শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫

অপূর্ণতা

মাহমুদ হাসান সজীব
অপূর্ণতা

এক.

যেখানে সবকিছু শুরু হয়েছিল, অথচ কেউ জানত না শেষ কোথায় শহরটা খুব বড় না, আবার ছোটও না। এমন একটা জায়গা—যেখানে মানুষ একে অন্যকে চেনে, কিন্তু ঠিক করে জানে না।

সকালের কোলাহল, দুপুরের রোদ, আর সন্ধ্যার নিঃশব্দতা—সব মিলিয়ে শহরটা একরকম অভ্যস্ত জীবনের ছবি। আমি তখন প্রতিদিনের মতোই সকালে উঠতাম। চা বানাতাম, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের রাস্তাটা দেখতাম। মানুষ যাচ্ছে, গাড়ি যাচ্ছে, জীবন এগোচ্ছে—আর আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম নিজের ভেতরের একরাশ প্রশ্ন নিয়ে। সেই সময় আমার জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। না খুব খুশি, না খুব দুঃখী। দিন চলত দায়িত্বে, রাত কাটত ভাবনায়। কাউকে বিশেষভাবে দরকার ছিল না—অথচ কোথাও একটা শূন্যতা ছিল। ওর সাথে পরিচয়টা ঠিক এই সময়েই। কোথায়, কীভাবে—সেটা এখন আর ঠিক মনে নেই। শুধু মনে আছে, প্রথম কথাটাই ছিল অদ্ভুতভাবে সহজ। কোনো অভিনয় ছিল না, কোনো বাড়তি আগ্রহও না। তবু কেন জানি মনে হয়েছিল, এই মানুষটার সাথে কথা বলতে আলাদা ভালো লাগছে।

প্রথম কয়েকদিন খুব সাধারণ কথাবার্তা। কেমন আছো, কী করছো, দিন কেমন গেল—এইসব। কিন্তু ধীরে ধীরে কথাগুলো গভীর হতে লাগল। আমরা নিজেদের কথা বলতে শুরু করলাম। ও বলত তার ছোট ছোট কষ্টের কথা, আমি শুনতাম।

আমি বলতাম আমার ভেতরের অস্থিরতার কথা, ও চুপ করে থাকত—মন দিয়ে শুনত। এই শুনে যাওয়াটাই আমাকে টেনেছিল।

কারণ মানুষ কথা বলে অনেক, কিন্তু শোনে খুব কম। দিনের শেষে ওর একটা মেসেজ না এলে মনটা অকারণেই খারাপ হয়ে যেত। আমি সেটা মানতে চাইতাম না। নিজেকে বোঝাতাম—“এটা কিছু না, এমনিই লাগছে।” কিন্তু মন তো আর যুক্তি বোঝে না।

কিছুদিন পর বুঝলাম, ও আমার জীবনের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। যাকে না বলেও অনেক কিছু বলা যায়, যার নীরবতাও অস্বস্তিকর লাগে না। তবু আমরা কেউ কিছু বলিনি। কারণ দু’জনেই জানতাম— এই সম্পর্কের কোনো স্পষ্ট নাম দিলে সমস্যা শুরু হয়ে যাবে। কিছু সম্পর্ক নাম না থাকলেই টিকে থাকে। একদিন সন্ধ্যায় ও বলল, “তুমি জানো, তোমার সাথে কথা বললে মনটা হালকা লাগে।” আমি হাসলাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে বুকটা কেঁপে উঠল। কারণ এই কথাটা খুব পরিচিত লাগছিল— এই কথাই তো ভালোবাসার শুরু হয়। সেদিন প্রথমবার বুঝলাম, আমি ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ছি। আর এই জড়িয়ে পড়াটা একদিন আমাকে ভাঙবেই। তবু থামিনি। কারণ মানুষ জানে আগুনে পুড়বে, তবু আলো দেখে এগিয়ে যায়। আমি তখনও জানতাম না— এই গল্পের শেষটা আমাকে কতটা একা করে দেবে।

দুই.

