প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪
বিনয় এবং ভদ্রতা নিয়ে দুটি কথা
অহংকারী সেই সব মানুষের সাথে আমার যেন আর কোনোদিন কোনো রকম সম্পর্ক তৈরি না হয়। তারা আসবে, তারা হাসবে, কিন্তু তাদেরকে আর কোনো সম্বোধন নয়। নিখুঁত এই পৃথিবীতে কেউ নেই, এই কথাটা আমি মানি। কিন্তু অহংকারী বন্ধু, আত্মীয়, পড়শি, যোগ্যতার দেমাগ, টাকার বাহাদুরি, কারও খ্যাতির বিষযুক্ত পিন আমার গায়ে আঁচড় কাটতে দেবো না। এই মানুষগুলোর আচরণ নির্বোধের মতো আর মেনে নেওয়া যায় না। যা আমার কাছে স্বচ্ছ নয়, তার আমার কাছে কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
আমি ক্ষুদ্র, কিন্তু স্বাধীনভাবে বিচরণকারী। আমার স্বাধীনতা কাউকে অসম্মান বা এতোটুকু আঘাত করে—এমনটা নয়। আমার স্বাধীনতা হলো যাকে ভালোবাসবো, তাকে মর্যাদা দেবো, সম্মান দেবো—এটা আমার আদর্শ।
আমি মানুষের সাথে মানুষের তর্ক করি না। যার যেমন শিক্ষা, তার তেমন আচরণ। ‘নৈতিক’ শব্দটা বাংলা ব্যাকরণে এমনি স্থাপিত হয়নি, এর ভার অনেক এবং মাধুর্যপূর্ণ।
মানুষ তো মরণশীল। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের শেষবেলায় সাথে করে মানুষ কী নিয়ে যায়, বা কী-ই বা নিয়ে এই পৃথিবীতে আসে?
জীবন-মরণের এই মাঝামাঝি সময়ে মানুষের আচরণে মানুষ কাঁদে! অহংকার আর পাশবিকতা বাদ দিলে মানুষ যথেষ্ট সুন্দর।
কর্মে, ধর্মে, সম্পর্কে—সবকিছুতে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। কেউ গুণী বলে তার মহত্ত্ব থাকবে না, তা কী করে হয়! কারও ক্ষমতা আছে বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করবে—এটা তো নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী!
টাকা দিয়ে সব কেনা যায়, মনুষ্যত্ব কেনা যায় কি? সুশিক্ষা কেনা যায়? ভালোবাসা কেনা যায়? যায় না। হয়তো কৃত্রিম সম্মান কেনা যেতে পারে, যা মরণকালে কোনো কাজে আসবে না।
এতো সুন্দর মানবজনম পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত। মানুষকে অকৃতজ্ঞ করে তুলেছে তার আচরণ, তার শিক্ষা, তার ব্যবহার। মঞ্চের অভিনয় কিন্তু জীবন থেকেই নেওয়া হয়। কাজেই অভিনয় হলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া, আর জীবন হলো সংস্কার ও সংশোধন।
ব্যক্তিত্বকে অহংকারের সাথে গুলিয়ে ফেলা একদম উচিত নয়।
“হৃদয়কে শিক্ষিত না করে শুধু মস্তিষ্ককে শিক্ষিত করা মোটেও প্রকৃত শিক্ষা নয়।”— অ্যারিস্টটল
অহংকারী বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের মতো মানুষগুলোকে আমি সবসময় এড়িয়ে চলি। একেবারে সম্মুখে পড়ে গেলে ভদ্রতার খাতিরে বলি—”ভালো আছ?” বা “ভালো আছেন?”। এতোটুকু না বললে সুশিক্ষাকে অসম্মান করা হয়।
সম্পর্ক, প্রেম, সম্মান, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব—এগুলো বিনয় দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আমি বোঝাতে চাইছি, আচরণে বিনয় থাকা উচিত।
“নত হলে যদি সম্পর্ক গভীর হয়,
তাহলে নত হও!
কিন্তু প্রতিবার যদি তোমাকেই নত হতে হয়,
তাহলে থেমে যাও!
কারণ ভালোবাসার স্থান বুকে,
পায়ে নয়।”
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নমস্কার, সবাই ভালো থাকবেন।
১৮.০৮.২০২৬।






