প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৩৩
চাঁদপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি
ডিসেম্বর সামনে রেখে জানুয়ারি পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে

চাঁদপুরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
|আরো খবর
তিনি বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান। সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের সমস্যা বা বাধার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং প্রয়োজনে তাঁকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি বলেন, ডিসেম্বর মাস সামনে রেখে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের এতো পুলিশ নেই যে জনে জনে পাহারা দিবে। তাই সবাইকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। সবাই মিলে একটি সুন্দর চাঁদপুর তৈরি করার চেষ্টা করবো।
মব-সন্ত্রাস প্রসঙ্গে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, মবের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুরের বিভিন্ন গুচ্ছগ্রাম মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কোনো পরিচায় নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে টিন এবং জেলা পরিষদের মাধ্যমে ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারি এসব সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কোথাও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা অপরাধমূলক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজারে অনিয়ম, পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভোক্তা হয়রানি বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা বা বাধার সম্মুখীন হলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং প্রয়োজন হলে তাকে জানাতে হবে। সরকারি দায়িত্ব পালনে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, চরাঞ্চলগুলোতে বাল্যবিবাহের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ও ইব্রাহীমপুর এবং হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে এ প্রবণতা রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও দফাদারদের সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে হবে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে দফাদারদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাল্যবিবাহের তথ্য সংগ্রহ এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকায় বিয়ের আয়োজন না করে শহরে গিয়ে হুজুরের মাধ্যমে কিংবা নোটারি পাবলিকের সহযোগিতায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। ফলে বাল্যবিবাহের তথ্য গোপন থেকে যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরো, এসবি খাল উদ্ধার যেকোনো মূল্যে করতে হবে। আমরা মেঘনা নদীকে বুড়িগঙ্গা নদী বানাবো কিনা? নদীতে সকল বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। নদীর পানি আমরা সবাই ব্যবহার করি।
তিনি আরো বলেন, পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের অবৈধ দোকান থেকে দালিলি হচ্ছে। এখনো পাসপোর্ট অফিসের ভিতরে দালালদের আনাগোনা হচ্ছে। এখনো পাসপোর্ট অফিসে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আপনার অফিস দালালমুক্ত করুন, মানুষকে সেবা দিন। আমরা দুনীর্তিকে কোনোভাবেই প্রশয় দিবো না।জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিগত মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাছিমা আক্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. বজলুর রশিদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন, চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী, জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জয়নাল আবেদীন, পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবু ও ডিএম শাহাজাহান, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।







