শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

খণ্ডে খণ্ডে অখণ্ড জীবন

পীযূষ কান্তি বড়ুয়া

(১০ম পর্ব)

বন্যা কবলিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের একসময় খুব দুর্দিন গেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সে সময় বাংলাদেশ আজকের মতো শক্ত কোনো অবস্থানে ছিলো না। আজ হয়তো স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে দুর্যোগ মোকাবেলার পরামর্শক নিয়ে যায়। কিন্তু একটা সময় বাংলাদেশকে বন্যা হলেই তাকিয়ে থাকতে হতো বিদেশি সাহায্যের জন্যে। এখন সে অবস্থা আর নেই। ঊনিশশো আটানব্বই সালে আমরা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলাম। এ সময় আমাদের মেডিকেল কলেজ বিতর্ক দল বাংলাদেশ টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েছিলো। প্রথমবার বিতর্ক করেছিলো হুমায়ূন ভাই, যুবরাজ ভাই আর যাহেদ। দ্বিতীয়বার যাই আমি, হুমায়ূন ভাই এবং যুবরাজ ভাই। সে সময় তীব্র বৃষ্টি হয়েছিলো। অতিবৃষ্টি এবং ভারত হতে নেমে আসা পানির ঢলে সেবার বাংলাদেশের প্রায় বায়ান্নটি জেলা জলমগ্ন ছিলো। একটানা দীর্ঘ আড়াই মাস এ বন্যা স্থায়ী ছিলো। এ বন্যার সময়েই আমাদের চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে যেতে হয়েছিল ঢাকা। তখন রেলপথ ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জায়গায় জায়গায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিলো। তবুও আমরা টেলিভিশন বিতর্ক করতে গিয়েছিলাম ঢাকায়। ট্রেনে উঠেই সিট নিয়ে মুরুব্বি গোছের একজনের সাথে আমাদের মন কষাকষি হয়। তাকে একহাত নেওয়ার জন্যে আমরা একেক জন বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করেছিলাম।

কমলাপুর রেলস্টেশনে নেমে আমরা সোজা চলে গেলাম রামপুরা টেলিভিশন ভবনে। বিতর্ক করতে গেলেও যে মেক আপ লাগে তা সেদিন দেখলাম। আমাদের বিতর্কে সভাপ্রধান ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রবীন্দ্র গবেষক ড. আতিউর রহমান। আমাদের বিতর্কের বিষয় ছিলো,' বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্রে রাখা উচিত।' টেলিভিশন ভবনে আমাদের প্রযোজক ছিলেন প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া। তিনি আমার স্ক্রিপ্ট লেখা দেখে হাতের লেখার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিতর্কে আমরা শেষ পর্যন্ত হেরে যাই।

নিরানব্বই সালের শেষের দিকে আমাদের পঞ্চম বর্ষ সমাপনী ঘটে। এই আয়োজনে আমি একটা হাসির সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখি, যা রিটনের সহায়তায় পূর্ণতা পায়। যদিও নাম দিয়েছি সিনেমা, তা কিন্তু একঘন্টার একটা নাটকই ছিলো। এতে নায়িকার ভূমিকায় ছিলো লুবনা আর নায়কের অভিনয়ে ছিলো রিটন। বাংলা সিনেমার শাবানার মতো ডায়ালগ ছিলো তাতে, ‘চৌধুরী সাহেব...’। তবে সৌভাগ্য বলি আর দুর্ভাগ্য বলি, সেই সিনেমায় কেউই বাংলা সিনেমার শাবানার সেলাই মেশিনের দেখা পায়নি, যা দিয়ে রাতারাতি বস্তির বাসিন্দা থেকে গাড়িচড়া বড়লোক হওয়া যায়। আমাদের সেই নাটক ওরফে সিনেমা বেশ আলোচিত হয়েছিলো। বাংলা ছবির আদলে আমরা তার ইংরেজি নাম দিয়েছিলাম 'দ্য নিউ টাইটানিক।'

