প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩০
পাঠক ফোরামের কবিতা

গুলশান আরা রুবী হাওর কথন
১.
নীলগিরির ওপার হতে মেঘের ঘনঘটা,
চৈত্রদিনের শান্ত রোদে অকাল আঁধার ছটা।
হিমালয়ের কান্না নামে পাহাড়িয়া ঢলে,
শান্তিডুবা হাওরভূমি ভাসল অথৈ জলে।
যেথা ছিল ধানের সাগর, সবুজ মখমল তলে,
সেথা আজ হাহাকার জাগে মরণ-শীতল জলে।২.
বাঁধ ভাঙিল শব্দ করে, যেন সহস্র বাজ,
নিমিষেই শেষ হলো কৃষাণের সব কাজ।
কাঁচা সোনার ধানগুলো আজ জলের তলে বন্দি,
প্রকৃতি মা গো কেন করলে এমন নিষ্ঠুর সন্ধি?
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ধান রোপিল হাতে,
সেই ধান্য আজ ভেসে যায় নিঠুর আঁধার রাতে।৩.
গোয়াল ভরা গরুর দল, আর্তনাদ করে ফেরে,
আশ্রয়হীন মানুষগুলো সুখটুকু নিল কেড়ে।
ছোট্ট কুটির তলায় গেল, চুলায় জ্বলল না আলো,
হাওরবাসীর আকাশজুড়ে কেবল মেঘ কালো।
বুকের ধন হারানো মায়েরা স্তব্ধ পাথরসম,
অকাল বন্যা বিধাতা কেন এমন নির্দয়-বিষম?৪.
তবুও মানুষ লড়ে যায় অজেয় সাহস লয়ে,
ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুর ভয় সয়ে।
হাওর তীরের সেই মানুষ, মাটির কাছাকাছি,
বন্যার বুকে দাঁড়িয়ে বলেÑ“এখনো তো আমি বাঁচি!”
শোকের দহন পুড়িয়ে তাদের খাঁটি সোনা করে,
নতুন ভোরের স্বপ্ন জাগে রিক্ত শূন্য ঘরে।৫.
মহাকাব্য শেষ হয় না, এ যে অন্তহীন এক লড়াই,
হাওর পাড়ের মানুষের এই তো আসল বড়াই।
জলে ডুবি, জলে ভাসি, জলেই আমাদের বাস,
দুঃখের শেষে ফিরে আসবেই রঙিন হাসফাঁস।আবদুর নূর রাজ্জাক নিয়তি
অপূর্ণ তৃষ্ণার সময়ে
যারা পাশে এসেছিলো,
যারা আশ্বাস দিয়েছিলোÑ
প্রাচীন সবকিছু মুছে দিবে,
প্রেম, প্রীতি ও ভালোবাসায়
সাঁকো বেঁধে দিবেÑ
বিবিধ সে প্রতিশ্রুতিকারীরা
আজ পলায়ন করেছে।আর আমি শুধু স্মৃতির বেদীতে,
সেই আদিমকাল থেকে বসে আছি।
প্রাচীন ও অর্বাচীনের সংলাপ শেষে,
জীবন খুঁজে নিতে চায় মন্থনÑ
এক জীবন,
এভাবে চলে যায়;
চলতে থাকে
প্লাবণে, সমীকরণে।সাহেদ বিন তাহের কালো গোলাপ
তুমি আমার কাছে এমন এক ফুল
যে ফুল সচরাচর কারো চোখে পড়ে না।
অথচ সবাই জানে আছে
তুমি আমার কাছে নিভৃতে থাকা সে ফুল।
যেটি মানুষের অদেখা প্রিয়
ভালোবাসার আকৃতি-অনুভূতি।
সবাই প্রিয়তমাকে গল্প শোনায়
কাটাযুক্ত, সৌন্দর্যে ঘেরা ফুলের ন্যায় প্রশংসা করে।আমিও চাই,
তুমি আমার জন্য
অলক্ষ্য সেই কালো গোলাপ হয়ে থাকো!
না দেখে যারা ভালোবাসবে, প্রশংসা করবে।
অন্যদিকে তুমি আমার একান্তই আমার।
আমি তোমাকে মন ভরে দেখবো,
ভালোবাসা দিবো-নিবো
সুখ-দুঃখের সঙ্গী হবো।
এভাবেই কেটে যাবে আমাদের জগৎসংসার।ছবি-৩৯
আশরাফ চঞ্চল
গুচ্ছ কবিতা১
সামান্যই তো চাওয়া
পুরো রাজ্য চাইনি
একটু হাত ধরো
ছুঁয়ে যাও আমাকে!২
কষ্ট আর সহ্য হয় না
এর চেয়ে ব্লেন্ড করে
উড়িয়ে দাও
চৈত্রের উতল হাওয়ায়!৩
এখন আর আবেগ নেই
মনের ক্যানভাসে আঁকি
ধূসর রেললাইন
সমান্তরাল দূরত্ব রেখা!৪
কে বলে মুরোদ নেই
তোমাকে দেখলে
আফসোসে ফেটে পড়ি
মনের দেয়ালে ভেসে উঠে
কামনার রঙচিত্র!৫
এসো চৈত্রের আকাশে
উড়ন্ত মেঘ হই
ঈশান থেকে ভেসে আসা
উদাসী প্রবল হাওয়ায়
উৎসবে মেতে উঠি!ফরহাদ হোসেন ভুল
কত কালে, কত মহাজনে,
এসেছিলো কত ভাবে,
মনের কুঠিরে, স্থান করে নিতে।তব তারা পারিয়াছে নাহি,
করে নিতে স্থান
চাহিয়াছে যেখানে।প্রশ্ন কি জাগেনি,
তাহাদের ভেতর ঘরে,
চাহিলে কি তাহা,
সর্ব লোকে, সর্ব স্থানে
স্থান করে নিতে?ছোট্ট কুঠিরে, স্থান দিয়েছিলাম যাহাদেরকে,
তাহারা যে ছিলো কত ভাগ্যবান,
তাহা কি সেই মানব জাতী জানে?কত বড় ভুল, করিয়াছি আমি,
যোগ্য স্থানে যোগ্য ব্যক্তিকে
নাহি তব স্থান দিয়ে।পস্তাইছি আমি, করিয়াছি ক্ষতি,
নিজেই নিজের।
কেউ কি এমন পারে, সিদ্ধান্ত নিতে,
নিজের বিরুদ্ধে নিজে?বুঝিতে আমার হইলো দেরি
মৃত্যু ক্ষণে এসে,
করিবো না আর, এমন ভুল
পরকাল কিংবা পরপারে।








