রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৮

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদগঞ্জে কবিতা পাঠ অনুষ্ঠান

একটি অঞ্চলের রুচিশীলতা বিনির্মাণে একাডেমির এই সুদীর্ঘ পথচলা এক অনন্য নজির

.....ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া

​ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি।।
একটি অঞ্চলের রুচিশীলতা বিনির্মাণে একাডেমির এই সুদীর্ঘ পথচলা এক অনন্য নজির

​শব্দের জাদুতে, ছন্দের মূর্ছনায় আর সৃজনশীলতার আলোয় চার দশকে পা রাখলো 'সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর'। শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ফরিদগঞ্জের আম্বিয়া ইউনুছ ফাউন্ডেশন পাঠাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা। কবিতা পাঠ আর মননশীল আলোচনার মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিলো সাহিত্যের এক মহোৎসব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি গত ৪০ বছর ধরে কেবল বইয়ের পাতায় নয়, মানুষের হৃদয়ে সংস্কৃতির বীজ বপন করেছে। একটি অঞ্চলের রুচিশীলতা বিনির্মাণে একাডেমির এই সুদীর্ঘ পথচলা এক অনন্য নজির।

প্রধান আলোচক চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক বলেন, প্রতিকূলতাকে জয় করে আমরা আজও শিল্পের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছি। আমরা চাই আমাদের এই সাহিত্যচর্চা অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক। এ সময় তিনি শিশুদের হাতে ডিভাইসের পরিবর্তে বই তুলে দেয়ার জন্যে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। ​বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহমুদুল হাসান সাহিত্যকে সমাজ পরিবর্তনের বড়ো হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন।

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল সাহিত্য একাডেমিকে চাঁদপুরের গর্ব উল্লেখ করে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল মুকুল, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এবং সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া সাহিত্যের বিকাশে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আয়োজিত কবিতা পাঠের আসর ছিলো মন্ত্রমুগ্ধকর। সাদিয়া ইসলাম সিনহা, মেঘলা সাহা, তাসনিয়া আবেদীন, রুহানি ইসলাম, জান্নাতুন নাঈম আয়রা, প্রিয়াংকা, আনিসা আক্তার সামিরা, মারজিয়া রহমান, শিশির চন্দ্র বাড়ৈ, ইন্দ্রানী দাস মম, আরিফা আক্তার অনন্যা, আফিয়া আক্তার অরপা, আব্দুল বাতেন, মাহদিয়া মেহতায নামিরাহ ও হুজাইফা তাদের আবৃত্তিতে আসর মাতান।

পরবর্তীতে স্বরচিত কবিতায় নিজেদের আবেগ ও অনুভূতির রঙ ছড়িয়েছেন রাজিয়া সুলতানা চৌধুরী, রাবেয়া আক্তার, বাঁধন কুমার শীল, মফিজুল ইসলাম সাগর, আ. বাতেন, ইলিয়াছ বকুল, পাভেল, ইমরান, তারেক রহমান তারু, তাসনিফ ইমন, মো. নাছির উদ্দিন খান, বোরহান উদ্দিন, এসএম তাইয়েব, জান্নাতুল ফেরদৌস তানজু, রাসেল ইব্রাহিম, ক্বারী ইয়াছিন, আব্দুস সালাম ও পিকলু সরকার। তাদের কবিতায় উঠে আসে সময়ের দলিল, দ্রোহ আর প্রেমের আখ্যান।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্যে রুহানি ইসলাম, মেঘলা সাহা, আফিয়া আক্তার অরপা, ইন্দ্রানী মম, রাজিয়া সুলতানা চৌধুরী ও আব্দুল বাতেনকে পুরস্কৃত করা হয়।

সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুরের নির্বাহী সদস্য ও অনুষ্ঠানের সভাপতি নুরুল ইসলাম ফরহাদ সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুস্থ ধারার সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন দন্ত্যন ইসলাম।

​এই আয়োজন চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করলো, যা আগামী দিনের সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়