আমাদের পঞ্চম বর্ষ সমাপনী উৎসবের শোভাযাত্রাটা বেশ জমজমাট ছিলো। পেশাদারী রূপসজ্জাকর আমরা এনেছিলাম। অনেকেই অনেক কিছু সেজেছিলো। হক মওলার সাজে আব্বাসকে হুবহু সত্যি মনে হয়েছিলো। লাবণ্য ছিলো জাদুর কাঠি হাতে ঠিক যেন পরি। কোটালপুত্র আর সৈন্য-সামন্ত সেজে গোপাল, জাহাঙ্গীর বেশ মজা করেছিলো। তারা ক্ষণে ক্ষণে নকল তরোয়াল নিয়ে মকশো করছিলো, যেন একটু হলেই এক ঘা-তে ঘ্যাচাং হয়ে যাবে। আমাদের যে প্রকাশনাটা হয়েছিলো তাতে আমি আমার সকল সতীর্থকে নিয়ে এক লাইন-দুই লাইন করে স্মৃতি হাতড়ানো ছড়া লিখে সকলের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলাম। তবে 'এ' ব্যাচের সোহেল তাকে নিয়ে লেখা দুছত্র মেনে নিতে পারেনি। তার যুক্তি ছিলো, সেই ম্যাগাজিন সবাই পড়বে। কাজেই এটা সে কীভাবে ঘরে নিবে? তার রাগ কমাতে আমাকে খুব কসরত করতে হয়েছিলো।

দুহাজার এক সালে এসে দেশে হয়ে গেলো সালসা মার্কা নির্বাচন। এতে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হতে না হতেই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আগের সরকারের নিয়োগ প্রাপ্তদের বদলি করতে থাকে। সেই নির্বাচনে জিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে আমাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে অবশ্য পনের দিন বাইরে থেকে আবারও কলেজে ঢোকার অনুমতি পাই। আমাদের তৎকালীন ক্যাম্পাস ছিলো বেশ বড়ো। ফলে কেউ কারো নামে কান ভারী না করলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসার কথা ছিলো না।

আমাদের পাঁচ বছরের শিক্ষা জীবনে তিনটি প্রফের মুখোমুখি হতে হতো। প্রফ মানে হলো প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে নেওয়া হতো। প্রথম প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষা ছিলো দ্বিতীয় বর্ষের পরে। আর তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের সিলেবাস শেষে হতো দ্বিতীয় প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষা। পঞ্চম বর্ষের পাঠ শেষে হতো ফাইনাল প্রফ। এই ফাইনাল প্রফের সার্জারি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা ছিলো যমের ঘরে গিয়ে ফিরে আসার মতো। যে রোগীরা পরীক্ষার নমুনা হিসেবে থাকতো, তারা ছিলো মহা ত্যাঁদড়। তারা খুব সহজে আসল কথা বলতো না। কতো জুস খাইয়ে, বখশিশ দিয়ে তবে তাদের মন জয় করতে হতো। না হলে পরীক্ষক যখন কাছে যেতেন তখন তারা উল্টাপাল্টা বলতো যা নির্ঘাৎ ফেলের পূর্বাভাস।

ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর আমাদের ইন্টার্নশিপ শুরু হলো। আমাদের ইন্টার্ন ডাক্তারের আহ্বায়ক নির্বাচিত হয় বন্ধু শওকত। শওকত ছিলো একজন করিৎকর্মা লোক। তার নেতৃত্বে আমরা আমাদের সময় দারুণভাবে উপভোগ করেছি। আমাদের ওয়ার্ড শুরু হলো সার্জারি দিয়ে। আমার প্লেসমেন্ট ছিলো ডাঃ ওমর ফারুক ইউসুফ স্যারের ওয়ার্ডে। আমাকে যে বেডগুলো বন্টন করে দেওয়া হয়েছিলো তাতে একজন কয়েদী ছিলো, যে ছিলো আদতে ডাকাত। জেল হাসপাতাল থেকে জটিলতার কারণে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তার ছিলো পারফোরেশন। অর্থাৎ ক্ষুদ্রান্ত্র ফুটো হয়ে গিয়েছিলো। গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষ নিজে নিজে অল্প ক'টাকার ব্যথার বড়ি খেয়ে নিজেদের আরাম নিজেরাই খুঁজে নেয়। এতে সাময়িক আরাম মিললেও ধীরে ধীরে পেটের অন্ত্র ফুটো হয়ে যায় এবং পেটের খাবার-দাবার উদর গহ্বরে চলে আসে। ডাকাত রোগীটার হাত-পায়ের নখগুলো যেমন লম্বা ছিলো, তেমনি চুল-দাড়িও বড় ছিলো। অপুষ্টি ও অপরিষ্কারজনিত কারণে তার অপারেশনের ক্ষত মোটেই শুকাচ্ছিলো না, বরং দিনকে দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো। আমি ব্লেড কিনে তাকে মুণ্ডিত মস্তক বানিয়ে দিই এবং অনুমতি নিয়ে দাড়িও ছেঁটে দিই। এতে তার পরিচ্ছন্নতা ফিরে আসে। ক্ষত শুকোতে হলে দেহে পর্যাপ্ত রক্ত থাকা চাই। দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ছিলো বিধায় তার দেহে আমার উদ্যোগে আমি হেমাক্সিল ফ্লুইড প্রদান করি, যাতে তার অপারেশনের ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। আমার এই কৌশলে কাজ হলো। প্রতিদিন তার ক্ষত ড্রেসিং করতে গেলে গন্ধে আমার পেট উল্টে বমি আসার জোগাড় ছিলো। আমার আপ্রাণ চেষ্টা দেখে কয়েদী রোগী আমাকে সান্ত¡না দিতে মাঝে মাঝে বলতো, 'আপনি আমার আব্বা।' সেই রোগীটার একদিন ঔষধ কেনার সামর্থ্য ছিলো না বিধায় আমি আমাদের ওয়ার্ডের দরিদ্র তহবিল থেকে বেশকিছু ঔষধ দিয়েছিলাম। এই দরিদ্র তহবিল কিন্তু কোনো সরকারি তহবিল নয়, বরং এটি হলো আমাদের ইন্টার্ন ডাক্তারদের উদ্যোগে ভিজিট করতে আসা ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা স্যাম্পল। প্রায় মাসখানেক ভোগার পর কয়েদী রোগী আবারও জেল হাসপাতালে ফেরত যায়। যাওয়ার আগে তার বাড়ির আম গাছের আম সে আমার জন্যে নিয়ে আসে লোক মারফত।

সাইকিয়ার্ট্রি ওয়ার্ডে একটা ভিন্ন গন্ধ থাকতো। এই ওয়ার্ডে ডিউটি অনেকেই ফাঁকি দিতো। কিন্তু আমার কাছে এই ওয়ার্ডের পরিস্থিতিটাই মজা লাগতো। এই ওয়ার্ডে সব কয়েদী নিজেকেই সেরা মনে করতো। একদিকে একজন বলতো জয় বাংলা আর অন্যদিকে আরেকজন তার উত্তর দিতো ধানের শীষ। কেউ কেউ নিজেকে বড় কোনো কর্মের জন্যে প্রেরিত পুরুষ বলে মনে করতো। কেউ কেউ ভাবতো, সে বের হলেই তাকে মেরে ফেলবে, কেননা, তাকে জানানো হয়েছে, কক্ষের বাইরে ঘাতক লুকিয়ে আছে। সাইকিয়ার্ট্রি ওয়ার্ডে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি হলো রোগীকে ইসিটি দিতে দেখা। ইসিটি মানে হলো ইলেক্ট্রো কনভালসিভ থেরাপি। অর্থাৎ সোজা বাংলায় বললে কারেন্টের স্যাঁক। কখনো বাই পোলার বা দুই প্রান্তে স্যাঁক দেওয়া হতো, আর কখনো এক পার্শ্বে। কারেন্টের স্যাঁক দেওয়ার পর পর রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে থাকে, যেন নিস্তেজ। এ সময় বড়ো মায়া হতো আমার।

ছেলেদের জন্যে গাইনি ওয়ার্ড মানেই একটা দোজখখানা। এখানে হাউকাউ বেশি হয়। যেমন রোগীর লোকেরা বেশি কথা বলে, তেমনি আয়ারাও চিল্লাচিল্লি করে। দুর্গন্ধে এখানে টেকা দায়। কাউকে কাউকে বলা হয় নিচের দিকে চাপ দিতে, আর কেউ কেউ আসন্ন প্রসবের ব্যথায় কাঁদতে থাকে। মাঝে মাঝে চাপ দিতে গিয়ে হবু মায়েদের মলও বের হয়ে যায়। যে সকল মায়ের চাপ কম হয় তাদেরকে ভ্যাকুয়াম টিউব দিয়ে টানতে হয়। এতে মায়ের পেটের ভিতর নেগেটিভ প্রেশার তৈরি হয়।

