বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬

রবি ও বৃহস্পতিবারে বাবুরহাটে জমে ওঠে পশুপাখির হাট

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
রবি ও বৃহস্পতিবারে বাবুরহাটে জমে ওঠে পশুপাখির হাট

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ চাঁদপুর পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী বাবুরহাট বাজার। মতলব রোডের এ অংশটি যেন কখনোই ঘুমায় না। দিন-রাত এখানে লেগেই থাকে মানুষের ছোটাছুটি আর যানবাহনের ব্যস্ততা। দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন এলাকার যানবাহন এখান থেকে চলাচল করে। সড়কের দু পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের দোকান। পথচারীদের ভিড়, দোকানের সামনে ক্রেতাদের দাঁড়িয়ে থাকা আর যানবাহনের অবিরাম চলাচল মিলিয়ে এমনিতেই ব্যস্ত এই সড়ক। তবে রোববার আর বৃহস্পতিবার এলে এই ব্যস্ততার মাত্রা যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মানুষের ভিড়ের সঙ্গে যোগ হয় সাপ্তাহিক হাটের আনাগোনা। একদিকে গাড়ির হর্ন, অন্যদিকে মানুষ ও পশুপাখির হাঁকডাক মিলিয়ে বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মহাসড়কের পাশেই তৈরি হয় ব্যস্ততার ভিন্ন চিত্র।

রোববার এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয় ব্যস্ততা। তবে পশুপাখির এ হাটে সন্ধ্যা হলেই ভিড় কমে যায়। বাজারের একপাশে যেন নেমে আসে অন্য জগৎ। সারি সারি খাঁচা, ঝুড়ি আর বাঁশের খুপরি। কোথাও ডানা ঝাপটানোর শব্দ, কোথাও কবুতরের গুঞ্জন। দেশি মুরগিসহ কম-বেশি বিভিন্ন জাতের পাখি ও প্রাণীর দেখা মেলে হাটে। আবার পাখির খাঁচা, মুরগির খাঁচাসহ নানা রকমের পশুপাখি পালনের বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। হাটের একপাশে ঢুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি হাঁসের খাঁচা। সাদা, কালো, ছোপ ছোপ নানা জাতের হাঁসে ভরে আছে প্রাঙ্গণ। খাঁচার ভেতর ডানা ঝাপটানো আর একসঙ্গে অসংখ্য হাঁসের ডাকের সঙ্গে মিশে আছে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক ও দরদাম। সব পাখির ভিড়ে হাঁস ও কবুতরের সংখ্যাই যেন বেশি চোখে পড়ে। তাই দুদিনের সাপ্তাহিক এই হাটকে ‘পশুপাখির রাজ্য’ বলাই যেন বেশি মানানসই। এ ছাড়া এখানে বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর বাচ্চার পাশাপাশি ছাগল, দেশি মুরগি ও বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চাও পাওয়া যায়।

হাটে দেখা যায়, এক তরুণ হাঁসের বাচ্চা কিনছেন। কাছে গিয়ে কথা বললে জানা যায়, তার নাম মোস্তাফিজ। তিনি একজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। কল্যাণপুর ইউনিয়নের রঙ্গেরগাঁও গ্রামে তার বাড়ি। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসাও করেন তিনি। মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই হাঁস পালনের উদ্যোগ নিয়েছি। বাবুরহাট সাপ্তাহিক পশুপাখির হাটে এসে ছয়টি হাঁসের বাচ্চা কিনেছি। মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য চিনা জাতের হাঁস বেছে নিয়েছি। আপাতত অল্প পরিসরে পালন করে দেখতে চাইÑহাঁসগুলো কীভাবে বেড়ে ওঠে, পালন করতে কী ধরনের সুবিধা বা অসুবিধা হয় এবং সব মিলিয়ে ফলাফল কেমন আসে।” মোস্তাফিজ বলেন, “প্রাথমিকভাবে পালন করে যদি সবদিক ভালো মনে হয়, তাহলে ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়িয়ে ব্যবসা হিসেবে শুরু করার পরিকল্পনা আছে। তবে আমার উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসা করে লাভ করা নয়; সাধারণ মানুষের জন্যেও যেন কিছুটা সেবামূলক হয়। তাই ভবিষ্যতে হাঁস বিক্রির ক্ষেত্রে সীমিত লাভ রেখে তাদের কাছে তা বিক্রি করার ইচ্ছা আছে।”

হাটের একপাশে তাকালেই দেখা মেলে সারি সারি কবুতর ও হাঁসের খাঁচা নিয়ে বসে আছেন অসংখ্য ব্যবসায়ী। কবুতর ও হাঁসের ডাক আর ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখরিত পুরো এলাকা। বিভিন্ন জাতের হাঁসের ভিন্ন ভিন্ন ডাক মিলেমিশে যেন তৈরি করেছে অন্যরকম কোলাহল। বিশেষ করে যেসব হাঁস মাংস বেশি দেয়, সেগুলোর সংখ্যাই বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারাও আসছেন হাঁস কিনতে। সব মিলিয়ে হাটজুড়ে হাঁসের ডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর ব্যস্ততায় তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত দৃশ্য। এরই ফাঁকে কথা হয় জলিল নামের এক হাঁস ব্যবসায়ীর সঙ্গে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি হাঁসের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই হাটে গত দু বছর ধরে নিয়মিত হাঁস বিক্রি করছেন তিনি।

চারজন মিলে হাঁসের ব্যবসা করেন তারা। শুধু বাবুরহাটেই নয়, মতলব বাজার, হাজীগঞ্জ, নায়েরগাঁও ও চান্দ্রা বাজারসহ বিভিন্ন হাটেও তারা হাঁস নিয়ে যান। সব মিলিয়ে মাসে ২০টি হাটে হাঁস বিক্রি করেন তারা।

ক্রেতাদের হাঁস দেখানোর ব্যস্ততার মাঝেই তিনি বলেন, “আমরা গ্রামের বিভিন্ন খামার থেকে হাঁস কিনে আনি। এরপর সেগুলো বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রি করি। একেকটি চালানে ৫০০-এর মতো হাঁস নিয়ে আসি। হাঁসের বয়স, আকার ও জাত অনুযায়ী ক্রেতাদের চাহিদা থাকে। তাই হাটের চাহিদা বুঝে হাঁস সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করার চেষ্টা করি। বর্তমানে প্রতি জোড়া হাঁস ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি করছি।”

হাটে সাধারণ দেশি কবুতর জোড়া প্রায় ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা; ভালো মানের রানিং বা প্রজননক্ষম কবুতর জোড়া প্রায় ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা এবং শিরাজী ও ফেন্সিসহ বিভিন্ন জাতের কবুতর জোড়া ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রেসার বা উন্নত জাতের কবুতরের দাম কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের পাখিও হাটে পাওয়া যায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়