বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:২৯

এই কড়া নজরদারি যেন শিথিল না হয়

অনলাইন ডেস্ক
এই কড়া নজরদারি যেন শিথিল না হয়

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং সরবরাহ চলমান রাখতে চাঁদপুরের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) সন্ধ্যায় পুরাণবাজার চেম্বার ভবনে চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে এ সভা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাটে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা যাবে না। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। ইউরিয়াযুক্ত মুড়ি বেচাকেনা বন্ধ রাখতে হবে। খাদ্যপণ্যে রং ব্যবহার করা যাবে না। পুরাণবাজারের ১৭টি চালকলসহ কারখানাগুলো যাতে নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ ও চালু রাখে সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে। এতে করে ইফতার ও সাহরির সময়সহ তারাবিহ্র সময়ে মসজিদগুলোতে লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাপ্লাই চেইনটা ঠিক রাখতে হবে। পণ্যের অতিরিক্ত মুনাফা করা যাবে না। এতে করে গরিব অসহায়রা সবাই রমজানে পণ্য ক্রয়ে স্বস্তি পাবেন। বাজার ঠিক রাখতে আমি সবার সহায়তা চাই। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি তো থাকবেই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢোকার রাস্তাসহ গতিবিধি লক্ষ্য রাখার মতো ভালো মানের সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। আর সেই সিসি ক্যামেরার ভিডিও অন্তত ১ মাস রাখার মতো স্টোরেজ ব্যবহার করতে হবে। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র দোকানগুলোতে রাখুন। ব্যাংক বা এজেন্টে লেনদেন করার সময় একা না গিয়ে বিশ্বাসযোগ্য ২/৩ জন একসাথে যান। মুনাফা লাভের জন্যে পণ্য সংকট সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট খবর পেলেই ব্যবস্থা নেবো। সভায় ব্যবসায়িক বিভিন্ন সেক্টরের নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং রমজানে পণ্য সংকট সৃষ্টি করবেন না ও সীমিত লাভে পণ্য বিক্রির অঙ্গীকার করেন। এবার ১/২ মার্চ থেকে শুরু হবে মাহে রমজান। আর ১ মার্চ থেকে মেঘনা-পদ্মায় শুরু হবে জাটকা ইলিশ রক্ষায় দুমাসের অভয়াশ্রম। রমজানে মাঠ পর্যায়ে যাঁরা প্রশাসনের পক্ষে কড়া নজরদারি বজায়ে মুখ্য দায়িত্বে থাকবেন, তাঁরা হচ্ছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁরা আবার অভয়াশ্রম কর্মসূচি সফল করতে নদীতে জেলা/উপজেলা পর্যায়ের টাস্কফোর্সের অভিযানেও মুখ্য দায়িত্বে থাকতে হবে। এমতাবস্থায় চাঁদপুর জেলায় বিদ্যমান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান। তাঁরা রোজা রেখে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করাটা কি অমানবিক হবে না? এমতাবস্থায় চাঁদপুর জেলায় অন্তত রমজান চলাকালে অর্থাৎ মার্চ মাসের জন্যে অভয়াশ্রম কর্মসূচির আওতামুক্ত জেলা থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সাময়িক দায়িত্বপালনের জন্যে আনা যায় কিনা সেটি ভেবে দেখতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও তাঁর ঊর্ধ্বতনদের ভেবে দেখার জন্যে অনুরোধ জানাচ্ছি। এমনটি করা না হলে রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি শিথিল হবার সম্ভাবনা অথবা অজুহাত তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। আমরা চাই, চাঁদপুরে জাটকা ইলিশ রক্ষায় অভয়াশ্রম ও রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ যেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে অতিরিক্ত দায়িত্বপালনের মাধ্যমে সম্পন্ন না হয়, অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট অন্যত্র থেকে এনে যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়, একবিন্দু শৈথিল্য যেন কোনোভাবে প্রদর্শন করা না হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়