শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১২

বিষয়টি উদ্বেগজনক! বিড়ালপ্রেমীরা সাবধান

অনলাইন ডেস্ক
বিষয়টি উদ্বেগজনক! বিড়ালপ্রেমীরা সাবধান

শখের বশে ঘরে বিড়াল পালনের প্রবণতা বর্তমানে আমাদের সমাজে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের তরুণ-তরুণী ও শিশুদের মধ্যে বিড়ালের প্রতি অনুরাগ দিন দিন বাড়ছে। ইঁদুর তাড়ানো কিংবা নিঃসঙ্গতা দূর করার সঙ্গী হিসেবে অনেকেই এখন বিড়ালকে আপন করে নিচ্ছেন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান আমাদের এই শখের বিপজ্জনক এক দিকটির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র—চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই কেবল গত আগস্ট মাসে বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৭৬৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু। যেখানে একই সময়ে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৪ জন, সেখানে কেবল বিড়ালের শিকার হয়ে হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া রোগীর সংখ্যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, আমাদের অজান্তেই ঘরে ঘরে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিড়াল অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও আদুরে প্রাণী হতে পারে, কিন্তু এর আঁচড় বা কামড় যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা অনেক সময়ই আমরা বুঝতে পারি না। র‌্যাবিস বা জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসের বাহক হতে পারে পোষা প্রাণীও। অথচ অসচেতনতার কারণে অনেক পরিবারই কামড় বা আঁচড় খাওয়ার বিষয়টিকে প্রথমদিকে হালকাভাবে নেয়। ফলে জখম গুরুতর হলে তবেই হাসপাতালে দৌড়াতে হয়। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, কেবল আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ভ্যাকসিন ও ওষুধ সরবরাহ করতে হচ্ছে, যা একদিকে যেমন রোগীর শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কারণ, অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

শখ বা ভালোবাসার বশে প্রাণী পোষার বিরুদ্ধে কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সেই শখ যেন অসচেতনতার কারণে পরিবারের সবচেয়ে কোমল সদস্য অর্থাৎ শিশুদের জীবনকে বিপন্ন করে না তোলে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিড়াল দেখতে সুস্থ মনে হলেও সেটিকে নিয়মিত র‌্যাবিসসহ প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া এবং তার স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, অসাবধানতাবশত কোনো প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং অ্যান্টির‌্যাবিস টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ হাত ধরাধরি করে চলে। বিড়াল পোষার আনন্দকে অক্ষুণ্ন রাখতে হলে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই হতে হবে প্রধান অবলম্বন। একটুখানি অবহেলা ডেকে আনতে পারে অনেক বড় বিপদ, হতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি। বিশেষ করে শিশুদের জীবনকে করতে পারে বিপন্ন। তাই সময় এসেছে বিড়ালপ্রেমীদের আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও সাবধানী হওয়ার।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়