প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:১১
পলিথিন ও দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর
জুলাই মাসেই চাঁদপুরে প্রায় ৬ লাখ টাকা জরিমানা।। জব্দ ৪৩০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন

পরিবেশ রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি, মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ, অটো রাইস মিলের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, শব্দ ও বায়ুদূষণ প্রতিরোধ, পানি ও খাল দূষণ রোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
|আরো খবর
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে মোট ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রির দায়ে ৮টি মামলায় ১ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং অটো রাইস মিলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাজার থেকে ৪৩০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।
জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলা ও বাজারে এখনও শত শত কেজি পলিথিনের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এই পলিথিন মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে, খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে এবং প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
রাইস মিলের দূষণ রোধে সমন্বয় সভা :
রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অটো রাইস মিল মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাইস মিল থেকে নির্গত ধান সিদ্ধের বর্জ্যপানি, ছাই ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদান কীভাবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণ, পুনঃব্যবহার ও নবায়নযোগ্য সম্পদে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় পরিবেশ সংরক্ষণে আইন মেনে চলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং ভবিষ্যতে দূষণ কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি মাসেই আমরা পরিবেশ দূষণ রোধে অভিযান পরিচালনা করছি। স্বল্প জনবল নিয়েও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, মামলা ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি জানান, নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে অটো রাইস মিলগুলোকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ এবং বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২২ বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করছে। এছাড়া শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
উপ-পরিচালক বলেন, সরকারি খালে শিল্প ও গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলে যারা পরিবেশ দূষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লিফলেটে যা বলা হয়েছে
পরিবেশ অধিদপ্তর জেলার বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—
নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, মজুদ, বিক্রয়, বিতরণ, পরিবহন ও ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ডর মুখোমুখি হতে পারে।
সাধারণ মানুষকে কাপড়, পাট বা অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং নিষিদ্ধ পলিথিন বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধুমাত্র অভিযান বা জরিমানার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাজার কমিটি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
পরিবেশ রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর।
ডিসিকে /এমজেডএইচ









