শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪, ০০:০০

এই শুরুটা যেন শেষে গড়ায়

অনলাইন ডেস্ক
এই শুরুটা যেন শেষে গড়ায়

কচুরিপানা জটে দুর্দশায় পতিত এককালের প্রমত্তা ডাকাতিয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জানা গেছে, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকাভুক্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের প্রমত্তা ডাকাতিয়া নদী ও শাখা নদীগুলোতে দখল-দূষণের পাশাপাশি কচুরিপানা জটে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় মালবাহী নৌকার চলাচল। কচুরিপানা পচে নষ্ট হচ্ছে নদীর পানি। মরে যাচ্ছে নদীর মাছ। চাঁদপুর কণ্ঠ ও যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। চলতি সপ্তাহ থেকে প্রাথমিকভাবে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার এক কিলোমিটার নদীর কেরোয়া এলাকা থেকে কচুরিপানা অপসারণ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকালে দেখা গেছে, উপজেলা সদরস্থ আবিদুর রেজা পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের অংশের ডাকাতিয়া নদী থেকে এস্কেলেটর তথা ভেকু মেশিন দিয়ে কচুরিপানা পরিষ্কার করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন এই উদ্যোগকে ভাল অভিহিত করে বলেন, নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে হলে নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ করতে হবে। নদীতে একশ্রেণির লোক বাঁধ দিয়ে অবৈধ মাছ চাষ করছে। এতে কচুরিপানা জটের সৃষ্টি করছে। এতে তারা সুবিধা পেলেও নষ্ট হচ্ছে নদীর মাছ ও পানি। চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, আপাতত ডাকাতিয়া নদীর ফরিদগঞ্জ শহরের এক কিলোমিটার অংশের কচুরিপানা অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ডাকাতিয়া নদীকে কচুরিপানামুক্ত করার যে সামগ্রিক উদ্যোগ নিয়েছে, ফরিদগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর উপরোল্লিখিত উদ্যোগ তার অংশ নয় বলে মনে হচ্ছে। কোনো একটি প্রকল্পের আওতায় এটি খণ্ডিত উদ্যোগ বলে আমাদের ধারণা। অতীতে পাউবো সহ অন্য কাউকে এমন খণ্ডিত উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। যেটির ফলাফল টেকসই হয়নি, বরং কচুরিপানা পরিষ্কারের নামে মিডিয়া কাভারেজ, বলা যায় এক প্রকার প্রদর্শনেচ্ছা হয়েছে। এমনটি করলে ফরিদগঞ্জের ডাকাতিয়া নদী কোনোদিনও কচুরিপানামুক্ত হবে না। আমরা প্রত্যাশা করি, বিডি ক্লিনের সহযোগিতা নিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও পাউবো ফরিদগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীর পুরো অংশকে সত্যিকার অর্থে কচুরিপানামুক্ত করবে। আমরা মনে করি, কেবল ভেকু দিয়ে ডাকাতিয়া নদীকে কচুরিপানামুক্ত করা যাবে না। ভেকু, নৌকাসহ অন্যান্য উপকরণের সহযোগিতা নিয়ে, বিশেষ করে বিডি ক্লিনের শত শত সদস্য কিংবা অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণে ডাকাতিয়া নদীকে করতে হবে কচুরিপানামুক্ত। এজন্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার স্বতঃস্ফূর্ত হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা ফরিদগঞ্জ সদরে ডাকাতিয়া নদীকে পাউবোর কচুরিপানামুক্ত করার কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কেননা এই উদ্যোগটি জেলা প্রশাসনের বৃহত্তর উদ্যোগের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি, এই শুরুর উদ্যোগটি জেলা প্রশাসনের সমর্থন ও সহযোগিতায় শেষের দিকে গড়াক। সেজন্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়