যেখানে দূরত্ব জন্ম নেয়

সব সম্পর্ক হঠাৎ ভাঙে না। কিছু সম্পর্ক ভাঙে খুব ধীরে, এমনভাবে যে ভাঙার শব্দটাও শোনা যায় না। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটাও ঠিক সেভাবেই বদলাতে শুরু করেছিল। আগের মতো আর নিয়ম করে কথা হতো না। আগে যে মানুষটা দিনে কয়েকবার খোঁজ নিত, সে এখন ব্যস্ত থাকে। মেসেজের রিপ্লাই আসে দেরিতে, কথাগুলো ছোট হয়ে আসে। আমি প্রথমে কিছু বলিনি। ভেবেছিলাম, হয়তো ও সত্যিই ব্যস্ত। আমরাও তো সবাই জীবনের চাপে বদলে যাই। কিন্তু মনটা মানতে চাইছিল না। আগে যেখানে কথা শেষ হতো “কাল আবার কথা হবে” দিয়ে, এখন সেখানে থাকত শুধু “ভালো থেকো।” এই দুইটা শব্দের মাঝখানে যেন অনেক দূরত্ব লুকিয়ে ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম, কিছু একটা বদলাচ্ছে। কিন্তু ঠিক কী বদলাচ্ছে, সেটা জানতে সাহস করিনি। একদিন হঠাৎ করে ও জিজ্ঞেস করল, “তুমি কখনো ভাবো না, আমাদের ভবিষ্যৎ কী?” প্রশ্নটা আমাকে থমকে দিয়েছিল। আমি জানতাম, এই প্রশ্নের কোনো সুন্দর উত্তর নেই। আমি চুপ করে ছিলাম কিছুক্ষণ। তারপর বলেছিলাম, “ভাবি কিন্তু কিছু বলা যায় না।” ও সেদিন কিছু বলেনি। শুধু একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেছিল। সেই দিন থেকেই আমাদের মাঝে একটা অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেল। আমরা আগের মতো কথা বলতাম, কিন্তু আর আগের মতো অনুভব করতাম না। হাসির ভেতরে জোর ছিল না, কথার ভেতরে উষ্ণতা ছিল না। আমি বুঝে গিয়েছিলাম— ও দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে, তখন সে বাস্তবটা দেখতে চায় না। আমি নিজেকে বোঝাতে থাকলাম, “এটা সাময়িক। সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু সব ঠিক হয়নি।

একদিন সন্ধ্যায় ও খুব শান্ত গলায় বলল, “আমার বাসায় আমার বিয়ের কথা চলছে।” আমি তখন চুপ করে ছিলাম। কিছু বলতে পারিনি। মনে হচ্ছিল, কেউ বুকের ভেতর থেকে শব্দগুলো টেনে বের করে নিয়েছে। আমি শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুমি কি রাজি?” ও বলেছিল, “আমার হাতে আর কিছু নেই।” এই কথাটাই আমাকে ভেঙে দিয়েছিল। কারণ আমি জানতাম,

যে মানুষ চায়, সে লড়াই করে। আর যে লড়াই করে না, সে আসলে আগেই হেরে যায়। সেই রাতের পর আমাদের কথা কমে গেল। আমি আর জিজ্ঞেস করিনি, ও আর বলেওনি। দিনগুলো চলতে লাগল। আমি ভেতরে ভেতরে ভাঙছিলাম, আর ও বাইরে বাইরে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিল। একদিন হঠাৎ ও মেসেজ পাঠাল— “আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।” মেসেজটা পড়ার পর আমি অনেকক্ষণ ফোনটা হাতে নিয়ে বসে ছিলাম। কিছু লিখিনি। কিছু বলিনি। মনে হচ্ছিল, যেন কেউ খুব শান্তভাবে এসে আমার বুকের ভেতর থেকে সবকিছু তুলে নিয়ে গেছে। শেষে শুধু লিখেছিলাম, “ভালো থেকো।” ও রিপ্লাই দিয়েছিল, “তুমিও।” এই দুইটা শব্দেই শেষ হয়ে গিয়েছিল আমাদের গল্প। বিয়ের দিন আমি ওকে দেখিনি। কোনো ছবি দেখিনি। কোনো খবর নিইনি। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় অদ্ভুত একটা শূন্যতা নিয়ে বসেছিলাম। যেন আমার জীবনের একটা অধ্যায় চুপচাপ বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর অনেক দিন কেটে গেছে। আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি। হেসেছি, কথা বলেছি, কাজ করেছি। কিন্তু রাত হলেই ওর কথা মনে পড়ত। কখনো ভাবতাম, যদি আমি সেদিন একটু সাহস করতাম। যদি বলতাম— “থেকো, যেও না।” কিন্তু জীবন “যদি” দিয়ে চলে না। কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে শুধু এটা শেখাতে—সবাইকে রাখা যায় না। আর কিছু ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত ভালোবাসাই থেকে যায়, সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে না।

তিন.

