প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৯
গণপরিবহনে বসছে জিপিএস
গতি ৮০ কিলোমিটারের বেশি হলে ব্যবস্থা
গণপরিবহনে জিপিএস বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটারের উপরে গতি উঠলেই নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
|আরো খবর
রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) সচিবালয়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জিপিএস সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট। জিপিএস সিস্টেম আমরা চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব পাবলিক পরিবহনে, সব পরিবহনে জিপিএস থাকবে। তাহলে দেখবেন যে নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি সম্ভব হবে, স্পিড নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, গাড়ির অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, কে ট্র্যাফিক রুলস মানছে না, নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, কে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে, মানে টিকিট ছাড়াই যাত্রীদের তুলে তাদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিয়ে চলে যাচ্ছে গন্তব্যে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি সভায় জিপিএস চালু করার একটা ডিসিশন হয়েছে। এই জিপিএস চালুর প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মালিক এবং শ্রমিকরা, তারা এখানে একমত হয়েছে যে, জিপিএস চালু হওয়া উচিত। এক নম্বর পজিটিভ।
এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সব বাস বা কমার্শিয়াল পরিবহনে জিপিএস ইনস্টল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জিপিএস ইনস্টল করলে, এর মাধ্যমে যারা ওভার স্পিড করবে, ৮০ কিলোমিটার বা ৬০ কিলোমিটার, এটার লিমিটের বাইরে যারা যারা যাবে, তাদের প্রত্যেকের রেকর্ড ফুটেজ আসবে আমাদের কাছে। সে অনুযায়ী তার জরিমানা চলে যাবে, যেই বাস বা যেই পরিবহন এটা অমান্য করবে। এটা দিয়ে যারা রুট ভায়োলেট করবে, তার অর্ধেক পথ থেকে ফিরে যাবে। অর্থাৎ, ওইটা জিপিএস-এর মাধ্যমে জিও-ফেন্সিং সহ রুট যে এলাকায় যাওয়ার কথা, সেই এলাকার বাইরে গেলে বা রুট যদি ভায়োলেট করে, সেটা দিয়েও মামলা হবে।
তিনি জানান, জিপিএস-এর মাধ্যমে আমরা এটাও করতে পারব যে, আনফিট বাসগুলো রাস্তায় নেমেছে কি না। কারণ, একটা বাসের ফিটনেস দুই বছর পর পর পরীক্ষা করতে হয়, ফিটনেস নিয়ে চালাতে হয়। এখন, ওইটা আমাদের কাছে রেকর্ড আছে কারা কারা ফিটনেস নবায়ন করে নাই। কিন্তু সে রাস্তায় না নামলে, আমরা তাকে জরিমানা করতে পারি না। জরিমানা করলে বলে যে, আমি তো চালাই নাই, আমি তো ফিটনেস সেন্টারে ওয়েট করছি। কিন্তু সে রাস্তায় নামালে ওই ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এরকম নিয়ন্ত্রণ করবে। বিআরটিএ সহ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করবে। জিপিএস-এর যে কন্ট্রোল রেগুলেশন সফটওয়্যার, এভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং এই ডিজিটাল সিস্টেমে অলরেডি আমরা ডিএমপি এবং হাইওয়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরা রেকর্ড দ্বারা, স্পিড ক্যামেরা রেকর্ড দিয়ে কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেমে মামলা চলমান আছে। অতএব, আস্তে আস্তে এটা শৃঙ্খলায় আসবে।
জিপিএস কি শুধু হাইওয়ের গাড়িতে বসবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিপিএস সব গাড়ির জন্য। ধরেন একটা গাড়ি ঢাকার ভেতরে ঢোকার কথা না, সে গাবতলী পর্যন্ত থাকবে, এখন সে চলে এলো কলাবাগান পর্যন্ত বা এদিকে আরামবাগ পর্যন্ত। ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে। এই যে রাস্তায় জোর জবরদস্তি করে যারা, তাকে মামলা দেব, রুট পারমিট নাই, ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করছে কেন, ওই আমিনবাজার ক্রস করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।
তিনি আরও বলেন, এটা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা আশা করছি। সূত্র : ঢাকা পোস্ট।








