প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০
শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঔদাসীন্যেই কি চাঁদপুরের বিসিক অনিরাপদ?

চাঁদপুর বিসিক শিল্পনগরীতে একের পর এক চুরির ঘটনা নিছক আইনশৃঙ্খলার বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। সীমানা প্রাচীর নেই, পর্যাপ্ত নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা নেই, সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের আনাগোনা ও মাদকাসক্তদের আড্ডা-এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন, সেটিই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হলো, শিল্পের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তারা কোথায় আছেন?
চাঁদপুর বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপকের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও নৈশপ্রহরী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিঠি দেওয়া আর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এক কথা নয়। ব্যবসায়ীরা যখন লাখ লাখ টাকার মালামাল হারাচ্ছেন, তখন কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও ধীরগতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিল্পনগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মৌলিক পূর্বশর্ত।
ব্যবসায়ীদের নিজেদের উদ্যোগে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোর শনাক্ত করা এবং একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা একদিকে তাদের সচেতনতার প্রমাণ, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্যে অস্বস্তিকর প্রশ্নও তৈরি করে। একজন উদ্যোক্তার মূল কাজ উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করা-চোর ধরার দায়িত্ব তার নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে যদি ব্যবসায়ীদেরই পাহারাদার ও তদন্তকারীর ভূমিকা নিতে হয়, তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?
পুলিশ ইতোমধ্যে রাতে টহল জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে-এটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শুধু চুরি হওয়ার পর পুলিশি টহল বাড়ালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বিসিকের চারপাশে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি, নৈশপ্রহরী নিয়োগ এবং প্রবেশ-বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ-সবকিছুর সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
চাঁদপুর বিসিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় কেবল স্থানীয় প্রশাসনের নয়; এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিক কর্তৃপক্ষ। শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ না হলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না, উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রশ্নটি যথার্থই সামনে আসে-শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঔদাসীন্যেই কি চাঁদপুরের বিসিক অনিরাপদ?
এই প্রশ্নের উত্তর কথায় নয়, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে দিতে হবে। চাঁদপুর বিসিককে চোরের অভয়ারণ্য নয়, নিরাপদ ও উৎপাদনমুখী শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনে আর কোনো চিঠি-চালাচালি নয়-প্রয়োজন অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ।







