রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আলোচনা সভা

আব্দুল্লাহ আল মামুন।।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আলোচনা সভা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিদ্যালয় ও কলেজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন। বক্তব্য রাখেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রণব কুমার দে, হুমায়ুন কবির ও প্রভাষক রাসেল মিয়া।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। এ দিনকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন, ৩ নভেম্বরের জেল হত্যা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের ঘটনা দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান আবারও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি, অর্থনীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে জনঅংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

এছাড়া প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের পথ সুগম করার ক্ষেত্রে তাঁর সময়ের উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষি উন্নয়ন, গ্রাম সরকার প্রতিষ্ঠা, পরিবার পরিকল্পনা, শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী অর্থনীতি এবং ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টাও তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক।

অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সঠিক ধারণা দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও জাতীয় নেতৃত্বের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে হবে। এ ধরনের আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের ইতিহাস চর্চা, জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বিকাশে সহায়ক হবে।

শিক্ষার্থীরা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। আলোচনা সভায় শিক্ষকরা দিবসটির ইতিহাস, জাতীয় জীবনে এর প্রভাব এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন সময়ের নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়