স্কিন ও ভেনারেল ডিজিজ-এর ক্ষেত্রে যৌন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পেটের ভিতর থেকে কথা বের করাটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তবে তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্যে কখনো কখনো মাংসে ইঞ্জেকশন দিতে হয়। এদের পার্টনার ট্রেসিং করতে পারাটা একটা আর্ট। রোগীদের রোগ নিরূপণে রোগের ইতিহাস ভালো করে জানা জরুরি। মেডিসিন ওয়ার্ডে যেদিন ওপিসি পয়জনিংয়ের কেস আসে সেদিন খুব মেহনত হয়। রোগীকে নিয়ে আশঙ্কা থাকে। ওপিসি পয়জনিং মানে হলো ধানের পোকা মারার ঔষধ বা এনড্রিন খেয়ে ফেলা। ওপিসি দিয়ে অর্গ্যানো ফসফরাস কম্পাউন্ডকে বুঝানো হয়।

নিউরো সার্জারির ওয়ার্ড ছিলো অনেক বড়ো। প্রায় আটাশিটা বেড ছিলো। এখানে এক্সিডেন্টের রোগী যেমন ভর্তি হতো তেমনি রুটিন কেইসও ভর্তি হতো। একা এই ওয়ার্ড ম্যানেজ করা কঠিন। সাধারণত দুটোর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ওয়ার্ড থাকতো ইন্টার্নদের হাতে। এরপরে সিএ বা অনারারী মেডিকেল অফিসাররা আসতেন। এই ওয়ার্ডে একজন বয়স্ক ওয়ার্ড বয় ছিলেন। তার নাম ছিলো ফজলু। এক্সিডেন্টের রোগী আসলে তিনি সাহস দিতেন আমাদের। কারও মাথার ঘিলু বের হয়ে গেছে, কেউ উপর থেকে পড়ে গেছে--এ রকম রোগী আসলে তিনি প্রথমে মাথা কামিয়ে দিতেন রেজর দিয়ে। এরপরে আমরা ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ করে সেলাই করে দিতাম। আসলে নিউরোসার্জারি বিভাগই আমাদের সাহস যুগিয়েছে সেলাই দিতে। শিশু সার্জারি বিভাগে তাহমিনা বানু ম্যাডামের হম্বিতম্বি আমাদের জন্যে নতুন ছিলো না। তিনি নিজেই সারাক্ষণ ভুল ধরে আর বকা দিয়ে ঘাম ঝরিয়ে ওয়ার্ড মাতিয়ে রাখতেন।

ইন্টার্নশিপ করার পাশাপাশি মেহেদীবাগ গোল পাহাড়ের মোড়ে এভারগ্রীন ক্লিনিকে ডিউটি করতাম। এখানে এসেই নাজিম ভাইয়ের খুব কাছে চলে আসি। তিনি এনেস্থেসিয়ার ডাক্তার। অবেদনবিদ। ছাত্ররাজনীতির ক্যাডার ছিলেন। তবে খুবই স্নেহ বৎসল। মাঝে মাঝে তার বাসা থেকে টিফিন ক্যারিয়ারে করে ভাত আসলে দুজনে মিলে খেতাম। তার হয়ে অনেক লেখা আমি লিখে দিয়েছিলাম। বিভিন্ন দপ্তরে অফিসিয়াল চিঠি। এখানে এসে মর্তুজা ভাইয়ের দেখা পাই। তিনি তখন হাটহাজারীর টিএইচএফপিও ছিলেন। ক্লিনিকে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিলো সমন্বয় করা। এটা করতে গিয়েই জেরবার হতে হতো। এভারগ্রীন ক্লিনিকে কাজ করার পর কিছুদিন পলি ক্লিনিক এবং মাউন্ট ক্লিনিকেও কাজ করেছি। (চলবে)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়