শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

ঘুরে এলাম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার

জসিম উদ্দিন ॥
ঘুরে এলাম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মোহনীয় আকর্ষণ আঁকড়ে ধরে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। যারা ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন তারা সময় পেলেই ছুটে যান কক্সবাজারসহ অনেক পর্যটন এলাকায়। শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সবাই দল বেঁধে একসঙ্গে যাওয়ার জন্যে তারিখ ঠিক করেছেন ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। উদ্দেশ্য : জমবে আড্ডা, ঘুরবো আমরা কক্সবাজার। এ আনন্দভ্রমণে আমাদের সকলের পরিবারের সদস্য নিয়ে সঙ্গী হলো প্রায় ১০০ জন।

যাত্রা শুরুর আগে দেখি, সদস্যদের সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হুমায়ুন কবির লিটন ভূঁইয়া লিটন স্যার। গাড়ি ছাড়ার আগে সকলের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে কোটপিন, ব্লেজার, টুপি, গেঞ্জি, মগ।

আমাদের গাড়ি ছেড়েছে রাত ১২টা ৫০ মিনিটে। শুক্রবার সকাল ৮টায় কক্সবাজারে হোটেল লাবণীর সামনে নামলাম। সড়ক পথে শাহরাস্তি থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকত। রাতের বেলা দীর্ঘপথ আরামে পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাই সবাই। হোটেলে কিছুক্ষণ রেস্ট করেই বের হয়ে গেলাম। সবাই মিলে নাস্তা করে চলে গেলাম বিচে। হেঁটেই চলে গেলাম। দেখলাম বালুকাময় সমুদ্রসৈকত। লোনাজলে ফেনিল ছাপ স্পষ্ট, সমুদ্রের গর্জন কিনারে চলে আসে, আছড়ে পড়ে ঢেউ। তা দেখে সবাই মুগ্ধ হচ্ছে। দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, যার দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। শুধু তাই নয়, দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র, সারি সারি ঝাউবন, শীতল বাতাস, আশপাশের পাহাড় দীর্ঘ এ সৈকতের মনোরম দৃশ্য মনের মধ্যে মুহূর্তে প্রশান্তি এনে দিচ্ছে। বিকেলের দৃশ্য দেখার মতো। সূর্য অস্তের সময় দিগন্তের চারদিকে স্বপ্নিল রং ছড়িয়ে বিদায় জানায়। এসব সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে রচনা করেছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। প্রাণভরে মনোরম দৃশ্যগুলো উপভোগ করেছি সবাই। সমুদ্রের সুগন্ধা বিচে নেমে নোনা পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের মধ্যে মজা করতে পেরে সবার মধ্যে কী আনন্দ না বইছে।

আমরা গোসল সেরে দুপুরের ভাত খেতে চলে গেলাম। আমরা ভাত খেয়ে ২ ঘণ্টার মতো হোটেলে রেস্ট করলাম। তারপর যার যেমন কেনাকাটায় ব্যস্ত হই। সন্ধ্যার পর আমরা সমুদ্রের পাড়ে হেঁটে হেঁটে সমুদ্রের মায়াবী রূপ দেখে দেখে সুগন্ধা বিচের দিকে গিয়ে নাস্তা করলাম। তারপর আবার হোটেলে গিয়ে রেস্ট করলাম। রেস্ট করার সময় সবাই একরুমে এসে অনেক মজা করলাম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করলাম। আমরা সবাই হাততালি দিচ্ছিলাম। ছবি, ভিডিও করেছে সকলে মিলে।

রাতে অনেকে বিচে চেয়ার নিয়ে বসে থাকলো। শীতল হাওয়া লাগছে গায়ে, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব--কত না অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য! তার মধ্যে কানে বাজতেছে সমুদ্রের গর্জন। তা দেখতে দেখতে আরিফ শুরু করে দিল তাসরিফ খানের গাওয়া গান ‘মন বসে না শহরে, ইট-পাথরের নগরে, তাই তো আসলাম সাগরে; তাই তো আইলাম সাগরে। এই সাগর পাড়ে আইসা আমার মাতাল মাতাল লাগে।’ আমরা সবাই ওর সঙ্গে গাওয়া শুরু করে দিলাম।

আমরা সমুদ্রের পাড় থেকে রাত ১টার সময় চলে এলাম। ভোরে উঠেই চলে গেলাম সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখতে। তাকিয়ে রইলাম বারবার, সমুদ্র থেকে উঠছে আবার, আলোকিত হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। এরপর নাস্তা করলাম সবাই মিলে। নাশতা করেই ঝাউবাগানে চলে গেলাম। ঝাউবাগানের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে সবার মন প্রশান্তিতে নিমিষেই ভরে যায়। সমুদ্রের চিরায়ত সৌন্দর্য বালিময় পরিবেশে সবাই নামলাম সমুদ্রে, গোসল করলাম, মজা করলাম অনেক। কক্সবাজার গেলে পর্যটকরা সাধারণত কলাতলি, ডলফিন ও লাবণী সৈকতে গোসল করে। এর মধ্যেই লাবণী পয়েন্টে ভিড় বেশি হয়। আমরা লাবণীতেই গোসল করলাম। এরপর হোটেলে গিয়ে গোসল করে নিলাম। এরপর সবার জিনিসপত্র হোটেলের রুমে রেখে সবাই মিলে পরিবারের জন্যে কেনাকাটা করতে চলে গেলাম লাবণী পয়েন্টের ঝিনুক মার্কেটে। সবাই যে যার মতো কেনাকাটা করলো। অনেকেই গেলেন বার্মিজ মার্কেটে, শিল্প মেলা, শুঁটকি মার্কেট ও ফিশ ওয়ার্ল্ডে। মার্কেটে পাইকারি দামে আচার, চকলেটসহ বিভিন্ন কিছু বিক্রি করা হয়। সুগন্ধা বিচের সেখানেও অনেক দোকান আছে, সেখান থেকেও কেনা গেছে। সুবিধা মতো যে কোনো জায়গা থেকে কেনা গেছে। আমরা সবাই কেনাকাটা করার পর ক্লান্ত হয়ে সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে চেয়ারে বসলাম অনেকেই। আড্ডা দিলাম অনেকক্ষণ।

পূর্ব নির্ধারিতভাবে সাংবাদিক পরিবারদের নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেই খেলায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারীদেরকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেয়া হয়। র‌্যাফেল টিকেট বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ ছিলো দেখার মতো।

কক্সবাজার আনন্দ ভ্রমণের অন্যতম সেরা স্থান। এক মজার অনুভূতি নিয়ে যে যার রুমে চলে এলাম। মানসিক প্রশান্তি এবং বিনোদনের জন্যে কক্সবাজার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে মোহনীয় আকর্ষণে হৃদয় কেড়ে নেয় এই সমুদ্র সৈকতটি। এটি সত্যিই একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্রসৈকত।

পরিশেষে অশেষ ধন্যবাদ জানাই শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সফল সভাপতি মঈনুল ইসলাম কাজল এবং স্বপন কর্মকার মিঠুনসহ সকল সদস্যকে, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং সহযোগিতায় এতো সুন্দর একটি আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠান সফল হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়