প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৩
এলপিজির দামে নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রশাসনের ক্রস চেক

চাঁদপুরে এলপিজি গ্যাসের মূল্য নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটর, বিক্রেতা ও ভোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নিরসনে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের পর গত ৫ ও ৬ অক্টোবর ডিস্ট্রিবিউটর এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
|আরো খবর
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) চাঁদপুর জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কোম্পানি থেকে কী দামে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, ডিস্ট্রিবিউটররা কী দামে বিক্রি করেন এবং ভোক্তা পর্যায়ে কীভাবে মূল্য নির্ধারিত হয়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জেলার ৬৩ জন ডিস্ট্রিবিউটর উপস্থিত ছিলেন।
পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ওমেরা, টোটাল, ফ্রেশ, আই গ্যাস, বিএম, সেনা, বসুন্ধরা, যমুনা, ওরিয়নসহ ১২টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ ও বিক্রির কথা জানান। তবে ইউনি গ্যাস, ইউনিভার্সেল ও পদ্মার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের কোম্পানি মূল্য ১৭৪২ টাকা এবং নির্ধারিত মূল্য ১৮৩৭ টাকা। ১৫ কেজির কোম্পানি মূল্য ২২০০ টাকা, নির্ধারিত মূল্য ২২৯৬ টাকা, ৩৩ কেজির কোম্পানি মূল্য ৪৯৫০ টাকা, নির্ধারিত মূল্য ৫০৫১ টাকা, ৩৫ কেজির কোম্পানি মূল্য ৫১৫০ টাকা, নির্ধারিত মূল্য ৫৩৫৭ টাকা এবং ৪৫ কেজির কোম্পানি মূল্য ৬৭০০ টাকা, নির্ধারিত মূল্য ৬৮৮৮ টাকা বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বাজারে এসব দামের সঙ্গে আরও ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান নয়, কোম্পানি থেকে ডিস্ট্রিবিউটর ও বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় মূল্য ও কমিশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কথা হলে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কারও গ্যাস বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যারা এটি করবে, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে। তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং চলছে এবং আগামী দু-এক দিনে আরও ব্যাপকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি জানান, ৫ অক্টোবর সোমবার ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে, আবার ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথেও আলোচনা হয়েছে এবং আমরা ক্রস চেক করে দেখেছি।
চাঁদপুর জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউশন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বরকতউল্লাহ শেখ রিপন বলেন, আমরা সবসময় সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে চাই। কিন্তু কিছু কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যে পণ্য দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা সবসময় বজায় রাখে না। তিনি কোম্পানিগুলোকে একটি নিয়মের মধ্যে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যারা এলপিজি বিক্রি করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুরে প্রায় ২ হাজার দোকানে এলপিজি বিক্রি হয়। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে কোম্পানি থেকে খুচরা দোকান পর্যন্ত নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর বাজার মনিটরিং জরুরি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








