সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২

আমরা এ ড্রাইভারের গ্রেফতার ও শাস্তি চাই

অনলাইন ডেস্ক
আমরা এ ড্রাইভারের গ্রেফতার ও শাস্তি চাই

হাজীগঞ্জ বাজারে সড়ক ডিভাইডারের কোল ঘেঁষে চাঁদপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী পদ্মা পরিবহনের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নাতনি মার্জিয়া আক্তার (৮) ও নানী নাজমা বেগম (৫৫)-এর মৃত্যু হয়েছে। নাতনি হাসপাতাল গেটে মৃত্যুবরণ করেন, আর গুরুতর আহতাবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে নানী নাজমা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫) রাত সাড়ে দশটার দিকে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ শেরাটন হোটেলের সামনে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মার্জিয়া আক্তার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বিঘা গ্রামের কালী বাড়ির মানিক হোসেনের মেয়ে। নানী নাজমা বেগম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ো হাজী বাড়ির মনির হোসেনের স্ত্রী। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পথিমধ্যে মারা যান। মার্জিয়ার নানা মনির হোসেন জানান, এদিন রাতে তিনি তার স্ত্রী নাজমা বেগম ও বড়ো মেয়ের ঘরের নাতনি মার্জিয়াকে নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। কেনাকাটা শেষে তারা উল্লেখিত স্থান দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী পদ্মা পরিবহনের বাসটি দ্রুত বেগে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদেরকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মার্জিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা এবং নাজমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নেয়ার পথে নাজমা বেগম মারা যান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাজ্জাদ রশিদ ডেবিড জানান, তিনি সড়কের উত্তর পাশে ছিলেন। মানুষের ডাক-চিৎকার শুনে সড়কের দক্ষিণ পাশে গিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক শিশুটিকে কোলে তুলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তখনও শিশুটি জীবিত ছিলো, কিন্তু হাসপাতাল গেটে প্রবেশের সময় শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোরাদ হোসেন ঘাতক বাসটিকে জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। পরর্তীতে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশুটির মরদেহ পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসেন।

হাজীগঞ্জ বাজারের মতো অনেক প্রসিদ্ধ ও জনাকীর্ণ একটি বাজারে দ্রুত বেগে বাস এসে নানী-নাতনিকে পিষ্ট করে ফেলবে-সেটা ভাবতেও বিস্মিত হতে হয়। রাতে ট্রাফিক পুলিশ ছিলো না বলে বাসের ড্রাইভার প্রথাসিদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রিত গতিতে বাস না চালিয়ে হয়তো দ্রুত গতিতে বাস চালিয়েছে। কথা হলো, দক্ষ-অভিজ্ঞ ড্রাইভারের জন্যে কি ট্রাফিক পুলিশ লাগে? সে তো তার পেশার সততা ও নৈপুণ্য তুলে ধরতে নিজ দায়িত্বে ট্রাফিক আইন মেনে চলবে। নিশ্চয় ড্রাইভার আনকোরা ও আনাড়ি ছিলো। সে পথের লস টাইম মেকাপ করতে গিয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে হাজীগঞ্জ বাজারেও দ্রুত গতিতে বাস চালানোর কারণে দুটি মূল্যবান জীবনের লস ঘটিয়ে দিলো। যে ঘটনার মর্মান্তিকতা কাকে না ব্যথিত করেছে? আমরা দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী ড্রাইভারকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়