বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮

সোনালী সময়ের ভিত্তিতে এখনও যেনো দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয়টি!

অনলাইন ডেস্ক
সোনালী সময়ের ভিত্তিতে এখনও যেনো দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয়টি!

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় চঁাদপুর শহরের হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুবই সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে। এ বছরের এপ্রিল মাসে সারাদেশে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১শ’ ৪ জন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ২৯ জন। মোট ৬২ জন। এমন ফলাফল জেলায় সেরা ফলাফল বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নবাগত সভাপতি, বিশিষ্ট বিদ্যোৎসাহী ও রাজনীতিক আক্তার হোসেন মাঝি বলেন, আমরা ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে কাউন্সেলিং করেছি। মা সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা যেনো পড়ালেখায় আরো বেশি বেশি মনোনিবেশ করে সেদিকে লক্ষ্য রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি সামনে কীভাবে আরো ভালো ফলাফল করতে পারে সেদিকে মনিটরিং করা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আইনুন নাহার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ফলাফল সামনে যেনো আরো ভালো হতে পারে সে বিষয়ে সর্বক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষকদের নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল কীভাবে অব্যাহত রাখা যায় সে বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

উপরের বিবরণটি গতকাল চঁাদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদের বিবরণ। দেশের কোনো কোনো উপজেলায় সর্বমোট যা বৃত্তি পায় নি, চঁাদপুর শহরের হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সে পরিমাণ বৃত্তি পেয়েছে। এটা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, এ বিদ্যালয়টিই পুরো চঁাদপুর জেলার, এমনকি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম সেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৮৭ সালে সারাদেশে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত হাফেজ আহমেদ ১৯৮৯ সালের মে মাসে হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। একটানা ২৫ বছরের অধিক দায়িত্বপালন করে তিনি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তঁার কর্মকালের ২৫ বছর ছিলো এ বিদ্যালয়টির জন্যে এক সোনালী সময়। কেননা এ সময়ে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় জেলা ও বিভাগে বারবার সেরা ফলাফল অর্জন করেছে। এছাড়া সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম সহ অন্যান্য কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বিভাগে ছয়বার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হয়েছে। ২০০৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। তার পূর্বে ২০০২ সালে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি)-এর সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে হাফেজ আহমেদ ও এসএমসির সভাপতি হিসেবে সফিউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক বিদ্যালয়টির যে সোনালী সময় ও সুনামের সুদৃঢ় ভিত্তি রচিত হয়েছে, পরবর্তীতে অন্যান্য প্রধান শিক্ষকের সময়েও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাফল্য কম-বেশি অব্যাহত ছিলো এবং এখনও অব্যাহত আছে। যার প্রমাণ ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৬২ জনের বৃত্তি লাভ। আমরা বিদ্যালয়টির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আমরা মনে করি, প্রধান শিক্ষক পদটি ভারমুক্ত করা হলে এবং নবাগত সভাপতি পূর্বসূরির ন্যায় সর্বান্তকরণে কাজ করলে হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আবারো বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হবে, আর প্রাথমিক শিক্ষায় চঁাদপুর জেলার উৎকর্ষতার সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে দেবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়