একাকীত্বের ভেতর দিয়ে হাঁটা

ওর বিয়ের পরদিন সকালে আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘুম থেকে উঠেছিলাম। অন্তত নিজের কাছে তাই মনে হয়েছিল। ঘরের জানালা দিয়ে রোদ ঢুকছিল, বাইরে মানুষজনের কোলাহল, সবকিছু আগের মতোই ছিল। কিন্তু আমার ভেতরে কিছু একটা বদলে গিয়েছিল, যেটা আর আগের জায়গায় ফিরবে না— এই সত্যিটা আমি তখনো পুরোপুরি বুঝিনি। সেদিন ফোনটা হাতে নিয়েও কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করেনি। যাদের সঙ্গে প্রতিদিন কথা হতো, তাদের মেসেজের রিপ্লাই দিতেও দেরি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, মানুষের শব্দ সহ্য করতে পারছি না। একটা অদ্ভুত নীরবতা আমাকে ঘিরে ধরেছিল। আগে যখন মন খারাপ হতো, আমি ওকে লিখতাম। এখন সেই জায়গাটা ফাঁকা। কাকে বলব, কী বলব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিছুদিন পর বুঝলাম, একাকীত্ব আসলে নিঃশব্দে আসে। কোনো শব্দ করে না, হঠাৎ আঘাতও করে না। ধীরে ধীরে মানুষের ভেতরে ঢুকে পড়ে, তারপর সবকিছু নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়। আমি কাজ করতাম, বাইরে যেতাম, মানুষের সাথে হাসতাম। কিন্তু ভেতরে একটা ভারী ভাব নিয়ে ঘুরতাম সারাক্ষণ। মনে হতো, আমার কথা কেউ ঠিকমতো শুনছে না। আসলে কেউ শোনার মানুষ ছিল না। রাতে ঘুমাতে গেলে সমস্যা হতো। চোখ বন্ধ করলেই ওর মুখটা ভেসে উঠত। ওর কথা বলার ধরন, হঠাৎ হেসে ওঠা, ছোট ছোট অভ্যাস—সব মনে পড়ত। নিজেকে বোঝাতাম, এসব ভাবা ঠিক না। কিন্তু মন কথা শুনত না। একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, আমি বদলে গেছি। চোখের নিচে কালি, মুখে অকারণ ক্লান্তি। যে মানুষটা আগে সহজে হাসত, সে মানুষটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। সবচেয়ে কষ্টের ছিল রাতগুলো। কারণ রাতে কোনো মুখোশ থাকে না। দিনভর যে শক্ত থাকার অভিনয় করি, রাত নামলেই সেটা ভেঙে পড়ে। কখনো মনে হতো, ও যদি হঠাৎ একটা মেসেজ দিত! শুধু লিখত— “কেমন আছো?” আমি হয়তো কিছুই বলতাম না, তবু মনটা একটু শান্ত হতো। কিন্তু সেই মেসেজ আর আসেনি। কিছুদিন পর জানতে পারলাম, ও ভালো আছে। নিজের সংসারে ব্যস্ত, নতুন জীবনে মানিয়ে নিচ্ছে। খবরটা শোনার পর বুকটা হালকা কেঁপে উঠেছিল, কিন্তু কাঁদিনি। কারণ তখন আমি বুঝে গিয়েছিলাম— আমার কষ্টটা শুধু আমার। ওর জীবনে আমার জায়গাটা অনেক আগেই মুছে গেছে। তবু কিছু অভ্যাস যায় না। হঠাৎ কোনো পরিচিত গান শুনলে থেমে যাই। কোনো জায়গা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে মনে পড়ে যায় পুরোনো কথা। কখনো নিজেকেই অবাক লাগে— এত সময় পার হয়ে গেছে, তবু আমি কেন এখনো আটকে আছি? আসলে কিছু সম্পর্ক শেষ হলেও, তার প্রভাব শেষ হয় না। একদিন আমি বুঝলাম, আমি আর কাউকে দোষ দিচ্ছি না। না ওকে, না নিজেকে। আমি শুধু ক্লান্ত। ক্লান্ত এই ভেবে যে, কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে, সবকিছু বদলে দেয়, তারপর নিজের জায়গা থেকে সরে যায়— আর আমরা পড়ে থাকি বদলে যাওয়া জীবনটা নিয়ে। সেদিন প্রথমবার মনে হলো, হয়তো এটাই বড় হওয়া। চুপচাপ সব মেনে নেওয়া, কাউকে দোষ না দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আমি জানি, এই একাকীত্বও একদিন কেটে যাবে। কিন্তু এই সময়টা, এই ভাঙনটা— এটা আমাকে সারাজীবন মনে করিয়ে দেবে, আমি একদিন কাউকে খুব গভীরভাবে ভালোবেসেছিলাম। আর সেই ভালোবাসাই আমাকে সবচেয়ে বেশি একা করে দিয়েছিল।

