বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০১:১১

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৩১

অতীতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৌরসভাকে সাজাতে চাই

কামরুজ্জামান টুটুল
অতীতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৌরসভাকে সাজাতে চাই
ক্যাপশন: সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান খাঁন

হাজীগঞ্জ পৌরসভার একাধিকবারের সফল মেয়র আব্দুল মান্নান খাঁন। আসছে পৌরসভা নির্বাচনে ফের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে ভোটারদের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছেন। সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ভোটারদের ভালোবাসা নিয়ে ফের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে আশা করেন। পূর্বে মেয়র থাকাকালে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সফলতা আসতে পারে এবং কোথায় ব্যর্থতা হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভাকে ঢেলে সাজাতে চান। সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি আয়োজনে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আব্দুল মান্নান খাঁন। তার আগে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক খ্যাতি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

আব্দুল মান্নান খাঁন রাজনৈতিক জীবনে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ছাত্র অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে পড়ালেখা শেষে চাঁদপুরে এসে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ব্যবসার পাশাপাশি হাজীগঞ্জ উপজেলায় ভাসানী ন্যাপের সেক্রেটারি পদে আসীন হন। ১৯৭৮ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলা জাগো দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৭৯ সালে জাগো দল ভেঙ্গে বিএনপি প্রতিষ্ঠা হলে তাতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন। এরপর বিএনপির মূল কমিটি গঠন হলে ১৯৮০ সালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির টানা ৩০ বছর সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পদে রয়েছেন।

সামাজিকভাবে বহু কাজ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ২৫ বছর দায়িত্ব পালন, রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এবং একই প্রতিষ্ঠানের ২০ বছরের সভাপতি থাকা। নদীর দক্ষিণ পাড়ের রান্ধুনীমুড়া মনিনাগ গ্রামকে পৌরসভার সাথে অন্তর্ভুক্ত করার অন্যতম কারিগর তিনি।

ব্যবসায়িক জীবনে সফলতা পেয়েছেন। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৮-৬৯ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে হাজীগঞ্জে এসে লবণের ব্যবসা দিয়ে। এরপর ১৯৭১ সালে সানলাইট সল্ট ফ্যাক্টরি দিয়ে হাজীগঞ্জে ব্যবসার গোড়াপত্তন করেন। তৎকালীন সময়ে সানলাইট সল্ট মিলে ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। ১৯৭৫ সালে সুরমা অয়েল মিল নামে ভোজ্য তেল, ধান ও আটার মিল প্রতিষ্ঠা করেন। এসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর ১৯৮৭ সালে হাজীগঞ্জ বাজারের হলুদ পট্টিতে ছেলের নামে রনি সিনেমা হল তৈরি করেন। ১৯৯২ সালে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সড়কে সান্ত্বনা সিনেমা হল, ১৯৯৮ সালে রনি ফ্লাওয়ার মিল, ১৯৮৫ সালে রনি ব্রিকস, ২০০২ সালে চাঁদপুর কোহিনূর সিনেমা হল ক্রয় করেন এবং ২০০৪ সালে গোয়ালন্দ ঘাটে গৌধূলী সিনেমা হল ক্রয় করেন। এর কিছু পরে সান্তনা মার্কেট, সান্তনা পার্টি সেন্টার, সান্তনা সুইটমিট নামে আধুনিক মানের ব্যবসা শুরু করেন, যার প্রতিটিতেই সফলতা পান।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা হাজীগঞ্জ পৌরসভায় কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান? প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?

আব্দুল মান্নান খাঁন : অবশ্যই আমি হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করবো। ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো হাজীগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচন করি। এর মধ্যে ৫টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ২টিতে বিজয়ী হই। পরবর্তী ২ বার আমি পাস করার পরও ফ্যাসিস্ট সরকার আমাকে সুযোগ দেয়নি। ধারাবাহিকভাবে এতোবার নির্বাচন করার পর আবারও নির্বাচন করবো—এটাই স্বাভাবিক।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন, না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

আব্দুল মান্নান খাঁন : ইতোমধ্যে সংসদে বিল আকারে আইন পাস হয়েছে—স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে বা দলীয়ভাবে হবে না। তাই এবারে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে। দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান, না বিজয়ী হওয়ার মানসে প্রস্তুতি নিয়েছেন?

