বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৪

ব্যাঙের কনসার্ট: বর্ষার এক ‘বেসুরো’ বিলাসিতা

অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন
ব্যাঙের কনসার্ট: বর্ষার এক ‘বেসুরো’ বিলাসিতা

আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখে কবিরা লেখেন কবিতা, বিরহীরা খোঁজেন দীর্ঘশ্বাস, আর পাড়ার ব্যাঙেরা আয়োজন করে ‘জি-সিরিজ’ এর থেকেও বড় কোনো মিউজিক ফেস্টিভালের। বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা মাটিতে পড়ল কি পড়ল না, অমনি ড্রেনের কোণ থেকে বা পাশের ডোবা থেকে শুরু হয়ে যায় তাদের উচ্চাঙ্গসংগীতের মহড়া

১. ব্যাঙের বিচিত্র কণ্ঠস্বর

ব্যাঙের ডাককে আমরা ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি ‘ঘেঙর ঘেঙ’ হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে শুনলে মনে হবে, একেকটা ব্যাঙ একেকটা বাদ্যযন্ত্র গিলে বসে আছে। বস ব্যাঙ: এদের গলার আওয়াজ অনেকটা ফেটে যাওয়া ঢোলের মতো। একবার শুরু করলে মনে হয় বাসার নিচে কেউ জেনারেটর চালিয়ে দিয়েছে। টিনএজ ব্যাঙ: এদের গলাটা একটু সরু। অনেকটা পুরোনো সাইকেলের হর্নের মতো—টিঁউ টিঁউ শব্দে আপনার ঘুমের বারোটা বাজাতে এরা ওস্তাদ।

২. প্রেম না কি প্রোটিন?

বিজ্ঞানীরা বলেন, ব্যাঙেরা বর্ষাকালে নাকি তাদের সঙ্গিনীকে ডাকে। তা ভাই, ডাকবি ডাক, কিন্তু মাঝরাতেই কেন? আর এই ডাকাডাকিতে কোনো ছন্দ নেই, তাল নেই। একজনের ‘ঘেঁ’ শেষ হতে না হতেই আরেকজন ‘ঘোঁ’ করে ওঠে। মনে হয় যেন কোনো ঝগড়াটে রাজনৈতিক টকশো চলছে—কেউ কাউকে কথা বলতে দিচ্ছে না।

৩. কনসার্টের মঞ্চ

বৃষ্টির দিনে ব্যাঙের কাছে ডাস্টবিনের কোণা কিংবা আপনার ঘরের পেছনের জমা জলটুকু হলো একদম ‘রয়্যাল অ্যালবার্ট হল’। সেখানে বসে তারা যে গম্ভীর মুখে গান ধরে, দেখলে মনে হয় যেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেব ভুল করে ব্যাঙের রূপ ধারণ করেছেন।

৪. বিরক্তিকর কিন্তু মায়াবী

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই কর্কশ আওয়াজ শুনতে শুনতে একসময় অভ্যেস হয়ে যায়। যখন বৃষ্টির তোড় বেড়ে যায় আর ব্যাঙের ডাকের চোটে পাশের মানুষের কথা শোনা যায় না, তখন রাগ তো লাগেই। কিন্তু আবার যেদিন বৃষ্টি থেমে যায় আর চারপাশ একদম নিঝুম হয়ে যায়, তখন মনে হয়—ইস! ব্যাঙগুলো কেন ডাকছে না? ওই বেসুরো ডাকের মধ্যেই আসলে বর্ষার আসল প্রাণ লুকিয়ে থাকে।

বৃষ্টির দিনে ব্যাঙের ডাক আসলে প্রকৃতির সেই পাড়াতো ভাইদের মতো, যারা গাইতে না পারলেও মাইক ছাড়তে চায় না। তাদের এই 'বেসুরো' ভালোবাসাই বর্ষাকে পূর্ণতা দেয়। তাই কান ঝালাপালা হলেও একটা মৃদু হাসি দিয়ে বলা যায়— “চলুক বাবা, তোমাদের সিজন তো বছরে একবারই আসে!”

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়