শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৪, ০০:০০

এসির বিকল্প কী হতে পারে

আজরিন খান নাবিহা
এসির বিকল্প কী হতে পারে

তাপদাহে আজ জনজীবন প্রায় দুর্বিষহ। এবার বাংলাদেশের চুয়াডাঙায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু বাংলাদেশই নয়, পশ্চিমা বিশ্ব ও আজ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। প্রচন্ড গরমে গুরুতর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে ইউরোপের দক্ষিন দিকের ভূমধ্যসাগর সংলগ্ন এলাকায়। গ্রীসের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, লাস ভেগাসে ৪৫ ডিগ্রি এবং ডেথ ভ্যালিতে ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর সংকটকালীন এই সময়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে গাছ লাগানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক মো: শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত হবার সাথে সাথে নগরায়ন বাড়বে। কিন্তু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শহরগুলোকে একটি মাস্টার প্ল্যানের আওতায় এনে গ্রিনারি বাসবুজায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধের দেশ হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন সময় সূর্যের আলোএই অঞ্চলে খাড়াভাবে তাপ দেয়, যার ফলে এই অঞ্চল হয়ে উঠে বেশ উত্তপ্ত। তীব্র এই গরম থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো গাছ। যা নির্দিষ্ট পরিমানে না থাকার কারণেই পৃথিবী আজ এত উত্তপ্ত। একটি দেশের মোটআয়তনের প্রায় ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকার কথা হলেও বর্তমানে গাছপালার সংখ্যা সেই হারে নেই। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গাছকে প্রাধান্য না দিয়ে মানুষ বর্তমানে এয়ার কন্ডিশনারের দিকে ঝুকঁছে। যা ঘরের ভিতরের পরিবেশকেঠান্ডা রাখলেও বাইরের পরিবেশকে দূষণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আর ঠিক এক্ষেত্রে আমরা যদি এসি ক্রয়ের পরিবর্তে বেশি বেশি গাছলাগাতে পারি, তাহলে প্রাকৃতিক উপায়ে পরিবেশে শীতলতা নেমে আসবে। গাছপালা প্রাথমিক ভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পৃথিবীর প্রায় ৮৫ ভাগ কোরাল রিফগুলোই আজ মৃত।

গাছ সাধারণত পরিবেশ থেকে কার্বন-ডাই অক্সাইড শোষন করে অক্সিজেন ত্যাগ করে থাকে। গবেষনায় দেখা যায় একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গাছ ১০জন মানুষের বার্ষিক অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করে। বাতাস থেকে ৬০ পাউন্ডের অধিক বিষাক্ত গ্যাস শোষন ও ১০ এসির সমপরিমান তাপনিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও শত শত টন কার্বন শোষনের মাধ্যমে বায়ুর দূষণরোধ ও তাপদাহ চলাকালীন প্রস্বেদনের মাধ্যমে প্রায় ১০০ গ্যালনজল নির্গত করে, যা পরিবেশকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। আরেক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে গাছপাল্ াশব্দদূষণ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। বলা হয়েছে, এক হেক্টর পরিমান মাঝারি বন ১০ ডেসিবেল শব্দ হ্রাসকরতে পারে।

এই বছরে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দাড়িঁছে ১৭.২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যাবিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। তাই গবেষকরা গ্রীষ্মকালীন সময়ে তাপমাত্রা কমাতে শহরাঞ্চলে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। এসি আজ অধিকাংশ মানুষের নিত্য দিনের ব্যাবহারের পন্য হলেও প্রচন্ড গরমে সমাজের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মানুষের সহ শহরাঞ্চলের মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। তাপদাহ নিয়ন্ত্রণে গাছই সহজসমাধান, হয়ে উঠবে কৃত্রিম এসির বিকল্প প্রাকৃতিক এসি ।

আজরিন খান নাবিহা : আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ, ৯ম শ্রেণী। ক শাখা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়