প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮
জেলার দুটি সেচ প্রকল্পের আখচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে
ফসলি জমিতে আটকে থাকা পানি নিষ্কাশনের পথ নেই

জুলাই-আগস্টের টানা বৃষ্টিতে চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন আখচাষিরা। বিশেষ করে কর্তন মৌসুমে এসে জলাবদ্ধতার কারণে চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলার আখচাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় আখের গোড়ায় পচন ধরেছে এবং শাঁস লালচে হয়ে যাচ্ছে। ফলে সময়মতো আখ বিক্রি করতে না পারায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
সরেজমিনে ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বহু বছর ধরে চাঁদপুরে আখের আবাদ হয়ে আসছে। এ জেলায় ‘চাঁদপুর গ্যান্ডারি’ জাতের আখের চাষ বেশি জনপ্রিয়। চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ৬০৫ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এবং মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এলাকায় আখের আবাদ বেশি হয়েছে।
বর্তমানে আখ কর্তনের মৌসুম চলছে। এ বছর আখের ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। প্রতিদিন বিভিন্ন আখের জমিতে শ্রমিকরা আখ কাটছেন। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চাঁদপুর সদরের ফরাক্কাবাদ ও ফরিদগঞ্জের আখচাষের জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কর্তন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
চাষি আবু জাফর ও জামাল মিয়া জানান, ভালো ফলনের আশায় তারা ঋণ করে আখের আবাদ করেছেন। কিন্তু এখন বেপারীরা আখ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, বেপারীরা আখ কিনে বাজারজাত করতে পারছেন না বলে জমি থেকে আখ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছেন। অন্যদিকে জমিতে পানি জমে থাকায় আখ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে উৎপাদন খরচ ও বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
চাষিদের মতে, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে আখের গোড়ায় পচন ধরেছে। কোথাও কোথাও আখের শাঁস লালচে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
আখ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল জানান, তিনি জমি থেকেই আখ কিনেছেন। কিন্তু বর্তমানে সেই আখ বিক্রি করতে পারছেন না। জমিতে পড়ে থাকা আখে পচন ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। জমি কেনার সময় লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে ব্যবসায়ীদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোহাগড়, মানিকরাজ ও রাজাপুরের কৃষকরা জানান, চাঁদপুরের আখ নদী ও সড়কযোগে ঢাকা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাজারজাতকরণের সমস্যার কারণে এবার আখ বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দিকী বলেন, চলতি বছর জেলায় ৬০৫ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। চাঁদপুরের আখ মূলত চিবিয়ে খাওয়ার জন্যে জনপ্রিয়। জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় তুলে ধরা হয়েছে। শুধু আখ নয়, অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যাতে উৎপাদন করে লাভবান হতে পারেন, সে জন্যে কৃষি বিভাগ সব সময় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।







