প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০২:১২
৪৭ কিলোমিটার সড়কের দু ধারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
সবুজায়নের উদ্যোগে খুশি সাধারণ মানুষ

চাঁদপুরে পরিবেশ সংরক্ষণ, সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এর অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন সড়কের মোট ৪৭ কিলোমিটার এলাকায় চাঁদপুর থেকে শাহরাস্তির খাজুরিয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চাঁদপুর শহরের সওজ কার্যালয় থেকে জেলা কারাগার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের দু ধারে ২৭৬টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
|আরো খবর
রোপণকৃত চারাগুলোর মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, চেরি, জারুল, দেবদারু, মেহগনি এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। এসব গাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে সড়কের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করবে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান জানান, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে চাঁদপুর সওজ কার্যালয় থেকে জেলা কারাগার পর্যন্ত সড়কের দু ধারে ২৭৬টি চারা রোপণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চাঁদপুরের আওতাধীন ৪৭ কিলোমিটার সড়কের দু’ধারে আরও গাছ লাগানো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করা, সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা এবং সড়ক ও জনপথের জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখা—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। গাছগুলো যাতে বেঁচে থাকে এবং নষ্ট না হয়, সেজন্যে স্থানীয় ক'জন ব্যক্তিকে দু বছরের জন্যে পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগও সড়ক সংস্কার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর ধারাবাহিকতায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করেন, রাস্তার দু ধারে গাছ লাগানোর ফলে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে, তাপমাত্রা কমবে এবং সড়ক হবে আরও মনোরম। পাশাপাশি সরকারি জমি দখলের প্রবণতাও কমবে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ যেন শুধুমাত্র বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান বা সফরকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কার্যকর রাখতে হবে। তাদের মতে, সঠিক পরিচর্যা ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চাঁদপুরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবুজ ও জনপথ পরিচ্ছন্ন চাঁদপুর গড়ার লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪৭ কিলোমিটার সড়কজুড়ে বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হলে জেলার সড়কগুলো একসময় সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশে নতুন রূপে সজ্জিত হবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








