শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১

এমপির নির্দেশে মেঘনার চরে এমন অভিযান হোক লাগাতার

অনলাইন ডেস্ক
এমপির নির্দেশে মেঘনার চরে এমন অভিযান হোক লাগাতার

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ঈদগাহ ফেরিঘাট এলাকার মেঘনার চরে প্রজেক্ট তৈরির নামে ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে অনবরত কৃষি জমির টপসয়েল কেটে ফেলছে চাঁদপুর ও শরিয়তপুরের স্থানীয় একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। আগে আওয়ামী লীগের লোকজন আর এখন বিএনপির লোকজন জড়িত থেকে এসব করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। দলীয় প্রভাবে চরের কৃষি জমিগুলো নষ্ট করে মাছের ঝিল বানানোর হিড়িক পড়েছে ওই এলাকার মেঘনার চরে। এতে শত শত কৃষকের কৃষি জমি বিনষ্ট এবং বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফের সেখানে অভিযান চালিয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনির নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে জব্দকৃত একটি ভেকু বিকল করে দেয়া হয়। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি সভায় ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চাঁদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। তিনি কৃষি জমিতে অবৈধ পন্থায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানান। প্রয়োজনে মাটিখেকো এসব ভেকু জব্দ করে চাঁদপুরে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে বহুকাল ধরে স্থানীয় কৃষকরা কৃষি কাজ করে আসছেন। সেখানে তারা প্রতি মৌসুমে সরিষা, আলু, ধনিয়া, কালিজিরা, ধানসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির চাষ করে থাকে। গেলো কয়েক বছর ধরে এসব কৃষি জমিতে স্থানীয় একটি চক্রের চোখ পড়ে। তারা ফসলি জমি নষ্ট করে প্রজেক্ট করার নামে ভেকু দিয়ে জমির টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, স্থানীয় চান্দু চৌকিদার, সুরুজ চৌকিদার, ঈমান শেখ, সবুজ সরদার, মমিন দিদার, বিল্লাল গাজী, রহমত তালুকদার, মুক্তার তালুকদার, ইসমাইল তালুকদার ও শাসন গাজীর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র এই চর দখল ও মাটি কাটার উৎসবে মেতেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং সদর উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ফলে দখলদার চক্রটি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা কৃষকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করা কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ইব্রাহিমপুর চরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পূর্বে বিকলকৃত এবং সচলসহ ২টি ভেকু (এক্সেভেটর) পাওয়া যায়। পরে সচল ভেকুটি (এক্সেভেটর) বিকল করে দেয়া হয়। অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করতে না পারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারি জমি ও চর দখলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা এসি (ল্যান্ড) বাপ্পী দত্ত রনির কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণের এমন অঙ্গীকার কার্যকর হবে, যদি তিনি যে কোনো ধরনের চাপমুক্ত থাকেন। সাধারণত স্থানীয় এমপি ও সরকারি দল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এসি (ল্যান্ড)-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু মেঘনার ইব্রাহিমপুর চরে অবৈধভাবে মাটি কাটাসহ ঝিল তৈরির বিরুদ্ধে স্থানীয় এমপি যেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশদাতা, সেখানে এসি (ল্যান্ড) চাপমুক্ত আছেন ও থাকবেনÑএটা স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা যায়। কাজেই এই চরে মাটিখেকোদের সমূলে নিশ্চিহ্ন করতে লাগাতার অভিযান চালাতে হবে। কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, আকস্মিকভাবেও চালাতে হবে এমন অভিযান। সাথে সাথে সরকারি দলের কারা কারা চর দখল ও মাটি ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দলীয়ভাবে ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়টিও ভাবতে হবে। অতীতে এমন দলীয় ব্যবস্থাগ্রহণ দেখা যায় নি, আশা করি এমনটি এবার দেখা যাবে। কেননা দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতকারী/দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদরের এমপি ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণের নজির একের পর এক স্থাপন করে চলছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়