শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:০৩

ফরিদগঞ্জে ঘুষি দিয়ে হত্যার তিন ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আটক করলো পুলিশ

পোস্টমর্টেম ও জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন অটোরিকশা চালক বিল্লাল হোসেনের

প্রবীর চক্রবর্তী
পোস্টমর্টেম ও জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন অটোরিকশা চালক বিল্লাল হোসেনের
ছবি :গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা

IMG 20260315 WA0031

ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামে কলাপাতা কাটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের এবং পরবর্তীতে এটা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ঘুষিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সিএনজি অটোরিকশা চালক বিল্লাল হোসেন, যার মরদেহের পোস্ট মর্টেম শেষে শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে বিকেলে বিল্লাল হোসেনের লাশ পোস্টমর্টেম শেষে বাড়িতে পৌঁছলে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের স্ত্রী ও সন্তান এবং স্বজনদের আহাজারিতে কেঁপে উঠে পুরো এলাকা। মামলার বাদী বড়ো ছেলে কাউছার হোসেনকে এ সময় পিতার জন্যে অঝোরে কান্না করতে দেখা গেছে। উপস্থিত লোকজনের একটাই কথা, এই নির্মম হত্যার বিচার তারা প্রত্যাশা করেন। পুলিশ আসামিদের দ্রুত আটক করায় তারা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) ইছাপুরা গ্রামের রমজান আলী লিটনের দোকানের সামনে সিএনজি অটোরিকশা চালক বিল্লাল হোসেন নিহত হওয়ার তিন ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের আটক করতে সমর্থ হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন : ওই এলাকার মৃত রুস্তম আলীর ছেলে আবুল বাশার (৬৩), তার দু ছেলে মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) ও মো. ইমাম হোসেন (৩০)।

পুলিশ জানায়, নিহত বিল্লাল হোসেনের ছেলে কাউছার হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের (ফরিদগঞ্জ থানার মামলা নং-২৪, তারিখ-১৩/০৩/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড) করেন। এদিকে হত্যার ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে থানা পুলিশের বেশ ক’টি টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।

থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, ঘটনার পরপরই আমাদের কয়েকটি টিম কাজ শুরু করে। আমরা কেউই ইফতার করার সময় পাইনি। পথিমধ্যে পানি খেয়ে রোজা ভেঙ্গে আবারো আসামিদের ধরতে ছুটেছি, তাই তারা বেশিদূর যেতে পারেনি।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের দিকনির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমার নেতৃত্বে ঘটনার তিন ঘন্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঁদপুর শহরের কালী বাড়ি এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। পরে শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) তাদের চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করে।

এদিকে নিহতের ছেলে কাউছার হোসেন তার পিতার হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, একটি তুচ্ছ ও সামান্য ঘটনা নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয় আবুল বাশার। এ বিষয় নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আমার বাবাকে প্রতিপক্ষরা ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দিলে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

ঘটনার সময়ের বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় কামাল ভেন্ডার, সাদ্দাম, রমজান আলী লিটন জানান, ইছাপুরা গ্রামের বিল্লাল হোসেন ও আবুল বাশারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এসব বিষয় নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন আবুল বাশার। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শুক্রবার বিকেলে থানায় আসার জন্যে বলে আসে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উভয়ের মধ্যে এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিল্লাল হোসেনকে হঠাৎ করেই পেছন দিক থেকে ঘাড়ে ঘুষি দেয় প্রতিপক্ষ। এতে বিল্লাল মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়