শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩২

মাদকের ভয়াবহতা আশিকাটিতে, জড়িত সংঘবদ্ধ চক্র

অনলাইন ডেস্ক
মাদকের ভয়াবহতা আশিকাটিতে, জড়িত সংঘবদ্ধ চক্র

চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানের পর কয়েক বছর বন্ধ থাকলেও আবার মাদকের ভয়াবহতা বেড়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন আশিকাটি ইউনিয়নের উত্তর এলাকায়। একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্র গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে মাদক প্রবেশ করাচ্ছে। যার ফলে মাদকসেবী ও বিক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতোমধ্যে কিছু মাদক কারবারিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

গত ক'দিন ওই এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নের উত্তর এলাকার ৪ নম্বর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের ভয়াবহতার কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইউনিয়ন জুড়ে মাদক কারবারি আছে। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ রালদিয়া থেকে পশ্চিম হোসনপুর গ্রামের বডুর বাজার সংলগ্ন মোল্লা কান্দি এবং দক্ষিণ রালদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ইউনিয়ন পারিবারিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক পর্যন্ত মাদক কারবারিদের আনাগোনা বেশি। বিকেল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় চলে মাদক সেবন ও কেনাবেচা।

তারা আরও জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকার যুব সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকদেরকে মাদকের সঙ্গে জড়াচ্ছে। চক্রের সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের হাসিম গাজীর ছেলে রুবেল গাজী ওরফে গাজী কালু। সে এলাকায় মাদক এনে খুচরা বিক্রি করে। তার বাবা হাসিম গাজীও অনেক পুরনো চিহ্নিত মাদক কারবারি। এছাড়াও প্রকাশ্যে মাদক সেবন বিক্রিতে জড়িত আছে দক্ষিণ রালদিয়া গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে কামরুল খান। তার মাদকের কারবার তার অনপুস্থিতিতে চালায় স্ত্রী। একইভাবে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রিতে জড়িত পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের আলফু গাজীর ছেলে মাসুদ গাজী। কামরুল খান ও মাসুদ গাজীর প্রকাশ্যে মাদক সেবনের চিত্র এখন মানুষের হাতে হাতে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এসব এলাকায় মাদক প্রবেশ করানোর কাজ করেন দক্ষিণ রালদিয়া গ্রামের মৃত এনায়েত খানের ছেলে আবুল খায়ের খান। মূলত সে একজন মাদক পাচারকারী।

এই ইউনিয়নে গত প্রায় ৪ বছর আগে মাদক কারবারে জড়িত ছিলো পতিত সরকারের বিভিন্ন দলীয় পদে থাকা কতিপয় ব্যক্তি। তাদেরকে মাদক থেকে সরিয়ে আনতে সদর মডেল থানা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করে দেয়।

অভিভাবকদেরকে সতর্ক করে দেওয়ার পর দেড় থেকে দু বছর মাদকের ভয়াবহতা কম ছিলো। তবে গেল বছর ৫ আগস্টের পর মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, সন্তানদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ মাদকে জড়িতদের সঙ্গে মিশে তারাও বিপথগামী হচ্ছে। প্রশাসন এদের আইনের আওতায় না আনলে এই এলাকায় লোকজন সন্তানদের নিয়ে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে এলাকায় অপরাধমূলক কাজ বৃদ্ধি পাবে।

তারা আরও বলেন, আমরা এসব বিষয় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। মাদকের এই ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ চাই। এলাকাবাসী তাদের অত্যাচরে অতিষ্ঠ।

চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ওই এলাকার স্থানীয় লোকজন আমাদেরকে মাদকের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছে। পুলিশ কাজ করছে। মাদকে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। সূত্র : ঢাকা মেইল।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়