প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৬৫
শিক্ষার ঐতিহ্য ফেরানো ও বৈষম্যহীন আধুনিক চান্দ্রা ইউনিয়ন গড়াই আমার মূল লক্ষ্য
-----ছাব্বির আহমেদ মিয়া

চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বইছে ভোটের হাওয়া। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহল এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের রাজনীতি, ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সমস্যা, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং একটি আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের রূপরেখা নিয়ে সম্প্রতি ‘দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ’-এর মুখোমুখি হয়েছেন চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং স্থানীয় বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ছাব্বির আহমেদ মিয়া।
|আরো খবর
ছাত্রদল থেকে রাজনীতির পাঠ শুরু করা ছাব্বির আহমেদ মিয়া বর্তমানে ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে একাধিক মামলা-হামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় জনগণকে ছেড়ে যাননি এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান হিসেবে পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে চান্দ্রা ইউনিয়নকে নতুনভাবে সাজাতে চান তিনি।
পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির চুম্বকাংশ নিচে হুবহু উপস্থাপন করা হলো :
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কোন্ পরিচয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার মূল লক্ষ্য ও জনগণের জন্য স্বপ্ন কী?
ছাব্বির আহমেদ মিয়া : আমার রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি একটি পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্য রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ প্রথা চালু হওয়ার পূর্বে অবিভক্ত এই ইউনিয়নে আমার দাদা মরহুম আ. কাদের মিঞা এবং আমার জেঠা মরহুম আখতারুজ্জামান মিঞা অত্যন্ত সুনামের সাথে ‘প্রেসিডেন্ট’ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমার পিতা মরহুম ওয়ালীউল্লা মিঞা ছিলেন হাইমচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাজাপ্তি রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চান্দা ইয়াকুব আলী স্মারক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা প্রসারে কাজ করে অবসর গ্রহণ করেন।
আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমার পূর্বপুরুষদের যে অসামান্য অবদান রয়েছে তা পুনরুজ্জীবিত করা এবং চান্দ্রা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও কল্যাণমুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি কোনো দলীয় সমর্থনে নির্বাচন করবেন, নাকি নির্দলীয়ভাবে অংশ নেবেন? কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?
ছাব্বির আহমেদ মিয়া : আমি উভয়ভাবেই নির্বাচন করতে প্রস্তুত। তবে যেহেতু আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন সক্রিয় কর্মী, সেহেতু দলের সমর্থন পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবো। কারণ, আমাদের এই এলাকা বিএনপি’র একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং এই ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী বলে মনে করেন? এসব সমস্যার সমাধানে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?
ছাব্বির আহমেদ মিয়া : বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের আমলে সামাজিক ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি অনুদান কেবল নিজেদের দলীয় লোকদের বেছে বেছে দেওয়া হতো। আমি নির্বাচিত হলে এই বৈষম্য দূর করে দল-মত নির্বিশেষে প্রকৃত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর মাঝে তা বিতরণ করবো।
তাছাড়া বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সামাজিক অপরাধগুলো আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বিশেষ করে মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সরকারি সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন?
ছাব্বির আহমেদ মিয়া : আমি নির্বাচিত হলে শাসক নয়, জনগণের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমার কোনো সিদ্ধান্ত যদি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তবে তারা নির্দ্বিধায় আমাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। আমি যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারি, তবে তারা আমার ঊর্ধ্বে যারা আছেন তাদের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন; এতে আমার কোনো আক্ষেপ থাকবে না। একজন চেয়ারম্যান হিসেবে যতটুকু দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তার মধ্যে থেকেই শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে সব সেবাদান নিশ্চিত করা হবে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত না হলেও কি জনগণের পাশে থাকবেন? তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ কীভাবে বজায় রাখবেন?
ছাব্বির আহমেদ মিয়া : এই ইউনিয়নেই আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং স্থায়ী বসবাস। নির্বাচিত হই বা না হই, এই ইউনিয়নের মানুষের সাথেই আমাকে থাকতে হবে। এখানকার মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সাথে দূরত্ব তৈরি হলে সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে আমি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। অতীতে যেভাবে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও তার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।
চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় ভোটাররা কেন আপনাকেই ভোট দেবেন? তাদের উদ্দেশ্যে আপনার সংক্ষিপ্ত বার্তা কী?
ছাব্বির আহমেদ মিয়া : বিগত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় আমাকে একাধিক মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, সামাজিকভাবে ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এতো নির্যাতন-জুলুম সহ্য করেও আমি এলাকা ছেড়ে যাইনি, সাধারণ মানুষকে ছেড়ে পালাইনি। সাধ্যমতো মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। আমার বিশ্বাস, এলাকার জনগণ তাদের সন্তান হিসেবে আমাকে সমর্থন করবেন।
আর ফলাফলের বিষয়ে বলবো—যিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন, জনগণের স্বার্থে আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। কারণ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ইউনিয়নের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমারও রয়েছে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা বা অতিরিক্ত কিছু বলার থাকলে তুলে ধরতে পারেন।
ছাব্বির আহমেদ মিয়া : আমার রাজনীতি শুরু হয়েছিল ছাত্রদল থেকে। বর্তমানে ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমার বিরুদ্ধে ১১টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি ৬ মাস জেল খেটেছি, ২১ দিন রিমান্ডে ছিলাম এবং দুই দিন কুমিল্লায় নিয়ে ডিটেনশনে রাখা হয়েছিলো।
২০১৮ সালে চান্দ্রা চৌরাস্তা এলাকায় ট্রাকে আগুন দেওয়ার একটি মিথ্যা ঘটনায় আমাকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। ওই মামলায় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সফল সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাইকেও ১ নম্বর হুকুমের আসামি করা হয়। এতো নিপীড়নের পরও আমি রাজপথ থেকে পিছপা হইনি। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। সেই দুঃসময়ে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাই আমাকে সার্বক্ষণিক সাহস ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জুগিয়েছেন। আমি ও আমার পরিবার তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আমার নেতা শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক দলীয়ভাবে যাকেই সমর্থন দেবেন, দলের একজন বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে তাঁর পক্ষে কাজ করাই হবে আমার প্রধান দায়িত্ব। তবে বিগত দিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও কর্মকাণ্ড বিবেচনায় দল আমাকেই মূল্যায়ন করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








