সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৬

টং দোকানের সেরা দুধ চা

বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কাজির বাজারের নুর আলমের দোকানে...

ড. আব্দুস সাত্তার
বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কাজির বাজারের নুর আলমের দোকানে...

টং দোকানগুলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ, যা অনেকের কাছে পুরানো স্মৃতি ও নস্টালজিয়া জাগায়। আমরা আমাদের শহরের ফুটপাতে, গ্রামের বাজারে এমনকি গ্রামের রাস্তার পাশে তাকালেই অনেক টংয়ের দোকান দেখতে পাই। মূলত জায়গা কম থাকায় ছোট্ট একটি ঘর করে এই দোকান বানানো হয়। দোকানের সামনের অংশে ক্রেতাদের বসার জন্যে বেঞ্চ ফেলে রাখা হয়। অতি অল্প জায়গায় বসানো হয়ে থাকে এই দোকান ঘরগুলো।

টং দোকানে যে জিনিসটি মূল টার্গেট নিয়ে বিক্রি করা হয় সেটি হলো চা। তবে দোকানে বিভিন্ন রকমের চাওয়া পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : দুধ চা, লেবু চা, লাল চা, কালোজিরা চা, মালাই চা, তেতুল চা, মরিচ চা ও গুড়ের চা সহ আরো বিভিন্ন ধরনের চা। সব টং দোকানেই আধা দিয়ে লাল চা অথবা লেবু দিয়ে লাল চা বিক্রি হয়। আমি পছন্দ করি দুধ চা। টং দোকানের দুধ চায়ের স্বাদটাই ভিন্ন ধরনের। এবার বাংলাদেশে গিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায়র টং দোকানে অনেক চা খেয়েছি। নিজ এলাকার কাজি বাজার টং দোকানের চা খেতে যাই। এই দোকানের সামনে একটি বেঞ্চ আছে, তারপরও ৭/৮ জন লোক দাঁড়িয়ে আছে চায়ের জন্যে। আমিও লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলাম, এখানে এতো লাইন কেন? সবাই আমাকে জানালো, এই দোকানের মালিক সেই সকাল থেকে দোকান বন্ধ করা পর্যন্ত দুধ জ্বাল দেয়। তাই এই দুধের চা অনেক স্বাদ লাগে। আমি এক কাপ খাওয়ার পর আরেক কাপ দিতে বললাম। সত্যি বলতে কী, আমার টেস্ট বলেছে চাঁদপুর জেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কাজির বাজারের নূর আলমের দোকানের দুধ চা সেরা চা।

টং দোকানে চা ছাড়াও আরো বিভিন্ন পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। যেমন বিস্কুট, রুটি, কলা এবং কেক। অনেকেই চায়ের সাথে কেক বা রুটি খেয়ে সকালের নাস্তা কিংবা রাতের খাবারের চাহিদা পূরণ করে নেয়। চায়ের পাশাপাশি ধূমপানের জন্যে সিগারেটও বিক্রি হয়ে থাকে। টং দোকানে ভীড় হয় সবচেয়ে বেশি। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের মিলন মেলা চায়ের দোকানে। আর কোনো জায়গা এমন নেই, যেখানে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে এক সঙ্গে বসতে পারে, মন খুলে কথা বলতে পারে। নানা পেশা, বয়স এবং ধর্মের মানুষ গিয়ে সেখানে একত্রিত হয়ে চা পান করে। এই টং দোকান তখন হয়ে যায় একটি রমরমা গল্পের আসর। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখানে কথা বলা হয় সন্ধ্যার পর। রাজনৈতিক বিষয় থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক অবস্থা এই দোকান ঘরের সামনে বসেই চা পান করতে করতে আলোচনা করা হয়। সত্যি বলতে, টং দোকানের চা শুধু পানীয় নয়, এটা এক ধরনের অনুভূতি যা হৃদয়ে জমে থাকে অনেকদিন। এখানে দাম কম, কিন্তু আনন্দ অমূল্য। কাঠের বেঞ্চে বসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিলে মনে হয় শহরের কোলাহল, জীবনের দৌড়ঝাপ সব যেন একটু থেমে গেছে। টং দোকানগুলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ, যা অনেকেরই পুরোনো স্মৃতি ও নস্টালজিয়া বানিয়ে দেয়।

ড. আব্দুস সাত্তার : লেখক ও সাংবাদিক, ওয়াশিংটন ডি সি, যুক্তরাষ্ট্র।

৯ জানুয়ারি ২০২৬।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়