প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০
সভা-সেমিনার-টুর্নামেন্ট হোক, আরো কার্যকর কিছু দরকার

মাদকবিরোধী ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, সভা, সেমিনার, লিফলেট বিতরণ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি প্রায়শই বিভিন্ন উদ্যোক্তাকে করতে দেখা যায়। চাঁদপুরের প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পুরো জেলাব্যাপী মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট করেছিলেন। কথা হলো, প্রচার ও সচেতনতামূলক এসব কাজ করে মাদক বিক্রি ও সেবন কতোটুকু কমেছে, তার কি কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছে আছে? আপাতত নেই সেটা বলা যায়। তবে মাদক বিক্রি ও সেবন যে পূর্বের চেয়ে বহুগুণে বেড়েছে, সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স--এটা এমপিগণ যেমন বলছেন, পুলিশ সুপারসহ আরো অনেক পদস্থ কর্মকর্তা বলছেন। এ বলাতেই তাঁদের অনেক কঠোরতা ও সতর্কতার দৃঢ় উচ্চারণ। দৃশ্যমান তৎপরতা হিসেবে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে ধরে আদালতে সোপর্দ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে মাদককে সর্বাত্মকভাবে প্রতিহত করার সমন্বিত, সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী কোনো পদক্ষেপ কি ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে?
মাদক সংশ্লিষ্টদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু আইনের ফাঁক গলে তো তারা ছাড়া পাচ্ছে এবং আবার মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকবিরোধী আইন সংশোধনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না কেন? জাতীয় সংসদে এ আইন সংশোধনের কথা বারবার উত্থাপিত হচ্ছে, কিন্তু আইন পরিবর্তনের তোড়জোড় সম্পর্কে তো কিছুই জানা যাচ্ছে না।
মাদকবিরোধী প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কাজগুলোর আবশ্যকতাকে আমরা অস্বীকার করছি না। এগুলো কম কষ্টের ও প্রদর্শনেচ্ছার কাজ। কষ্টকর কাজ হলো : মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাড়া-মহল্লায় সকল শ্রেণী-পেশার সচেতন মানুষকে, দলীয়-নির্দলীয় লোকজনকে সম্পৃক্ত করে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ। একই সাথে বিদ্যমান মাদকবিরোধী আইনকে সংশোধন করে কঠোর করার ব্যাপারে ত্বরিত ব্যবস্থাগ্রহণ। আর সকল বাহিনীর মাদকবিরোধী তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধিসহ মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচারের ব্যাপারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন। এর বাইরে আর কী কী করা যায়, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ-অবিশেষজ্ঞ নির্বিশেষে মতামত আহ্বানও করতে হবে। মোদ্দা কথা, মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টিকে মুখের বুলিতে নয়, কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দেখাতে হবে। অন্যথায় মাদকের সর্বগ্রাসী প্রভাবের জন্যে অসহায়ভাবে অপেক্ষাই করতে হবে। আর অনিবার্য পরিণামকে ভোগ করার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে, যেটা হবে চরম দুর্ভাগ্যজনক।






