প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৩
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সমাবেশ ও বিক্ষোভ
নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে মিল রেখে যে একদফা দাবি জানাচ্ছেন বাংলাদেশের জনগণ তা বোঝে
—শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
|আরো খবর
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। মিছিলের সময় নেতাকর্মীদের নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, "তারেক রহমান বলেছেন, 'আজকের এই সমাবেশ ষড়যন্ত্রের দুরভিসন্ধিকে প্রতিরোধ করার সমাবেশ।' আমরা চাঁদপুরে গত ১৭ বছর এই সহকর্মীদের নিয়ে চাঁদপুরবাসীকে সঙ্গে করে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আজকে কেউ কেউ লংমার্চের নামে বক্তব্য দিয়ে 'এক বনে এক বাঘ' সাজে! বক্তব্যে আঙুল দেখিয়ে আমাদেরকে বলে 'একদফা'! এখন বাংলাদেশে নানা স্বঘোষিত ব্যক্তির জন্ম হয়েছে। এই বাংলাদেশে কোনো স্বঘোষিত ব্যক্তির জায়গা হবে না। এই বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধঘোষিত নেতাকর্মীর জায়গা হবে না!"
তিনি আরও বলেন, "যারা আমাদের এই চাঁদপুরে আরামে ঘুমায় আর নিষিদ্ধঘোষিত অঙ্গ-সংগঠনের নামে মিছিল করে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। এখনো আমরা আপনাদের ব্যাপারে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিইনি। যারা এই কাজে লিপ্ত হবেন, এই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের যারা উসকানিদাতা থাকবেন এবং আমাদের দলীয় কেউ যদি তাদেরকে সহযোগিতা করে—সবাই সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত হবেন।"
উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আপনাদের কাছে অনুরোধ—আপনারা আপনাদের পাড়া-মহল্লায় এই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন এবং যারা স্বঘোষিত দাবিদার, তাদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা-ই করবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।"
তিনি আরও বলেন, "একদফা এক দাবি—আমাদের স্লোগান ছিলো। আমরা বলতাম—'একদফা এক দাবি, শেখ হাসিনা কবে যাবি?' আপনারা বন্ধুরা কোথায় ছিলেন ১৭ বছর? বিল্ডিংয়ের ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন ৩ তারিখ আর ৪ তারিখ! জুলাই মাসে কই ছিলেন? আমাদের মতো ১৭ বছর রাজনীতি করতে হবে। আমরা কিন্তু কচি খোকা নই। আমরা কি বুঝি না? নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে মিল রেখে আপনারা একদফা দাবির ঘোষণা দিচ্ছেন। বাংলাদেশের জনগণ অত বোকা নয়। একটি নিরপেক্ষ জরিপে এসেছে, এই মুহূর্তে বিএনপির জনপ্রিয়তা ৫২ শতাংশ এবং প্রধানমন্ত্রীর ৬৫ শতাংশ! প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আর বিএনপির জনপ্রিয়তা একই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রিয় নেতা। তাঁর জনপ্রিয়তা রক্ষা করতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যা যা করা দরকার, আমরা তা-ই করবো। সবাই চোখ-কান খোলা রাখবেন। মাদকের ব্যাপারে কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইভটিজিংয়ের ব্যাপারে কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জমি দখলকারীদের কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।"
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।
চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম সূর্যের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহজাহান কবির খোকা, চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মাসুদুর রহমান মাঝি, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মান্নান খান কাজল, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু হানিফ কাকন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিউদ্দিন বাবলু প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারী, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
-








