বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:২৩

ভিক্ষা নয়, পরিশ্রমই পরিচয়: শ্রীনগরের অদম্য কালাচানের জীবনযুদ্ধ

গৃহবধূদের আস্থার প্রতীক!

ন্যায্যমূল্যে বাড়িতে সবজি পৌঁছে দিচ্ছেন প্রতিবন্ধী কালাচান

আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী, শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ)
গৃহবধূদের আস্থার প্রতীক!

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। কথা বলেন অস্পষ্টভাবে, কানেও শোনেন খুব কম। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতা দমাতে পারেনি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মধ্য বাঘড়া গ্রামের কালাচানকে। অন্যের কাছে হাত না পেতে ৫৪ বছর বয়সেও কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কালাচান ওই গ্রামের মরহুম আলিমুদ্দিনের ছেলে।

জীবনযুদ্ধ ও সংগ্রামের শুরু

শৈশবে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় কালাচানের। কিশোর বয়সেই নেমে পড়েন জীবনযুদ্ধে। অস্পষ্ট কথা ও শ্রবণশক্তির সমস্যার কারণে শুরুতে কোনো নিয়োগকর্তা তাকে কাজে নিতে চাইতেন না। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে হাতে তুলে নেন রিকশার হাতল

দুর্ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি

রিকশা চালানোর সময় ঘটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কানে কম শোনার কারণে অন্য যানবাহনেরসাইড দেওয়ার সংকেত বুঝতে পারেননি তিনি। ফলে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রায় দুই বছর শয্যাশায়ী থাকতে হয় তাঁকে। সে সময় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আর্থিক সহযোগিতায় তাঁর চিকিৎসা ও সংসার চলে।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

সুস্থ হওয়ার পর দমে যাননি কালাচান। অন্যের করুণা বা সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে তিনি কাজের ধরন পাল্টে ফেলেন। বর্তমানে তিনি ভ্যানে করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সবজি বিক্রি করেন। অস্পষ্ট ভাষায় ডাক দিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। তাঁর এই পরিশ্রমের আয়েই এখন চলছে তাঁর সংসার।

বিশ্বস্ততার নাম কালাচান

গ্রামের গৃহবধূদের কাছে কালাচান এক পরিচিত ও বিশ্বস্ত নাম। স্থানীয় গৃহবধূ সালমা ও আসমা জানান, "কালাচান ভাই আমাদের বাড়িতে এসে সবজি দিয়ে যান। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি কখনও ওজনে কম দেন না বা অতিরিক্ত দাম নেন নাবাজারের সাথে মিল রেখে তিনি ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত সবজি বিক্রি করেন।"

প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী

ভিক্ষাবৃত্তি বা পরনির্ভরশীলতাকে ঘৃণা করা কালাচান আজ সমাজের জন্য এক দৃষ্টান্ত। স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে সুস্থ মানুষও অনেক সময় কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে, সেখানে কালাচানের মতো একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের এমন পরিশ্রমী জীবন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

কালাচান প্রমাণ করেছেন, শারীরিক অক্ষমতা কোনো বাধা নয়, যদি থাকে মনের জোর আর সততা

ডিসিকে/এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়