বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৪

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা

অনলাইন ডেস্ক
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা

“ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন”, “লাকাদ জা-আকুম রাসুলুম মিন আনফুসিকুম...”, “কাদ জা-আকুম মিনাল্লাহি নূর”-“আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্যে রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি”, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই একজন সম্মানিত রাসুল এসেছেন”, “নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নূর।” এভাবেই আল্লাহ তাআলা তঁার প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই পৃথিবীতে শুভাগমনের বার্তা দিয়েছেন। তিনি সুসংবাদদাতা, তিনি সাক্ষীদাতা তথা হাজির ও নাজির, তিনি অদৃশ্যের সংবাদের বাহক, তিনি সিরাজুম মুনিরা তথা প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ; তিনি ইয়াসিন, তিনি ত্বাহা, তিনি মুজ্জাম্মিল, তিনি মুদ্দাসসির এবং তিনি খাতামুন্নাবিয়্যীন তথা সর্বশেষ নবী ও রাসুল। এমন নানা গুণবাচক পরিচয়ে আল্লাহ তাআলা তঁার প্রিয় হাবীবকে সম্বোধন করেছেন।

আজ সেই মহান পবিত্রতম সত্তার শুভাগমনের দিন-পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; অর্থাৎ আমাদের প্রাণের নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা আহমাদে মুজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ধরায় আগমনের দিন। এই জগতে যঁার নাম ‘মুহাম্মদ’ (প্রশংসিত), আর ঊর্ধ্বজগতে যঁার নাম ‘আহমাদ’ (প্রশংসাকারী)।

বছরটি ছিলো ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ, রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ, সোমবারের এক বরকতময় সুবহি সাদেকের ক্ষণ। অর্থাৎ, পুরোপুরি দিনও নয়, পুরোপুরি রাতও নয়। দিন চেয়েছিল তার ভাগে রহমতের নবীকে পেতে, আবার রাতও চেয়েছিল তার ভাগে তঁাকে পেতে। আল্লাহ তাআলা সুবহি সাদেকের সময় প্রিয় হাবীবকে পাঠিয়ে উভয়কেই ধন্য করেছেন। মা আমেনা রদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহার কোল আলোকিত করে নূরের নবী, রহমতের নবী এলেন দুনিয়ায়। প্রিয় নবীর মিলাদ তথা ধরায় আগমন হলো মক্কায়, অথচ হাজার মাইল দূরের কিসরার রাজপ্রাসাদ কেঁপে উঠলো! এ ঘটনা বার্তা দিলো-জালিম ও অত্যাচারীর দিন শেষ; মাজলুম ও অসহায়ের আশ্রয়দাতা দুনিয়ায় পদার্পণ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এমন এক নবী দান করেছেন, যঁার উম্মত হওয়ার জন্যে পূর্ববর্তী সকল নবী আকুল আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন। আজ সেই মহান নবীর পবিত্র মিলাদ বা শুভাগমনের দিন। এই দিনটি সৃষ্টিজগতের জন্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দের দিন, ঈদের দিন। এটি যে আনন্দের ও ঈদের দিন, তা আল্লাহ তাআলা নিজেই পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন : “কুল বিফাদলিল্লাহি ওয়া বিরাহমাতিহি ফাবিজালিকা ফালইয়াফরাহু, হুয়া খাইরুম মিম্মা ইয়াজমাউন” (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৫৮)। অর্থাৎ, “(হে রাসুল!) আপনি বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন খুশি উদযাপন করে; এটি তাদের যাবতীয় সঞ্চয় অপেক্ষা উত্তম।” এই আয়াতে যে অনুগ্রহ ও রহমতের কথা বলা হয়েছে, তা দ্বারা যে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই বোঝানো হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতেও তা স্পষ্ট করেছেন-“ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন” এবং “লাকাদ মান্নাল্লাহু আলাল মুমিনিনা...”-অর্থাৎ, “সৃষ্টিজগতের জন্যে আমার সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত ও অনুগ্রহ হলেন আমার প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।”

সুতরাং এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। ১২ই রবিউল আউয়াল প্রিয়নবীর শুভাগমনের দিনটিই শ্রেষ্ঠ ঈদের দিন-ঈদে মিলাদুন্নবী। মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়্যাহসহ বহু প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদে উল্লেখ রয়েছে যে, এই দিবসটি অতীব মর্যাদাপূর্ণ। তাই আসুন, আমরা গভীর ঈমানী আবেগ, প্রেম ও ভালোবাসার সাথে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করি। সবাইকে ঈদে মিলাদুন্নবীর আন্তরিক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক!

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়