রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৩:১৫

চাঁদপুরকে যা যা দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

মো. মিজানুর রহমান
চাঁদপুরকে যা যা দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
ক্যাপসন:চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠের মঞ্চে এক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে চাঁদপুরবাসীর জন্যে বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদনের ঘোষণা দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এমনটাই চাচ্ছে বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীসহ এ জেলার সাধারণ জনগণ।

১৬ মে ২০২৬ (শনিবার) সন্ধ্যার প্রাক্কালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলায় ইপিজেড করার জন্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত তা করা যায় কিনা তা বলে দিচ্ছি। একই সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নদী রক্ষা বাঁধ, অর্থনৈতিক জোনের কাজগুলো নিয়েও কাজ করার ঘোষণা দিচ্ছি।

ফ্যামিলি কার্ড অসহায় নারীদের হাতে তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টাকাগুলো আপনাদের পরিবারের অনেক কাজে আসবে। আমরা আগামী বাজেটে এক্ষেত্রে আরও কাজ করবো। এতে করে এখন যারা এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসতে পারেননি, তারাও দ্রুত চলে আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা খালে পানি আনার রাজনীতি করি। আমরা কৃষকদের দুর্দশা লাঘবের রাজনীতি করি। কীভাবে মানুষের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদল করা যায় সেসব কাজ করি। এগুলো আমি ছোট বেলা হতে দেখে এসেছি। আর এগুলো নিয়েই অনেকে অপপ্রচার করে। তাই কোনোভাবে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে খাল কাটা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, কৃষক কার্ড, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্বাচনে এসব কর্মসূচি মানুষের জন্যে উপকারী ছিলো বলেই মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, পরিষ্কারভাবে আমি বলে দিতে চাই, যেই কাজ করার সমর্থন দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছে, আমরা এক এক করে সেই কাজগুলো, সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করবো। এতে কেউ বাধা দিলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের সেই ষড়যন্ত্রকে ভেস্তে দেবে, আমাদের কিছু করা লাগবে না। তাই আসুন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কাজ করি। আমরা জনগণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই। তাই জনগণই সবরকমের বিভ্রান্তির জবাব দেয় এবং দেবে। জনগণ এখন সচেতন। এজন্যেই আমরা বলি, সবার আগে বাংলাদেশ।

এদিন প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে শাহরাস্তি ও চাঁদপুর সদরে মোট ২টি খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন এবং আয়োজিত দুটি বিরাট সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীর সাথে চাঁদপুর ক্লাবে সাংগঠনিক সভায় মিলিক হন। তাঁর এমন সফরের গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দু’ধারে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণ দাঁড়িয়ে স্লোগানসহ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও এ সময় হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আর এতেই মানুষ যথেষ্ট খুশি হয় এবং মানসিকভাবে আত্মতৃপ্তি অনুভব করতে দেখা যায়।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়