প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮
টাকা না দিলে দলিল নড়ে না!
ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নির্ধারিত সরকারি ফি'র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিল কার্যক্রম ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, এখানে প্রতি দলিলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হয়।
|আরো খবর
মোহাম্মদ মোস্তফা নামে এক দলিল লেখক জানান, সরকারি ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া বাধ্যতামূলক। দিনশেষে এই টাকা অফিসের নির্দিষ্ট কর্মচারীর কাছে জমা দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে দপ্তরটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলিলে কোনো আইনি বা তথ্যগত ত্রুটি থাকলে তা সমাধানের নামেও আলাদা অর্থ লেনদেন চলে, যার মধ্যস্থতা করেন নাইটগার্ড মো. মাইন উদ্দিন মানিক।
অন্যদিকে, দলিল লেখক সমিতির অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন আরেক দলিল লেখক মো. ইউনুছ আলী। তার দাবি, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন না দিয়ে অবৈধভাবে দায়িত্ব আঁকড়ে রাখা হয়েছে।
তবে সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের পাটওয়ারী অনিয়মের দাবি অস্বীকার করে বলেন, “সদস্যদের কল্যাণের জন্যই সমিতির তহবিল ব্যবহার করা হয়। কোনো সদস্য মারা গেলে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।” তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে সমিতির অর্থ লেনদেনের বিষয়ে ক্যাশিয়ারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার মো. মামুন বলেন, “অতীতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার চর্চা থাকলেও গত প্রায় দু মাস ধরে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।”
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলম ও জেলা রেজিস্ট্রার মো. আকবর আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








