রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬

এমন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বারবার অভিযান হোক

অনলাইন ডেস্ক
এমন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বারবার অভিযান হোক

গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে একটি সংবাদের শিরোনাম হয়েছে এমন ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিত্র! আগাম প্রিন্ট করে রাখা হয় রিপোর্ট।। অভিযানে অর্থদণ্ড’। এ শিরোনামটি দেখে আঁতকে উঠেনি এমন পাঠক বোধহয় নেই। শিরোনামে কৌতূহলী হয়ে পাঠক পুরো সংবাদটি পড়ে জানতে পারে যে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট আগাম প্রিন্ট করে রাখা, মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিন স্যাম্পল সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্যে থার্মোমিটার না থাকাসহ একাধিক অনিয়ম রয়েছে।

এসব অপরাধে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ৬ ও ৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সাল। অভিযানে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য ইউনিট সহযোগিতা করে।

এদিকে এই একটি অভিযানেই বলে দিচ্ছে অন্যান্য প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কেমন চিত্র-এমনই মন্তব্য সচেতন মহলের। প্রায় প্রতিষ্ঠানেই এমন অবস্থা বলে তারা মন্তব্য করেন। আমরা অবশ্য এমন মন্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নই। কারণ, ফেমাসের মতো পুরোপুরি দালালনির্ভর কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আগাম রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতে পারে, তবে নব্বই শতাংশের বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সেটা করে না। অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেটা করে, সেটা হচ্ছে রিপোর্টের মধ্যে আগেই চিকিৎসকের স্বাক্ষর নিয়ে রাখে। এটা অবশ্যই একটা অনিয়ম। সচেতন রোগীরা এমন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায় না। যারা অনিচ্ছায় যায় তারা কম-বেশি প্রতারিত হয়। আমরা এমন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বারবার অভিযান চাই। বিশেষ করে সরকারি সকল হাসপাতালের সম্মুখস্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমন অভিযান প্রতি সপ্তাহে হওয়া দরকার। কেননা এসব হাসপাতালের সম্মুখস্থ ও নিকটস্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরাই খুব তৎপর থাকে রোগী ভাগিয়ে নিতে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সময় বের করে নিতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। আমাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের সম্মুখে ও নিকটে তো নয়ই, আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন কিংবা আইন সংশোধনের আবশ্যকতার বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়