চার.

যেখানে গল্প থেমে যায়

সময় থেমে থাকে না। কারো অপেক্ষায় না, কারো কষ্টের জন্যও না। দিনের পর দিন কেটে যেতে থাকে, আর মানুষ ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায় নিজের ভাঙন নিয়েই বাঁচতে। আমিও হয়েছিলাম। শুরুর দিকে খুব কষ্ট হতো। একাকীত্বটা গায়ের সঙ্গে লেগে থাকত। কোনো কাজেই মন বসত না, কথা বললেও মন অন্য কোথাও থাকত। কিন্তু সময়ের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সে কাউকে জোর করে ভুলিয়ে দেয় না, শুধু ব্যথাটাকে সহনীয় করে তোলে। আমি আবার নিয়মিত কাজে ফিরলাম। নিজেকে ব্যস্ত রাখলাম। নিজের মতো করে বাঁচার চেষ্টা করলাম। কখনো সফল হলাম, কখনো হলাম না— তবু থামিনি। একদিন হঠাৎ বুঝতে পারলাম, আমি অনেকদিন পর ওর কথা না ভেবেই পুরো একটা দিন কাটিয়ে ফেলেছি। এই উপলব্ধিটা অদ্ভুত রকমের শান্তি দিয়েছিল। তার মানে এই নয় যে আমি ওকে ভুলে গেছি। না, কিছু মানুষ ভুলে যাওয়া যায় না। তারা শুধু স্মৃতিতে রূপ নেয়। একদিন হঠাৎ শহরের এক কোণে ওকে দেখেছিলাম। দূর থেকে। ও পাশে একজনকে নিয়ে হাঁটছিল। হয়তো তার স্বামী, হয়তো তার সংসার। আমি থেমে গিয়েছিলাম। কিন্তু এগিয়ে যাইনি। ওকে দেখে বুকের ভেতর কষ্ট হয়নি। অদ্ভুত এক শান্ত ভাব এসেছিল। মনে হয়েছিল— ও ভালো আছে, এটাই তো আসল কথা। আমি তখন বুঝে গিয়েছিলাম, ভালোবাসা মানে সবসময় কাছে পাওয়া নয়। কখনো কখনো দূর থেকেই ভালো থাকা দেখাটাই ভালোবাসা। সেদিন বাড়ি ফিরে অনেকক্ষণ জানালার পাশে বসে ছিলাম। নিজের জীবনটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো, এই গল্পটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। শিখিয়েছে কীভাবে চুপ করে কষ্ট সহ্য করতে হয়। শিখিয়েছে কাউকে ছাড়তে হলে কীভাবে ছাড়তে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা— নিজেকে হারিয়ে না ফেলে ভালোবাসতে হয়। আজ আমি আর অপেক্ষা করি না। আর কারো ফিরে আসার আশাও রাখি না। আমি শুধু নিজের জীবনের পথে হাঁটি। কারণ এখন আমি জানি— কিছু মানুষ আসে জীবনে, আমাদের বদলে দিতে, থেকে যাওয়ার জন্য নয়। আর কিছু ভালোবাসা থাকে, যার কোনো পরিণতি নেই, তবু সেগুলোই আমাদের সবচেয়ে বেশি পরিণত করে তোলে। এই গল্পটার শেষ এখানেই। কোনো মিলন নেই, কোনো অভিযোগ নেই, কোনো অভিমানও না। শুধু একটা মানুষ আছে, যে একদিন কাউকে খুব ভালোবেসেছিল— আর আজ সেই ভালোবাসাটাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে নীরব স্মৃতি করে রেখে দিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়