প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯
জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে ঢাকায় কর্মরত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঁদপুরে পাল্টা মামলা
তহশিলদারের বিতর্কিত ভূমিকা

শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন তালুকদারের জমি দখল করে জোরপূর্বক ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, এবার তাঁর ও তাঁর দু শিক্ষার্থী-ছেলের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
|আরো খবর
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া/স্থানীয় নাজিরপাড়ার বাসিন্দা এবং ঢাকায় কর্মরত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন তালুকদারের মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় একটি প্রভাবশালী চক্র। চাঁদপুর মডেল থানায় দায়ের করা (সিআর ১২২/২০২৫) মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুর। পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদনে সুরুজ তালুকদার, আবু তৈয়বুর রহমান ওরফে নান্টু, সুমন, আতিয়ার রহমান ওরফে রাজু এবং শাহজাহান তালুকদার ওরফে সাজুর বিরুদ্ধে 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩' এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করলে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার শর্তে তারা আদালত থেকে জামিন পান।
অভিযোগ রয়েছে, পিবিআই-এর তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্তরা। পূর্বের মামলার ১০ মাস পর, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সুরুজ তালুকদার বাদী হয়ে শিক্ষক মহিউদ্দিন ও ঢাকায় অধ্যয়নরত তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মিথ্যা মামলা (নং ১৪০৪/২৫) দায়ের করেন।
পাল্টা মামলার এজাহারে প্রায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা ব্যবহারের দাবি করা হলেও সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সূত্রে দেখা যায়, কথিত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫২ ফুট।
এলাকাবাসী জানান, সুরুজ তালুকদারদের যাতায়াতের জন্য পাশেই বিকল্প একটি বড় রাস্তা রয়েছে। শিক্ষক মহিউদ্দিন ঢাকায় অবস্থান করা এবং তাঁর দুই ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করার সুযোগ নিয়েই পেশীশক্তি খাটিয়ে এই জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে স্থানীয় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. ওমর ফারুকের দাখিল করা এক প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তহশিলদার তাঁর প্রতিবেদনে সরেজমিন চিত্রের তোয়াক্কা না করে ৭০০ ফুট রাস্তার উল্লেখ করেছেন এবং পূর্বের পিবিআই প্রতিবেদনে আসামিদের অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি গোপন করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই অসত্য প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রনি বলেন, "আগের মামলার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেটির বিরুদ্ধে যেহেতু আপত্তি উঠেছে, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।"
তহশিলদার মো. ওমর ফারুকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, "আমি আমার মতো প্রতিবেদন দিয়েছি। এ বিষয়ে কারো আপত্তি থাকলে তারা আদালতে জানাতে পারেন।"
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, "আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জমি দখলের অপচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এখন আমার ও আমার ছেলেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু ন্যায়বিচার চাই।"
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








