শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০১:১৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৩৩

মানুষের হৃদয়ে আছি বলেই বারবার নির্বাচন করি এবং বিজয়ী হই, আগামীতেও নির্বাচন করবো

..................জসীম উদ্দীন স্বপন মিয়া

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট
মানুষের হৃদয়ে আছি বলেই বারবার নির্বাচন করি এবং বিজয়ী হই, আগামীতেও নির্বাচন করবো
ক্যাপশন : সম্ভাব্য প্রার্থী জসীম উদ্দীন স্বপন মিয়া।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবারও নির্বাচন করতে চান বিশিষ্ট সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও বারবার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত ইউপি সদস্য ও তিনবারের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া। যিনি এক নামে স্বপন চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি করেন এবং ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নে সফলতার সাথে ধারাবাহিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ছোটকাল থেকেই নিজ ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপির সমর্থনকারীদের মধ্যে এক প্রিয় ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। মিষ্টভাষী ও সৎ মানসিকতার কারণে এলাকার ছোট-বড়, ধনী-গরিব হিন্দু-মুসলিম, নারী-পুরুষ এবং সকল রাজনৈতিক দলের কাছে তিনি পছন্দের মানুষ। তবে বিএনপির প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসার কারণে বিভিন্ন সময় প্রতিপক্ষ দল আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক মামলায় হয়রানি হয়েছেন, অসংখ্যবার জেল খেটেছেন।

জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়ার পারিবারিক ঐতিহ্যের ইতিহাস অনেক বড়ো। পরিবারটি অর্থবিত্তে অনেক ধনবান। তিনি অন্য কোনো কর্মে জড়িয়ে গেলে হয়তো বর্তমান থেকে আরও অনেক বড়ো বিত্তবান হতে পারতেন। কিন্তু বিএনপির রাজনীতি ও সামাজিক কাজের প্রতি অন্ধ হয়ে বিলাসিতার জীবনকে বাদ দিয়েছেন। জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া ১৯৯০ সাল হতে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত হন। ১৯৯১ সালে তিনি ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ১৯৯৬ সালে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি উপজেলা বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি, সমাজকল্যাণ সম্পাদক, জেলা যুবদলের জয়েন্ট সেক্রেটারি, উপজেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও একাধিকবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন।

এতোসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি প্রতিপক্ষ দলের টার্গেটে পড়ে ইতঃপূর্বে অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েছেন। অসংখ্যবার তিনি জেল খেটেছেন। সর্বশেষ তিনি ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনে যোগ দিতে গেলে ঢাকা থেকে আটক হন এবং সেই মামলাটি বিস্ফোরক মামলা হিসেবে দেয়া হয়। একমাস জেল খেটে তিনি জামিনে ছাড়া পান। জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়ার বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার বাবার আমলের ঢাকা সাভারে তিনটি বাড়ি, সাভার নবীনগরে ৪টা দোকান, সাভার এলাকায় ১২ শতাংশ সম্পত্তি, চাঁদপুর শহরে6 শতাংশ সম্পত্তি, বাড়িতে ৬ শতাংশ সম্পত্তি ছাড়াও নগদ লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেন রাজনীতির পেছনে। রাজনীতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে তাঁর রক্ত পুরোপুরি মিশে গেছে। তাই আবারও চেয়ারম্যান হয়ে ১নং বালিথুবা ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন। নির্বাচিত হলে তিনি ইউনিয়নের জন্যে নতুন করে কী করতে চান সে বিষয়ে চাঁদপুর কণ্ঠের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি এমরান হোসেন লিটনের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মুখোমুখি হয়েছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপনি কোন্ পদে প্রার্থী হচ্ছেন?
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া : আমি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাবরের মতো আবারও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার চিন্তা ভাবনা করেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও কোনো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া : ছোটকাল থেকেই আমি রাজনীতি এবং সমাজসেবা করে আসছি। ১৯৯৮ সালে আমি প্রথমে ২৫ বছর বয়সে ইউপি সদস্য হই। তারপর থেকে অদ্যাবধি আমি তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নির্বাচনে আমি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন কামনা করছেন?
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া : আসলে বর্তমানে আমার বয়স ৫৫ বছর। আমার বুঝ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বিভিন্ন পদপদবীতে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। আর এই দল করতে গিয়ে আমার জীবন ও যৌবনের পুরো সময়টা ব্যয় করেছি। ব্যবসায়িকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দলের হয়ে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে খরচ করেছি। দলের বেকার কর্মীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনার জন্যে তাদের বিপদ-আপদে খরচ করেছি। তাই প্রত্যক্ষভাবে অবশ্যই দলের সমর্থন কামনা করি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া : আমি যেহেতু ১নং বালিথুবা ইউনিয়নের সন্তান, এলাকার মানুষের সাথে আমার সেই ছোটকাল থেকেই চলাফেরা, রাজনীতির জন্যে যে সময়টুকু ব্যয় করেছি, তা শুধু ১নং বালিথুবা ইউনিয়ন বিএনপি নয়, ফরিদগঞ্জ এবং চাঁদপুর জেলার জন্যেই করেছি। তাই আমার পরিচিতি সেই আগে থেকেই আছে। আর ইনশাআল্লাহ ইউনিয়নের সকল শ্রেণীর মানুষের হৃদয়ে আছি বলেই আবারও বিজয়ী হওয়ার মানসেই আমি আবার চেয়ারম্যান নির্বাচন করবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া : আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তখন থেকেই আমি অত্র ইউনিয়নে সমাজ সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছি। সমাজসেবামূলক কাজ করতে গিয়ে নিজের পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছি। অত্র ইউনিয়নের কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবন যৌবনের অনেক সময় ব্যয় করেছি। সরকারি বরাদ্দের যেটুকু পেয়েছি তার শতভাগ কাজ করার চেষ্টা করেছি। আসলে আমার ইউনিয়ন এবং ফরিদগঞ্জের মানুষের কপালই খারাপ। আমরা ইউনিয়নের মানুষের উন্নয়নের জন্যে যা চিন্তা করি তা পরিপূর্ণভাবে করতে পারি না। যার কারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর প্রাথমিকভাবে আমি অনেক আগে থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, আমার জন্যে দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া : আমার জানামতে অতীতে কখনো বিএনপি সরকারের আমলে নির্বাচনে কোনো রকম কারচুপি হয় নি। তাই আগামীতেও এ ধরনের কোনো কিছু হবে বলে মনে হয় না। পরামর্শ থাকবে সুষ্ঠু ভোট হওয়ার জন্যে প্রত্যেক প্রার্থী যেনো তার নিরপেক্ষতা পালন করে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া : যেহেতু বাংলাদেশকে বর্তমানে বিএনপি সরকার শাসন করছে, অতীত ইতিহাস বলে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়। তাই আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নয়নের বাংলাদেশ। আমি ইতঃপূর্বেও এলাকার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। পুনরায় নির্বাচিত হলে আমার পক্ষ থেকে ইউনিয়নের উন্নয়নে আবারও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

জীবন বৃত্তান্ত :
জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়া, পিতা মৃত মো. ইউসুফ মিয়া একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। স্বপন মিয়া ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি ১ ছেলে ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়