প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫০
কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় স্নাতক পরীক্ষার্থী হাসপাতালের আইসিইউতে, গ্রেপ্তার ১

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত যুবক আশ্রাফুল ইসলাম (২৪) ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে (লাইফ সার্পোটে) রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ১০টায় তাকে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ঢালিকান্দি গ্রামের ফসলি খেত থেকে মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার (১৭ জনুয়ারি ২০২৬) আহত আশ্রাফুলের বাবা আজিজুল হক বাদী হয়ে রিকশাচালক শাহিন বেপারীসহ ১১ জনের নাম সহ অজ্ঞাত ১৬ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আহত আশ্রাফুলের স্বজন মো. নাদিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আহত আশ্রাফুল ইসলাম রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকার খাঁন বাড়ির আজিজুল হকের ছেলে এবং রায়পুর রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজে স্নাতক পরীক্ষার্থী।
একই ইউনিয়নের ঢালীকান্দি এলাকার মোস্তফা বেপারী ভুট্টুর ছেলে অভিযুক্ত রিকশাচালক মাদকসেবী কিশোর গ্যাং সদস্য শাহিন (২৬)।
নাদিম বলেন, ‘ সম্প্রতি রায়পুরের চরআবাবিল ইউনিয়নের উদমারা গ্রাম থেকে মাদকসেবনকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্য শাহীন বেপারী (২৬) কারাগার থেকে জামিনে বাড়িতে আসে। ডিবি পুলিশ দিয়ে আটক করার পেছনে হাত থাকার অভিযোগ করা হয় আশ্রাফুল ইসলামের (২৪) ওপর। প্রতিশোধ নিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় রিকশাচালক শাহিনের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় গুরুতর রক্তাক্ত আহত হন আশ্রাফুল ইসলাম।
তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এখনও মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে কিশোর গ্যাং।
আহত অবস্থায় আশ্রাফুলকে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে সেখান থেকে ঢাকার গ্রীন রোডে ‘নিউ লাইফ’ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় উত্তর, দক্ষিণ চরবংশী এবং উত্তর ও দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪ মাস আগে উদমারা গ্রামে দু বৃদ্ধ মুসলিম ও হিন্দু লোক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনও করা হয়েছে। কয়েক আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, জানতে পেরেছি হামলার শিকার কলেজ ছাত্র আশ্রাফুল ইসলাম ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাতে (রোববার) প্রধান অভিযুক্ত শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।








