনো ফাঁকা বুলি না দিয়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই। ৭নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন ওয়ার্ডে রূপান্তর করাই আমার লক্ষ্য। আশা করি, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডবাসী আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন।
উল্লেখ্য, মো. জিয়া প্রধানিয়া ২০০০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রবাস জীবন শেষে তিনি দেশে আসেন। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাবা আলহাজ্ব শামসুল হক প্রধানিয়া ৩৪ বছর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে পৌর বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর বড় ভাই খোকা প্রধানিয়া জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিসিকে/ এমজেডএইচ








