শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪, ০০:০০

যাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়

অনলাইন ডেস্ক
যাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়

বাংলাদেশের শীর্ষ করদাতা, প্রবীণ ব্যবসায়ী ও দানশীল ব্যক্তি, হাকিমপুরী জর্দার মালিক, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান হাজী মোঃ কাউছ মিয়া গত ২৪ জুন সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯৪ বছর। তিনি স্ত্রী, ৮ ছেলে ও ৮ মেয়ে রেখে গেছেন। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ২৫ জুন মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজধানীর আরমানিটোলা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে ও দাফনে নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান, লালবাগের সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম, তাঁর ছেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিম, মৌলভীবাজারসহ পুরাণ ঢাকার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী, ব্যাংক কর্মকর্তাগণসহ চাঁদপুর- শরিয়তপুরের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। কাউছ মিয়ার সন্তানরা জানান, তাদের বাবা বার্ধক্যের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসার পর দেশে আনা হয়। তারপর পুরাণ ঢাকার বাসভবনে শয্যাশায়ী ছিলেন। ২২ জুন শনিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে নেয়া হয়। দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানরা তাদের বাবা কাউছ মিয়ার জন্যে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। হাজী মোঃ কাউছ মিয়া চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন। তিনি দীর্ঘদিন চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজারে ব্যবসা করেন। পরে হাজীগঞ্জ, সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ এবং পুরাণ ঢাকার আরমানিটোলায় ব্যবসা করেন। হাকিমপুরী জর্দার ব্যবসার পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা ছিলো। ২২ বছর বয়স থেকে ব্যবসা শুরু করেন এবং টানা ৭১ বছর এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার পর ২০২৪ সালের ২৪ জুন রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সুনাম ছিলো দেশজুড়ে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের মানুষ একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবককে হারালো। উল্লেখ্য, কাউছ মিয়া স্বাধীনতার পূর্বে একবার এবং পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর যতবার সেরা করদাতার সম্মাননা দিয়েছে ততবারই অর্থাৎ টানা ২০বার তিনি শীর্ষ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন। মুজিববর্ষেও কাউছ মিয়া সেরা করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন। হাজী মোঃ কাউছ মিয়া দীর্ঘজীবী হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের সেবা ও সান্নিধ্য পেয়ে দুনিয়া ছেড়েছেন। এভাবে মৃত্যুবরণের ঘটনা তাঁর মতো ধনাঢ্য অনেক ব্যক্তির কপালে জোটে না। এজন্যে তাঁর পরিবার অবশ্যই সৌভাগ্যবান। তারা কাউছ মিয়ার বিয়োগ বেদনায় কম-বেশি কষ্ট করতে পারেন, তবে আহাজারি করা মোটেও ঠিক হবে না। ঈর্ষণীয় ব্যবসায়িক সফলতা, মানবিক সহযোগিতা প্রদানে তাঁর সুনাম এবং সরকারকে কর প্রদানে তাঁর নিষ্ঠা-আন্তরিকতা অনাগত দিনে শুধু ইতিহাস হয়ে নয়, মানুষের মুখে মুখে ফিরবে অর্থাৎ তিনি কিংবদন্তী হয়ে অমরত্ব লাভ করবেন। তাঁর অভাব সহজে পূরণ হবার নয়। বাংলাদেশ আরেকজন কাউছ মিয়াকে অনাগত দীর্ঘ দিনেও পূর্বে খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে এমনটি কেউ বললে অত্যুক্তি হবে না বলে আমাদের সরল অভিমত। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়