আব্দুল মান্নান খাঁন : আল্লাহ আমাকে যে পরিচিতি দিয়েছেন, তার পরে নতুন করে পরিচিতি পাওয়ার মতো কিছু নেই। আমার পরিচিতি রয়েছে। অবশ্যই আমি বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?

আব্দুল মান্নান খাঁন : নির্বাচনকেন্দ্রিক আমার পরিকল্পনা গরিবের কল্যাণে কাজ করা এবং গরিবের ঘরে ঘরে পৌরসেবা পৌঁছে দেওয়া। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিতান্ত হতদরিদ্রদের মধ্যে যাদের ঘর নেই, তাদের জন্যে ৫০টি ঘর দেওয়া হবে। প্রতিটি ঘর টিনশেড হবে, যেখানে থাকবে দুটি বেড, বাথরুম, কিচেন ও বারান্দা। হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের সমস্ত ব্যয় পৌরসভা বহন করবে। যারা চিকিৎসা করাতে অক্ষম, তাদের চিকিৎসার ব্যয় পৌরসভা বহন করবে। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচও পৌরসভা বহন করবে।

পৌরবাসীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সবসময় দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এর মাধ্যমে অসুস্থ পৌর নাগরিকদের চাঁদপুর, ঢাকা বা কুমিল্লায় আনা-নেওয়া করা হবে। হতদরিদ্রদের জন্যে এ সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

হাজীগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেট বর্তমানে ৪ তলা ভবন। এর পেছনে প্রায় ৪০ শতক জমি রয়েছে। এ জমির ওপর ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে মার্কেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লির ৪ শতক জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় কাজটি জটিল। মামলা নিষ্পত্তি হলে কাজ শুরু করা হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্যে পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হবে। ডাকাতিয়া ও বোয়ালজুরি ব্রিজে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আধুনিক লাইটিং স্থাপন করা হবে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও ৫, ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যালয় নেই। সেখানে নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে।

মিঠানিয়া ব্রিজের পাশে পৌরসভার জন্যে দু একর জমি ক্রয় করা হয়েছিল। সেখানে একটি আধুনিক পার্ক নির্মাণ করা হবে। পৌরসভার বড়ো সমস্যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এজন্যে নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হবে এবং সেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে সার ও গ্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে।

পৌর এলাকাতে পৌর নাগরিকদের ঘরে ঘরে সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণ জরুরি। প্রস্তাবিত বাইপাসটি রেলপথের দক্ষিণ পাশ ধরে ওয়ারুক রেলক্রসিং থেকে কৈয়ারপুল রেলক্রসিং পর্যন্ত হতে পারে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য আরেকটি সমস্যা হলো পণ্য লোড-আনলোড। বর্তমানে মহাসড়কে এ কাজ করতে গিয়ে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এজন্যে একটি স্থায়ী ট্রাকঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী?

আব্দুল মান্নান খাঁন : জুলাই আন্দোলন হয়েছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্যে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। কোথাও অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে দায়ভার নিতে হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান?

আব্দুল মান্নান খাঁন : উন্নয়নের বিষয়গুলো আগেই তুলে ধরেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নের বাইরে কিছু বলতে চান?

আব্দুল মান্নান খাঁন : হাজীগঞ্জ পৌরসভা জেলার একটি বাণিজ্যিক উপজেলা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে, যা একদিনে হয়নি। আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পৌরসভাকে সঠিকভাবে সাজাতে চাই। আমাকে বারবার নির্বাচিত করার জন্যে আমি পৌরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরুন।

আব্দুল মান্নান খাঁন : আমি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী রান্ধুনীমুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করি। হাজী ফজর আলী বেপারীর বাড়িতে আমার জন্ম। আমার বাবা ও দাদা তৎকালীন সময়ে সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। আমি নিজেও হাজীগঞ্জের একজন ব্যবসায়ী।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়