শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৫৭

স্বল্প খরচে হাজীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অনেক বড় কাজ

অনলাইন ডেস্ক
স্বল্প খরচে হাজীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অনেক বড় কাজ

শিক্ষা শুধু একটি রাষ্ট্রের সরকারি ব্যবস্থার ওপর দঁাড়িয়ে থাকতে পারে না; এর সঙ্গে সমাজ ও ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। চঁাদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন মঙ্গলবার সেই চিরায়ত সত্যটিকেই নতুন করে স্মরণে এনে দিলো। বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ও সমাজসেবক হোসেন মোল্লা লিটনকে পুরস্কৃত করে শিক্ষা অফিস যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা ছোট একটি ঘটনা মনে হলেও এর সামাজিক বার্তা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব অত্যন্ত গভীর।

বর্তমানে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি উদ্যোগে নানাবিধ উপবৃত্তি ও সুযোগ-সুবিধা থাকলেও অনেক সময় পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের মেধাবী ও এতিম শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। ঠিক এই জায়গাটিতেই নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের একটি বড় অংশ উৎসর্গ করে আশার আলো জ্বালিয়েছেন হোসেন মোল্লা লিটন। খাতা-কলম, বই ও গাইড কিনে দেওয়া, ফরম পূরণের ফি মওকুফ করা থেকে শুরু করে অসচ্ছলদের প্রাইভেট পড়ার খরচ ও শিক্ষা সফরের আয়োজন-তঁার প্রতিটি পদক্ষেপই শিক্ষা প্রসারে অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হিসেবে অর্জিত শৃঙ্খলাপরায়ণতা ও দেশপ্রেমকে তিনি যেভাবে সমাজসেবায় রূপান্তর করেছেন, তা অনুকরণীয়।

সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয় হলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ। অনেক সময় দেখা যায়, সমাজে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া মানুষেরা আড়ালেই থেকে যান। হাজীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন একজন ব্যক্তিমানুষের এই নিরবচ্ছিন্ন দক্ষতাকে সম্মান জানিয়ে যে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে এক পরম মানবিক দায়িত্ব পালন। এই সম্মাননা প্রদানে শিক্ষা অফিসের বড় কোনো বাজেট বা বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়নি, কিন্তু এই একটি ছোট স্বীকৃতি পুরো উপজেলার সচেতন মহলকে এক বিশাল ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

একটি ক্রেস্ট কিংবা সম্মাননা কেবল কোনো ব্যক্তির অর্জনের স্বীকৃতি নয়, বরং তা সমাজের অপরাপর সামথর্যবানদের জন্যে একটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের এই স্বল্প খরচের কিন্তু বিপুল অর্থবহ উদ্যোগটি অন্যান্য উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্যেও একটি আদর্শ মডেল হতে পারে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যখন হোসেন মোল্লাদের মতো সামাজিক প্রাণপুরুষদের কাজের মেলবন্ধন ঘটে, তখন শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। হাজীগঞ্জের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক এবং সমাজের অন্যান্য বিত্তবানরা শিক্ষার আলোর প্রসারে এভাবে এগিয়ে আসুক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়