প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩৩
স্মৃতির আয়নায় মমতাময়ী মা

‘মা’ মাত্র একটি অক্ষরের শব্দ, অথচ এর গভীরতা অতলান্ত। কবি কাদের নেওয়াজের সেই কবিতার চরণের মতোই মায়ের চেয়ে মধুর নাম ত্রিভুবনে আর নেই। আজ প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে যখন ডাইনিং টেবিলে একা খেতে বসি, তখন মায়ের হাতের সেই জাদুকরী রান্নার স্বাদ খুব বেশি মনে পড়ে। পিঠা-পুলি, কচুর লতি কিংবা হাঁসের মাংসের সেই স্বাদ যেন সময়ের ধুলোয় আজ ম্লান হতে বসেছে। কিন্তু মা, তোমার অভাব কি কেবল স্বাদে? তুমি তো ছিলে আমার অস্তিত্বের শিকড়।
প্রবাস জীবনে অসুস্থ হয়ে যখন মধ্যরাতে জ্বরের ঘোরে ছটফট করি, তখন কপালে কেউ সেই মমতাময়ী শীতল হাতটি বুলিয়ে দেয় না। ছোটবেলায় আমার সামান্য অসুস্থতায় তুমি যেভাবে বিনিদ্র রাত কাটাতে, সেই অকৃত্রিম স্নেহের ঋণ শোধ করার সাধ্য কার আছে? আমি জানি, প্রবাসে আসার পর তুমি নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছ, অতীতের সব ত্যাগের হিসাব ছাড়াই আমাকে আগলে রেখেছ। আজ আমি পৃথিবীর এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারি, মায়ের কোলের চেয়ে বড় স্বর্গ আর কোথাও নেই।
বলা হয়, ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে হয়।’ আজ পাঁচ বছর হলো তুমি এই নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছ। এখন আর ইমো বা স্কাইপে তোমার সেই হাসিমুখ দেখা হয় না। বুকের পাঁজরে যে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করি, তা কাউকে বোঝানোর নয়। প্রযুক্তির কল্যাণে হয়তো
বিদেশের দূরত্ব ঘোচানো যায়, কিন্তু মৃত্যুর তৈরি করা এই শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
মা, আমি আজও তোমার সেই ছোট্ট খোকাটিই রয়ে গেছি। আমার ব্যক্তিত্বে বাবার ছায়া থাকলেও, আমার সমস্ত আবেগ আর অনুভূতি জুড়ে কেবল তুমি। তোমার দোয়ার বরকতেই আজ আমি মরুভূমির এই দেশে টিকে আছি। আজ তুমি নেই, কিন্তু তোমার স্মৃতিগুলো আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে আছে। মহান রবের কাছে শুধু এই প্রার্থনাই করিথÑ “রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা”। হে আল্লাহ, আমার মাকে তুমি জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করো।








