প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪১
অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কমিটির অনাস্থা

ফরিদগঞ্জে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে পশ্চিম লাডুয়া কেরামতিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল কাদের মিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন শিক্ষক, কর্মচারী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
|আরো খবর
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই মাসের বেতন বিলে ইউএনও প্রতিস্বাক্ষর করলেও সভাপতি সংক্রান্ত জটিলতায় বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না তারা।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মাদ্রাসার সাবেক সুপার ও বর্তমান সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল কাদের মিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি, বিধিসম্মত এমপিও বেতন বিলে স্বাক্ষর না করে আটকে রাখা এবং কমিটির সদস্যদের মতামত না নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাওলানা আব্দুল কাদের ২০২৩ সালের ৩১ মে সুপারের পদ থেকে অবসরে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানের কোনো দাপ্তরিক পদে ছিলেন না। অথচ বৈধ পদবি ছাড়াই তিনি স্থানীয় অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি রূপসা বাজার শাখার মাদ্রাসার সঞ্চয়ী হিসাব থেকে তিনটি চেকের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা তুলে নেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ২১ জুন ৩৯ হাজার, ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ২৯ হাজার এবং একই বছরের ২ জুলাই ৭১ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষক-কর্মচারীসহ মোট ২২ জনের যৌথ স্বাক্ষরে ইউএনও বরাবর অনাস্থাপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইউএনও বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্যাহ আল মামুনকে। ইতোমধ্যে তিনি সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষক কাউছার আহাম্মদ বলেন, "সুপার হিসেবে চাকরি শেষ হওয়ার পর কৌশলে তিনি সভাপতির দায়িত্ব নেন। অথচ পদ ছাড়াই আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। তিনি পদে আসার পর প্রতিষ্ঠানে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। আমাদের জুলাই মাসের বেতন বিলে ইউএনও মহোদয় প্রতিস্বাক্ষর দেওয়ার পরও সভাপতির জটিলতায় ব্যাংক থেকে বেতন ছাড় করা হয়নি। ফলে আমরা চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছি।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্যাহ আল মামুন জানান, "উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।"








