প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২০:৩৩
বালিথুবায় সাবেক মহিলা মেম্বারের ইয়াবা বিক্রির ভিডিও ভাইরাল!
প্রশাসনের ওপর সচেতন মহলের ক্ষোভ

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা ইউনিয়নের সাবেক এক মহিলা মেম্বার ও তার স্বামী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক এই সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ১ নং ওয়ার্ডের মুলপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মিয়াজি বাড়ির বাসিন্দা সাবিনা বেগম। তার স্বামীর নাম নূর মোহাম্মদ। জানা যায়, তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই মিলেমিশে প্রকাশ্যে মরণ নেশা ইয়াবা বিক্রি করছেন। সম্প্রতি ইয়াবা বিক্রির এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুরো উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী মেম্বার ও তার স্বামী নির্ভয়ে মাদকের লেনদেন করছেন এবং ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের অন্যান্য সরঞ্জাম কাস্টমারের হাতে তুলে দিচ্ছেন। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির এমন ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সচেতন নাগরিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেম্বারের এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেও প্রশাসনের কোনো টনক নড়েনি। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের একজন অভিভাবক হয়েও যারা সমাজে ইয়াবা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের কারণে এলাকায় যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মেম্বারের পরিবার প্রভাবশালী ও অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির হওয়ার কারণে ইতঃপূর্বে কেউ মুখ খোলার সাহস না পেলেও ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর এখন এলাকাবাসী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
এলাকার সচেতন মহলের ক'জনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এদের স্বামী-স্ত্রী দুজনের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতে গেলেই হুমকি-ধমকি ও হামলার শিকার হতে হয়। তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়, দা-ছেনী ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মানুষকে মারতে যায়। যার কারণে এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে নারাজ। তবে তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, যেখানে ইয়াবার টাকা লেনদেন ও ইয়াবা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, সেখানে ফরিদগঞ্জ তথা চাঁদপুরের কোনো প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলো না!
বিষয়টি নিয়ে মহিলা মেম্বার সাবিনা ইয়াসমিন ও তার স্বামী নূর মোহাম্মদের সাথে কথা বলতে গেলে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমার স্বামী ইয়াবা সেবন করে অনেক আগে থেকেই। ঘরে এনে রাখা আমার স্বামীর সেই ইয়াবা থেকেই আমি ক'টি ইয়াবা আমাদের বাড়ির পাশের ক'জনের কাছে বিক্রি করে দেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিওটি প্রকাশ হয়েছে সেটি আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যেই করা হয়েছে বলে জানান। তার স্বামী বলেন, আমি ৩২ বছর আগে থেকে ইয়াবা সেবন করে আসছি। কিন্তু তিনি বিক্রি করেন না বলে জানান।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, মাদক সিন্ডিকেট এখন গোপনীয় নয়, এরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখন ওপেন হয়েই এসব কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। সাবেক এই ইউপি মেম্বার এই কাজের সাথে জড়িত--এসব আমি লোকমুখে শুনেছি। আর বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকের ওপরে অভিযান পরিচালনা করার জন্যে আমরা সব চেয়ারম্যান প্রত্যেক মাসিক মিটিংয়ে কথা বলি। তিনি আরো বলেন, এই মাদকের কারণে ইউনিয়নের যুব সমাজ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমি চাই প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।
তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।








