বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫  |   ২২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:৫১

বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ১৮ বছরের নিচে বিয়ে নয়

চাঁদপুরে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে করণীয় বৈঠকে পৌর প্রশাসক মো. গোলাম জাকারিয়া

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে করণীয় বৈঠকে পৌর প্রশাসক মো. গোলাম জাকারিয়া

চাঁদপুরে 'বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে করণীয়' শীর্ষক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাল্টি পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি, জাতীয় পার্টি , গণঅধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি, প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক, সমাজের প্রতিনিধি, যুব সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. গোলাম জাকারিয়া।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। একটা সময় ছিলো যখন মানুষ বিয়ের বয়স নিয়ে ভাবতো না। এখন সবার মধ্যে সচেতনতা এসেছে।

স্থানীয় প্রশাসন, গ্রামের মানুষ এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। মেয়েদের বিয়ের বয়স নিয়ে কিছু প্রশ্ন এসেছে। তবে আমরা সবাই যদি সচেতন থাকি, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হবে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পৌর প্রশাসক আরো বলেন, আমরা সমস্যার কথা সবাই জানি ও বলি। তবে এর সমাধান আমাদেরকেই বের করতে হবে। সকলকে রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলতে হবে। সমাজ পরিবর্তনে শুধু প্রশাসন, পুলিশের একার দায়িত্ব নয়, আপনার আমার সকলের দায়িত্ব। সকলে ন্যায়সঙ্গত কাজের সাথে থাকবেন।

তিনি বলেন, আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করতে হবে। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ কয়েকটি বিষয় জড়িত। মেয়েদের শিক্ষার মান না বাড়লেও হার বেড়েছে। আমাদের মধ্যে কিছু কালচার বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে খারাপ কালচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

ম্যাফ চাঁদপুরের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের পলাশ, জেলা মহিলা অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পিপি অ্যাড. কুহিনুর রশিদ ও জেলা গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন।

ম্যাফের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার ও দপ্তর সম্পাদক নাহিদা সুলতানা সেতুর যৌথ পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের নেত্রী অ্যাড. রেহেনা ইয়াসমিন কচি, ইমাম পরিষদের নেতা (তালতলা পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব) মাও. আব্দুস সালাম, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. জাকির হোসেন হিরু, জেলা কৃষক দলের সভাপতি ও ম্যাফের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খোকন, চাঁদপুর প্রভাতী কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুল আউয়াল রুবেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সাকিবুল ইসলাম, পৌর মহিলা দলের সহ-সভাপতি ফারজানা রুজি, সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি জিসান আহমেদ ও তারণ্যের অগ্রদূতের সাধারণ সম্পাদক তাহসিনুর রহমান বুনন।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার। সভার শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ম্যাফের সদস্য তানিয়া ইসলাম।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে চাঁদপুরে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে বাল্যবিবাহের এ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকগণ জীবনযাপনের ব্যয়ভার কমাতে অনেক সময় কন্যা সন্তানের দ্রুত বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এছাড়া বর্তমান সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার অভাবে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।

আলোচনায় জানানো হয়, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের অপরিণত সন্তান জন্মদান বা কম ওজনের সন্তান জন্মদানের আশঙ্কা ৩৫-৫৫ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচে বয়সী মায়েদের শিশু মৃত্যুর হার ৬০ শতাংশ বেশি। এজন্যে সম্মিলিতভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণের তাগিদ দেন বক্তারা।

সভায় বক্তারা যে সকল সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরেন তা হলো, বর্তমানে চাঁদপুরে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে বাল্যবিবাহের এ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাল্যবিবাহ তুলনামূলকভাবে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে বেশি সংঘটিত হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড থেকে ৮নং ওয়ার্ড পর্যন্ত ব্যাপক হারে হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য হলো, ৭নং ওয়ার্ডের কয়েকটি স্কুল যেমন-শিশুকল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়, আক্কাস আলী , উত্তর শ্রীরামদি প্রাথমিক স্কুলসহ অন্যান্য ওয়ার্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা । লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিশুদের বাল্যবিবাহ ঘটছে বেশি। এই কনফারেন্স হতে চাঁদপুরে বাল্যবিবাহের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে নাগরিক সমাজ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

চাঁদপুর জেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার তাগিদ দেন বক্তারা। এজন্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্থানীয় জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার করণীয় ঠিক করতে মাল্টি-পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ) চাঁদপুর এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

যুক্তরাজ্যের এফসিডিও -এর অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশন্যাল পরিচালিত বি-স্পেস প্রকল্প এই আলোচনা অনুষ্ঠানে সহায়তা করে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়