শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০০:০০

ছোট প্রতিবাদ থেকে বড়ো প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
ছোট প্রতিবাদ থেকে বড়ো প্রতিবাদ

চাঁদপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলায় অবস্থিত চাঁদপুর সেতুর টোল আদায়ের জন্যে গত ১ জুলাই থেকে তিন বছরের জন্যে নূতনভাবে ইজারা দেয়া হয়েছে। এটা শুনে যানবাহনের চালক-মালিক-শ্রমিক খুব বেশি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বলে মনে হয়নি। কিন্তু ইজারাদার এতোদিন টোল-ফ্রি থাকা মোটরসাইকেলের ওপর পাঁচ টাকা টোল আদায় করতে গেলেই ঘটে বিপত্তি। মোটরসাইকেল চালকরা স্বল্প সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোর প্রতিবাদ করলেই ইজারাদার সেই টোল আদায় বন্ধ করে দেন। সেটা ছিলো ছোট প্রতিবাদ। কিন্তু এই প্রতিবাদের সফলতায় উজ্জীবিত হয় অন্যান্য যানবাহন চালকরা, এমনকি যাত্রীরাও। তারা মোটরসাইকেল কেনো, সকল যানবাহন থেকে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান। এটা নিয়ে আমরা এই সম্পাদকীয় নিবন্ধে ‘এমন প্রতিবাদ কিসের ইঙ্গিত’ শিরোনামে লিখেছিলাম বড়ো প্রতিবাদ সংঘটিত হবার আশঙ্কার কথা। অবশেষে আমাদের আশঙ্কাই সঠিক বলে প্রমাণিত হলো। গত শনিবার শ্রমিক জনতা ঐক্য পরিষদ ও শ্রমিক লীগ বাগাদীর ব্যানারে ইচলী, ঢালীরঘাট, ফরিদগঞ্জ ও রায়পুরের সর্বস্তরের জনতাসহ প্রায় দুহাজার লোকের অংশগ্রহণে চাঁদপুর সেতুতে টোল আদায় বন্ধে অনুষ্ঠিত হলো বিরাট মানববন্ধন ও হট্টগোল। এতে ইজারাদার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা ধরে টোল আদায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। পরে পুলিশের পরামর্শে মানববন্ধনকারীরা মানববন্ধন তুলে নেন এবং তাদের দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

আমরা জানি না, এই কঠোর কর্মসূচি আদৌ পালন করা হবে কিনা। তবে ২০০৫ সাল থেকে ১৯ বছর ধরে চাঁদপুর সেতুতে যে টোল আদায় কার্যক্রম চলছে, যেটা আইন-আদালত, নিয়মণ্ডকানুন সহ যতো কিছুর দোহাই দিয়েই হোক না কেন, সেটা কমনসেন্স বহির্ভূত কাজ--এমনটি বলতে অনেকে এখন আর দ্বিধা করছে না। এই যে দ্বিধাহীনতা, সেটাও অশনি সঙ্কেত। এটা যারা বোঝার দরকার, তারা বোঝার চেষ্টা করুক। অন্যথায় কোনো না কোনো পরিণতি কাউকে না কাউকে যে বরণ করতে হবে, সেটা বলা যায় নিশ্চিত। এজন্যে কম-বেশি সময়ের অপেক্ষা তো করতেই হবে।

আমরা চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ আসনের এমপি, সড়ক ও জনপথের চাঁদপুর সড়ক বিভাগ, সর্বোপরি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে চাঁদপুর সেতুতে প্রায় দুদশক ধরে টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্রিয় হবার অনুরোধ জানাচ্ছি। জনরোষকে অবহেলা করলে কিংবা সেটাকে যে কোনো উপায়ে প্রশমিত করার উদ্যোগ না নিলে পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটা আন্দাজ করা যায়, আবার আন্দাজ করাও যায় না। অতএব, সাবধান হওয়া দরকার সকল মহলকে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়