প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪, ০০:০০
এমন প্রতিবাদ কিসের ইঙ্গিত?

‘প্রতিবাদ আর তোপের মুখে ব্রিজে মোটরসাইকেলে টোল আদায় বন্ধ করলো ইজারাদার’-এটি গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত একটি শীর্ষ সংবাদের শিরোনাম। সংবাদটিতে মিজানুর রহমান লিখেছেন, চাঁদপুর শহরতলীর ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত ইসলামপুর গাছতলাস্থ চাঁদপুর সেতুতে চাঁদাবাজি বন্ধ ও টোল প্রত্যাহারের দাবি দীর্ঘদিনের। সেতুর টোল প্রত্যাহার ও ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবি সর্বমহলের থাকলেও সরকারের রাজস্ব ভাবনায় এই সেতুর টোল আদায় বন্ধ হচ্ছে না। নতুন করে ইজারা সিন্ডিকেট ব্রিজের টোল আদায়ের কাজটি বাগিয়ে নিয়েছে। এখন অন্যান্য যানবাহনের সাথে মোটরসাইকেলের ওপর টোল আদায় শুরু করেছে ইজারাদার। এতে ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বাইকাররা। গত সোমবার ইসলামপুর গাছতলা ব্রিজ টোলঘরের সামনে মোটরসাইকেল থেকে টোল আদায় বন্ধে বিক্ষোভ করেন বাইকাররা। মুহূর্তের মধ্যে হয় সিদ্ধান্ত বদল। বাইকারদের প্রতিবাদ আর তোপের মুখে মোটরসাইকেল থেকে টোল আদায় বন্ধ করেন ইজারাদার কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। অনেকে মন্তব্য করে লেখেন, ব্রিজ নির্মাণে সরকারের যে টাকা খরচ হয়েছে তার বহু গুণ অর্থ আদায় হয়ে গেছে। আর কত বছর টোল নিবে তার একটা সময়সীমা থাকে। এই ব্রিজের টোল উঠানোর সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। শুধু মোটরসাইকেল নয়, সব ধরনের যানবাহন থেকে টোল আদায় বন্ধ করে ব্রিজটি উন্মুক্ত করার দাবি সাধারণ জনগণের।
সাধারণ জনগণের এ দাবি বাইকারদের মতো সম্মিলিত প্রতিবাদ ও তোপের রূপ ধারণ না করলে সেটি আদায় হবার সম্ভাবনা নেই। সেজন্যে মোটরসাইকেলে টোল আরোপ ও আদায় বন্ধে প্রতিবাদকারীদের সফলতা ইসলামপুর গাছতলাস্থ ‘চাঁদপুর সেতু’তে সকল ধরনের যানবাহনের ওপর টোল আদায় বন্ধে বড়ো ধরনের আন্দোলন গড়ে ওঠবার ইঙ্গিত বহন করছে কিনা সেটা ভাববার বিষয়। কথা হলো, যারা ভাববার কথা, তারা কি সেজন্যে কোনো ফুরসত খুঁজছে?
সমসাময়িক সময়ে নির্মিত ‘হাজীগঞ্জ সেতু’ ও নতুনবাজার-পুরাণবাজার সেতুতে টোল আদায় বহু পূর্বে বন্ধ হয়ে গেলেও ‘চাঁদপুর সেতু’তে টোল আদায় বন্ধ না হওয়াটা প্রশ্নবোধক। এই টোল নিয়ে ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সদ্য প্রয়াত ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া জাতীয় সংসদে পর্যন্ত কথা বলেছিলেন। সাবেক এক জেলা প্রশাসকও লেখালেখি করেছিলেন। ঢাকায় কর্মরত চাঁদপুরের সাংবাদিকরাও সোচ্চার হয়েছিলেন। তবু কিছু হয়নি। কথা হলো, এই ব্রিজে টোল আদায় বন্ধের বিষয়টি কি এতোই জটিল?